ঢাকা, বৃহস্পতিবার 24 August 2017, ০৯ ভাদ্র ১৪২8, ০১ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনা জেনারেল হাসপাতালের গা ঘেঁষে কেসিসি’র ডাস্টবিন

খুলনা অফিস : খুলনা জেনারেল হাসপাতালে গা ঘেঁষে রয়েছে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ডাস্টবিন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অনেকে ময়লা-আবর্জনার উৎকট গন্ধে বমিও করছেন। কেউ রোগী দেখতে এসে নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সামনে ময়লার ডাম্পিং থাকার কতটুকু যৌক্তিকতা রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এমন প্রশ্ন তোলেন ভুক্তভোগীরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আবেদনে দিচ্ছেন না কোন গুরুত্ব। এই অভিযোগটি দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে। 

হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কেসিসি’র পরিচ্ছন্ন কর্মীরা অন্য জায়গা থেকে ভ্যানে ময়লা এনে ময়লা জমা করছে। ডাম্পিং ময়লা ভরে উপচে পরে রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ছোট পদে চাকরি করি। এখনো ময়লা না নেয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ বলতে পারবেন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত ওই স্থানে অবস্থান করলেও নেই ময়লা সরানোর কোন উদ্যোগ। ময়লা-আবর্জনার উৎকট গন্ধে আশেপাশের বাসিন্দাসহ পথচারিদের ও হাসপাতালে আগত রোগীরা যেন আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। দেখা গেছে, ময়লা রাস্তার আশপাশসহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সেখানে কুকুর ময়লার মধ্যে পা দিয়ে আচড়ানোর ফলে উৎকট গন্ধ যেন মুহূর্তের মধ্যে বাতাসে ছড়িয়ে পড়লো। ওই পাশ দিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা গর্ভবতী গৃহবধূ তানজিলা খাতুন বমি করতে করতে হাসপাতালে ঢোকেন। এক পর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি রূপসা উপজেলা আইচগাতী থেকে এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন।

হাসপাতালের ভর্তিকৃত রোগী ও স্বজনরা জানান, রাতের বেলায় বাতাসে ওই ময়লা-আবর্জনার উৎকট গন্ধে রোগীরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। সরকারি হাসপাতাল হওয়ায় প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে বিভিন্ন উপজেলা থেকে রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন। অনেক শিশু ও বৃদ্ধ বয়সী রোগীরা প্রায়ই সময় উৎকট গন্ধ পেটে গিয়ে বমি করতে করতে হাসপাতালে ঢোকেন।

এর আগে কেসিসি’র মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান হাসপাতালের সামনে ময়লা ডাম্পিং রাখাটি কতটুকু যৌক্তিকতা রয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমাদের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ওখান থেকে ময়লা নিয়ে আসেন। দুপুরের পর ট্রাক যেয়ে ওখান থেকে ময়লা নিয়ে আসে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোর থেকে দুপুর নাগাদ এ সব বর্জ্য ফেলার সময় দুর্গন্ধে বাতাস দূষিত হয়। এতে রাস্তার ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি পথচারির জামা-কাপড় নষ্ট হয়। দুর্গন্ধে এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। দুর্গন্ধ সইতে না পেরে অনেকেই বমি করেন। 

চলতি বছরে জানুয়ারি মাসে এ বিষয়টি নিয়ে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও তাতে কোন লাভ হয়নি। ভুক্তভোগীরা জানান, এখন শেষ ভরসা খুলনা জেলা প্রশাসক (ডিসি)। তিনিই পারবেন এই যন্ত্রণা থেকে সকলকে মুক্তি দিতে।

খুলনার সিভিল সার্জন এ এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, একাধিকবার সিটি কর্পোরেশন, বিভিন্ন উন্নয়ন সভায় বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। হাসপাতালে রোগীরা ময়লার উৎকট গন্ধে টিকতে পারে না। বিষয়টি অবহিত করে সিটি কর্পোরেশন বরাবর একটি লিখিত আবেদনও করেন। তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে ব্যবস্থার নেয়ার জন্য কেসিসিকে অনুরোধ জানিয়েছে। সাবেক খুলনা ডিসিকেও অবহিত করেছেন, কিন্তু কোন লাভ হয়নি।

এ ব্যাপারে খুলনা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আমিন-উল আহসান বলেন, এ বিষয়ে আমি খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেব। তিনি একটি হাসপাতালের সামনে ময়লা ডাম্পিং থাকাটি মোটেও কাম্য নয় বলে উল্লেখ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ