ঢাকা, বৃহস্পতিবার 24 August 2017, ০৯ ভাদ্র ১৪২8, ০১ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কুমারখালীর চাষি ও খামারিরা কুরবানির পশু বিক্রয় নিয়ে চরম হতাশায়

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) : উপজেলার আলাউদ্দিন নগর পশু হাট থেকে ছবিটি তোলা হয়েছে -সংগ্রাম

মাহমুদ শরীফ, কুমারখালী (কুষ্টিয়া) ঃ পবিত্র ঈদুল-আয্হা উপলক্ষে গরু মোটাতাজা করলেও ভারতীয় গরু অনুপ্রবেশের খবরে দাম না পাওয়ার শংকায় কুষ্টিয়ার কুমারখালীর সাধারণ চাষি ও খামার মালিকদের মাঝে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাজার যাচাইয়ের পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের হাটে গরু নিয়ে যাবার পরিকল্পনা করতেও ভয় পাচ্ছেন তাঁরা। 

কুমারখালী উপজেলা প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল-আয্হাকে সামনে রেখে গোটা উপজেলার সাধারণ চাষি ও ছোট-বড় ৪২৫টি খামারে পালিত হয়েছে ৪ হাজার ৮০০টি গরু। এগুলোর মধ্যে উপজেলার তালিকাভুক্ত ছোট-বড় খামারগুলোতে মোটাতাজা করা হয়েছে ১ হাজার ৪ শত ৩২টি এবং এলাকার সাধারণ চাষিদের প্রতিটি গোয়ালে পারিবারিকভাবে পালিত হয়েছে অন্ততঃ সাড়ে ৩ হাজার গরু। তবে ছোট-বড় খামারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশী গরু মোটাতাজাকরণ হয়েছে চাপড়া ইউনিয়নে ১৯৮টি। এছাড়াও বাগুলাট ইউনিয়নে ২৪৭টি, নন্দলালপুরে ১২৩টি, পান্টি ইউনিয়নে ১৫০টি, যদুবয়রায় ১১৬টি, কয়া ইউনিয়নে ১৮২টি, শিলাইদহে ৬৮টি, সদকী ইউনিয়নে ৫৪টি, জগন্নাথপুরে ৮১টি এবং চাঁদপুর ইউনিয়নে ১১৩টি গরু মোটাতাজাকরণ হয়েছে। 

এবারে উপজেলায় শাহীওয়াল, হলিস্ট্রি ফ্রিজিয়ান, হরিয়ান, পাবনা ভেরাইটি, লালসিন্ধি ও দেশী জাতের গরু মোটাতাজা করেছে সাধারণ চাষি ও খামার মালিকেরা। উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিস ও সাধারণ খামারিরা বলছেন, ভারতীয় গরু আমদানি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হলে এবারে এতদাঞ্চলের উৎপাদিত গরুগুলোর প্রতিটি কমপক্ষে ১লাখ ৩০হাজার থেকে সাড়ে ৩লাখ টাকা দাম পাওয়া যেত। সে অনুযায়ী অন্ততঃ ৩২থেকে ৩৮কোটি টাকার গরু বিক্রয় করার আশা প্রকাশ করলেও ভারতীয় গরু আমদানী হওয়ার কারণে বিষয়টি এখন অনিশ্চিত। কুমারখালী উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ পৃথ্বীজ কুমার দাস বললেন, কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে এ অঞ্চলের ছোট-বড় খামারিদের মাঝে অনেক আগে থেকেই গরু মোটাতাজাকরণে আগ্রহ লক্ষ্যনীয়। সঙ্গতঃ কারণেই এখানকার খামারের দর্শনীয় গরু রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোর কোরবানির হাটে বিক্রি হওয়ার সুখ্যাতিও রয়েছে। 

উল্লেখ্য যে, নিষিদ্ধ কোন ঔষধ বা হরমোন ইন্জেকশন ব্যবহার ছাড়াই আমাদের সাথে পরামর্শ সাপেক্ষে প্রাকৃতিক খাদ্য-খাবারের মাধ্যমেই এবারে দর্শনীয় গরু পালন করেছেন এতদাঞ্চলের খামারিরা। কৃষককূলে এ উৎসাহকে ধরে রাখতে পূর্বে থেকেই ভারতীয় গরু আমদানী রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে ভালো দাম পেত খামারিরা। সেইসাথে গো-খাদ্যের বাজারদর কম থাকলে আরো আগ্রহী হতো তাঁরা। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অংশীদার হতো কুষ্টিয়ার কুমারখালী। উপজেলার বিভিন্ন খামারিরা বলছেন, গো-খাদ্যের দাম বেড়েই চলেছে, সে অনুযায়ী দাম পাওয়ার আশায় এখনও খরচ করেই চলেছি। তবে, গত দু’বারে ভারতীয় গরু আমদানি হওয়ায় দাম পাওয়া যায়নি। এখন গরুগুলোর যত্ন আর আশানূরুপ দাম পাওয়া নিয়ে দুঃশ্চিন্তা আর চরম হতাশার মধ্যেই দিন কাটছে আমাদের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ