ঢাকা, বৃহস্পতিবার 24 August 2017, ০৯ ভাদ্র ১৪২8, ০১ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনায় ট্রেনের টিকিট নিয়ে অভিনব দুর্নীতি

খুলনা অফিস : ঈদকে সামনে রেখে রেলওয়ের খুলনা স্টেশনের টিকিট মাস্টার, টিটি, আর গেটম্যান মিলে অভিনব পন্থায় দুর্নীতি করে টাকা লোপাট করছে। ফলে যাত্রীদের দেয়া টাকা টিকিটের টাকা রেলওয়ের ফান্ডে জমা না হয়ে সরাসরি দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের পকেটে যাচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে রেলওয়ের যাত্রী সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় রেল স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে গিয়ে লম্বা লাইন দেখা যায়। এদের অনেকেই এসেছেন অগ্রিম টিকিট নিতে। কেউবা নিয়মিত যাত্রী হিসেবে। খুলনা রেল স্টেশনের দুটি কাউন্টার হতে টিকিট দেয়া হচ্ছিল খুব ধীর গতিতে। একজনকে কাউন্টার ছাড়তে একজন যাত্রীর ১৫-২০ মিনিট সময় লাগছিল। আর টিকিট কাউন্টার হতে টিকিট পাওয়া সব যাত্রীই ছিল সামরিক বাহিনীর সদস্য।
মঙ্গলবার সকালে খুলনা রেল স্টেশনের চিত্র ছিল’ টিকিট কাউন্টারের সামনে লম্বা লাইন আর তখন পেছনের দরজা দিয়ে বেশি দামে টিকিট বিক্রি করছিলেন খোদ টিকিট মাস্টার নিজে। এই সময় ঢাকার টিকিটে তিনশ’ থেকে পাঁচশ’ টাকা পর্যন্ত বেশি নিতে দেখা যায়।
নিয়ম অনুযায়ী যে কোন ট্রেন ছাড়ার ৩০ মিনিট আগে সেই ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হয়। সেই হিসেবে খুলনা থেকে ঢাকাগামী সুন্দবন এক্সপ্রেস ছাড়ার সময় সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট। কিন্তু সকাল ৮টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে সকাল ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও নিয়মিত যশোর বা নিকটবর্তী যাত্রীদের টিকিট দেয়া হয়নি।
কাউন্টার থেকে বলা হয়, ট্রেনে উঠে পড়েন, বাইরে টিকিট দেবে। বিষয়টি খুলনা স্টেশন মাস্টারের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও তিনি যাত্রীদের ট্রেনের ভেতর টিকিট দেয়ার আশ্বাস দিয়ে ট্রেনে উঠতে বলেন। ট্রেনের উঠলে নিয়ম মাফিক টিটি, চেকারের ৬/৭ জনের একটি দল এসে বিনা টিকিটের যাত্রীদের কাছ থেকে টিকিটের টাকা আদায় করেন। কিন্তু তাদের কাউকেই টিকিট দেয়া হয়নি। বগি নং ৭২১৯ এসি চেয়ার কোচে খুলনা থেকে যশোর আসেন ১৫ থেকে বিশ জন যাত্রী। তাদের সবার কাছ থেকে ১৩০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা আদায় করা হয়। তবে কাউকে টিকিট দেয়া হয় না। সবাইতে আশ্বস্ত করা হয় তাদের যশোর স্টেশন গেট পার করে বাইরে বের হবার ব্যবস্থা করা হবে। সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে সুন্দরবন এক্সপেস ট্রেনটি খুলনা থেকে ছেড়ে যশোরে সকাল ৯টা ১০ মিনিটে পৌঁছে যায়। এই সময় চেকারদের একজন যশোরের যাত্রীদের নিয়ে স্টেশন হতে বের করে দেবার ব্যবস্থা করেন। যশোর স্টেশন ম্যানেজার পুম্পল কুমার চক্রবর্তীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি তার গেটের দায়িত্বে থাকা মিসেস সাহিদা রহমান ডেকে জানতে চান। সাহিদা রহমান জানান, টিটি আর চেকার মাঝে মধ্যে কিছু লোক ছেড়ে দিতে বলেন। তিনি জানান স্টাফদের আত্মীয় স্বজন হতে পারে।
খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গার নিয়মিত কয়েকজন যাত্রী জানান, ঈদের সময় ছাড়া অন্য যে সময় তারা ভাড়ার চেয়ে কম টাকা চেকার আর টিটিদের দিয়ে ভ্রমণ করে থাকেন। টিটি আর চেকাররাই তাদের স্টেশনের মেইন গেট পার করে দিয়ে যান।
যশোর রেলওয়ের স্টেশন ম্যানেজার পুম্পল কুমার চক্রবর্তী ভুক্তভোগী এক যাত্রীর কাছে ঘটনার বর্ণনা শুনে মন্তব্য করেন ‘দুর্ভাগ্য আমাদের ১৫০ টাকাও দুর্নীতি করতে হয়।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টিকিট কাউন্টারে গেলে বলে টিকিট নেই, বেশি টাকা দিলে সিট পাওয়া যায়। আর টিকিট কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতারা সব সময় কিছু সিল খালী রেখে দেয়। যেটি টিটি আর চেকাররা পরে যাত্রীদের কাছে বিক্রি করে টাকা পকেটস্থ করে। টিকিট কাউন্টার, টিটি চেকার আর গেট টিকিট চেক করার দায়িত্বে যারা থাকেন এই আদায়কৃত অর্থ ভাগাভাগি করে নেন। শুধুমাত্র খুলনা-ঢাকা রুটে সব শ্রেণি মিলে পাঁচশ’ টিকিট না ছাড়তে এই দুর্নীতিবাজ চক্রের পকেটে যায় ৫০০ গুণ আটশ’ টাকা হলে চার লাখ টাকা । টিআইবি খুলনার সমন্বয়কারী অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির জানান, দেশে যত দুর্নীতি বিরোধী প্রচারণা জোরদার হচ্ছে, আর ততই দুর্নীতির নতুন নতুন ক্ষেত্র আবিষ্কার করা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ