ঢাকা, বৃহস্পতিবার 24 August 2017, ০৯ ভাদ্র ১৪২8, ০১ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জোড়াগেট পশুরহাট বন্ধের দাবিতে দুই থানায় অভিযোগ

খুলনা অফিস : বাংলাদেশ  রেলওয়ের খুলনা সিটি কর্পোরেশনের কাছে জোড়াগেট গরুর হাট বাবদ দুই কোটি ৭৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। রেলওয়ের কাছ থেকে জোড়াগেট পশুর হাটের ৪ দশমিক ৫৯একর জমি কেনার  টাকা পরিশোধ না করে প্রতি বছর অবৈধ ভাবে কুরবানীর সময় পশুর হাট বসিয়ে কেসিসি মোটা অংকের  অর্থ আদায় করছে। এ বারও ২৬ আগস্ট থেকে সপ্তাহব্যাপী পশুর হাট বসবে। রেলওয়ে এ পশুরহাটটি অবৈধ বলে দাবি করেছেন।
খুলনা রেলওয়ের ১৮নং কাচারী সূত্র জানায়, খুলনাবাসীর সুবিধার্থে কুরবাণীর পশুরহাট বসানোর জন্য কেসিসি এ জমি কেনার প্রস্তাব দেয়। ১৯৯৪ সালে ৪ দশমিক ৫৯ একর জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২ কোটি ৭৫ লাখ ৪০ হাজার। এ মূল্য পরিশোধ করার জন্য ১৯৯৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৫ সালের ৯ জানুয়ারি ও ১৯৯৬ সালের ১২ মার্চ  রাজশাহী প্রধান ভূ-সম্পত্তি  কর্মকর্তা তিন বার তৎকালিন সিটি মেয়র শেখ তৈয়েবুর রহমান চিঠি প্রদান করেন। ১৯১৫ সালের ১৯ নবেম্বর তৎকালিন সিটি মেয়র শেখ তৈয়েবুর রহমান যোগাযোগ এক চিঠির মাধ্যমে জানান যে, রেলওয়ের  দাবীকৃত টাকা পরিশোধ করা সম্ভব নয়। ১৯৯৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ও একই বছরের ১অক্টোবর অবকাঠামো নির্মাণ না করার জন্য সচিব বরাবর কাছে চিঠি প্রেরণ করেন। রেলওয়ের টাকা পরিশোধ না করে কেসিসি অবকাঠামো নির্মাণ অব্যাহত রাখে ও প্রতি বছর কুরবাণীর সময় পশুর হাট বসিয়ে লাখ লাখ টাকা নিচ্ছে।
সূত্র জানান, রেলওয়ের মালিকানা সম্পত্তি কেসিসি রেকর্ড করে নিয়েছে। ডিপি খতিয়ানের (কেসিসি) বিরুদ্ধে  দেওয়ানী মামলা করা হয়েছে। মামলা  নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এখানে পশুরহাট বসানো হবে অবৈধ।
বাংলাদেশ রেলওয়ের (পশ্চিম) প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ড. মো. আব্দুল মান্নান গত ১৭ আগস্ট এক চিঠিতে খুলনার কানুনগো ও যশোর কানুনগোকে রেললাইনের পার্শ্বে পশুর হাট না বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ জানান। সে মোতাবেক খুলনার কানুনগো মো. জিয়াউল হক বাদি হয়ে গত ২০ আগস্ট খুলনা  ও খালিশপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
জোড়াগেট বাজারের একজন ব্যবসায়ী বলেন, কেসিসি পশুরহাট বসিয়ে যে পরিমান টাকা আদায় করেছে সে টাকা কিস্তি আকারে দিলেও দেনা পরিশোধ হয়ে যেতো।
কেসিসি’র ১৫নং কাউন্সিলর ও কুরবানি বাজার কমিটির আহবায়ক আমিনুল ইসলাম মুন্নার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসেভ করেনি।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ের খুলনার ভূ-সম্পত্তি বিভাগের ১৮নং কাচারীর কানুনগো মো. জিয়াউল হক ইতোমধ্যে বিষয়টি উর্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছেন। তিনি জানান, সম্পত্তির মালিক রেলওয়ে। কেসিসি পশুরহাট বসিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ