ঢাকা, শুক্রবার 25 August 2017, ১০ ভাদ্র ১৪২8, ০২ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জামালপুরে ৪৮ হাজার ৭শত ৯৪ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি

জামালপুর সংবাদদাতা: জামালপুর জেলার বন্যার পানি ধীর গতিতে নেমে যাচ্ছে । মঙ্গলবার বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে হ্রাস পেয়ে বিপদ সীমার ৩৭ সে: মি: উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। সদ্য রোপিত রোপা আমন ধান পানিতে তলিয়ে নষ্ট হওয়ায় সাধারণ কৃষকদের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা। জামালপুর জেলার ৭টি উপজেলায় এবারের বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলা কৃষি সূত্রে জানা যায়, এবারের বন্যায় সর্বমোট ৪৮ হাজার ৭শত ৯৭ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল ক্ষতি হয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রোপিত রূপা আমন ধান, বীজতলা, আখ, কাঁচা তরিতরকারী ইত্যাদি। 

কৃষি অফিস সুত্রে জানায়, জামালপুরের দ্বিতীয় দফা বন্যায় ৬ টি জাতের ফসলের ব্যপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। তার মধ্যে রূপা আমন ৪৪ হাজার ৩শত ৯০ হেক্টর, রূপা আমন বীজতলা ১ হাজার ৬৭২ হেক্টর, আউস ১২৫ হেক্টর,   সবজি ২হাজার ৩৩৩ , হেক্টর, শশা ১১০ হেক্টর, কলা ১৬৫ হেক্টর, সর্বমোট ৪৮ হাজার ৭শত ৯৭ছ হেক্টর ছাড়াও আখ ফল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

এবারের বন্যায় সব চেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ’ ইসলামপুর উপজেলা। তাছাড়াও দেওয়ানগঞ্জ, মাদারগঞ্জ, মেলান্দহ, সরিষাবাড়ির প্রতিটি ইউনিয়নে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে সাধারণ কৃষকদের জমির ফসল ও বীজতলা। সারা জেলায় হাজার হাজার কৃসকের ফসলাদি ও বীজতলা বন্যাকবলিত। পানিতে ডুবে থাকায় ফসল ও বীজতলা পঁচে ও মাটিচাপা পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। 

ইসলামপুর উপজেলার নোয়ারপাড়া পূর্র্ব বলিয়াদহ গ্রামের ডা. রহুল আমিন, আয়ুব আলী খান বলেন, এবারের বন্যায় আমাদের প্রায় ১২ থেকে ১৫ বিঘা জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। তার মধ্যে বীজতলাও ছিল। খুবই কষ্টে  আছি, জানিনা কি করবো। কোথাও কোন ধানের চাড়া নেই, বর্তমানে বীজতলা যেন সোনার হরিণ। ধানের চারা পাওয়া মানে অমাবশ্যার চাঁদকে হাতে পাওয়ার শামিল। 

 জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (কৃষি) হজরত আলী বলেন, আমরা বন্যা পরবর্তী সময় টুকু সাধারণ কৃষকদের সাথে থেকে সার্বিক সহযোগিতার চেষ্টা চালিয়ে যাবো যাতে করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তি  ব্যবহার করে বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ