ঢাকা, শুক্রবার 25 August 2017, ১০ ভাদ্র ১৪২8, ০২ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ফেনীতে ৩০ গ্রামের দুর্ভোগের নাম দাদনা খাল

এম এ হায়দার, ফেনী সংবাদদাতা: ফেনীর দাগনভূঞা ও কোম্পানীগঞ্জে খুব পরিচিত এক নাম দাদনা। এটি একটি খালের নাম। উৎপত্তিস্থল নোয়াখালী জেলার কবিরহাট পয়েন্টে ছোট ফেনী নদী। পতিত মুখ একদিকে দাগনভূঞার মাতুভূঞা ব্রীজ সংলগ্ন ছোট ফেনী নদী, অন্যদিকে সেবারহাট বাজার সংলগ্ন খাল। মাঝে দীর্ঘ আঁকাবাঁকা পথ পাড়ি দিয়ে দাগনভূঞা উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের সীমানায় যুক্ত হয়ে দাগনভূঞা-বসুরহাট সড়কের পাশ ঘেঁষে পৌরসভায় প্রবেশ করে। খালের পানি কৃষকদের চাষাবাদে খুবই প্রয়োজনীয় একটি উপাদান, কিন্তু বর্তমানে এ এলাকায় খালটির পানি অভিশাপে পরিণত হয়েছে। মানুষের দ্বারা সৃষ্ট সমস্যার কারণে খালটি পানি প্রবাহে স্বাভাবিক গতি হারিয়েছে। এতে দাগনভূঞা পৌরসভা, ইয়াকুবপুর ও সদর উপজেলার অন্তত ৩০ গ্রাম সার্বিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খালের পানি কৃষকরা চাষাবাদে ব্যবহার করবে, অতিরিক্ত পানি স্বাভাবিক প্রবাহের মাধ্যমে নদীতে পতিত হবে; এবং কিছু পানি খালটি ধারণ করবে। অথচ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের উদাসীনতা, স্থানীয় সরকার বিভাগের (ইউনিয়ন/পৌরসভা) দায়িত্বহীনতা ও প্রভাবশালীদের দখলবাজির কারণে দাদনা খালটি অভিশাপে রূপান্তরিত হয়েছে। অবশ্য আশার কথা শুনিয়েছেন দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম ভূঞা। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, গত রোববার জেলা প্রশাসক মহোদয় দাদনা ও কাটাখালী খনন করার লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করে দেন।

সরজমিনে ঘুরে জানা গেছে, ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের ভয়াবহ বন্যায়ও দাগনভূঞা উপজেলার এসব এলাকা ছিল মুক্ত। অথচ এ খালের কারণে গত কয়েক বছর ইয়াকুবপুর, দাগনভূঞার সদর ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন গ্রাম, স্কুল, মাদ্রাসা, হাট-বাজারে পানি উঠে হাঁটু পরিমাণ।

জানা গেছে, দাদনা খালটি দাগনভূঞা উপজেলার সীমানায় (মীরেরপুল থেকে মাতুভূঞা) ১৩ কিলোমিটার ও অন্যদিকে ৬ কিলোমিটার (দুধমুখা কামার পুকুর থেকে সেনবাগ উপজেলার সংযোগস্থল) জুড়ে বিচরণ করে আসছে। গ্রীষ্মকালে দাগনভূঞা অঞ্চলে বিচরণকৃত দাদনা খালের ১৯ কিলোমিটার এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী, রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ ছোট-বড় বাঁধ নির্মাণ করে সেচ দিয়ে মাছ ধরে। কিন্তু মাছ ধরা শেষে বাঁধগুলো না কেটে এভাবেই রেখে চলে যায়। আবার কোথাও কোথাও স্থানীয়রা মাটি কেটে তাদের নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করে, আবার কোথাও দীর্ঘদিন হয়নি কোন খননের কাজ। ফলে খালটি উঁচু-নিচু হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে ওইসব বাঁধে পানি আটকে থাকে। তাছাড়া এ ১৯ কিলোমিটার খালে ব্যক্তি উদ্যোগের বহু পুল ও সাঁকো নির্মাণ করে চলাচল করে আসছে এসব এলাকার বাসিন্দারা। বিভিন্ন স্থানে খালের এক তৃতীয়াংশ বা এর অধিক জায়গা অবৈধভাবে দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে পাকা, আধাপাকা বা কাঁচা দোকানঘর।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ