ঢাকা, শুক্রবার 25 August 2017, ১০ ভাদ্র ১৪২8, ০২ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আগের পদবী ফিরে পাচ্ছেন রাজস্ব কর্মকর্তারা

 

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন শুল্ক ও ভ্যাট অনুবিভাগের ‘সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা’ ও ‘রাজস্ব কর্মকর্তা’দের ‘পদবী’ দুইটির নাম পরিবর্তন করে আগের মতো ‘ইন্সপেক্টর’ ও ‘সুপারিনটেনডেন্ট’ করা হচ্ছে।

গত ২৩ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (বিধি-১) মো. মনিরুল হক খান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। আদেশে পদবী ফিরিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।

২০১০ সালে নিয়োগ সংক্রান্ত আইনী জটিলতায় সরকার ইন্সপেক্টর পদটি ‘সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও)’ ও ‘সুপারিনটেনডেন্ট’ পদটিকে ‘রাজস্ব কর্মকর্তায় (আরও)’ পরিবর্তন করে। তবে ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা এ পদবী দুইটি কর্মকর্তাদের কাছে বেশ সম্মানের ছিল। পদবী পরিবর্তন করায় কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

অনাপত্তিপত্রে বলা হয়, পদ দুইটি গেজেটেড কর্মকর্তা নিয়োগ ও কর্মের শর্তাবলী (সংশোধনী) আইন, ২০১০ এর সংশোধনকল্পে প্রণীত ২০১৭ আইনের খসড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি প্রদান করা হলো।

পদবী পরিবর্তনে আইনের খসড়া সংশোধনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি দেয়ার মাধ্যমে আগের পদবী ফিরিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক সহজ হয়ে গেলে। এর ফলে সহসাই পদবী ফিরে পাবে কর্মকর্তারা।

এনবিআর সূত্র জানায়, এনবিআরের আওতাধীন শুল্ক ও ভ্যাট অনুবিভাগের ক্যাডার বর্হিভূত রাজস্ব কর্মকর্তার পদটি প্রথম শ্রেণির ও সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা পদটি দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তার।

বিশ্বের মধ্যে পাকিস্তান ছাড়া রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে ইন্সপেক্টর ও সুপারিনটেনডেন্ট পদবী দুইটি প্রচলিত আছে। পাকিস্তানে ইন্সপেক্টর পদ সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা ও সুপারিনটেনডেন্ট পদ রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে প্রচলিত।

১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে রাষ্ট্রপতির ৭৬ নং আদেশে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গঠন করেন। সেই থেকে পদবী দুইটি প্রচলিত ছিল।

এর প্রায় ৩৮ বছর পর ২০১০ সালে সরকার কারো মতামত ছাড়াই পদবী দুইটি পরিবর্তন করে ইন্সপেক্টর পদকে ‘সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা’ ও সুপারিনটেনডেন্ট পদকে ‘রাজস্ব কর্মকর্তা’ হিসেবে ঘোষণা করে বলে জানান এনবিআরএর এক কর্মকর্তা।

তিনি জানান, পদবী পরিবর্তন করায় ইন্সপেক্টর ও সুপারিনটেনডেন্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। পদবী ফিরিয়ে দেয়ার জন্য কর্মকর্তারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে সরকারকে অনুরোধ করে।

তারা অভিযোগ করেন, সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য আলোচনা ছাড়াই পদবী পরিবর্তন করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কর্মকর্তারা পদবী ফিরিয়ে দিতে আন্দোলনের হুমকি দিলে বলা হয়, আদালতে পদবী পরিবর্তনের জন্য রিট করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে পদবী পরিবর্তন করা হয়েছে।

পরে কর্মকর্তারা আদালতের দ্বারস্থ হলে প্রায় দেড় বছর পর আদালত পদবী দুইটি ফিরিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু সরকার তা আমলে নেয়নি। বর্তমান চেয়ারম্যান যোগদানের পর কর্মকর্তারা আবারো দাবি জানান।

২০১৫ সালও বাংলাদেশ কাস্টমস এক্সসাইজ এন্ড ভ্যাট এক্সিকিউটিভ এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে পদবী দুইটি ফিরিয়ে দেয়ার মাধ্যমে কর্মকর্তাদের সম্মান ফিরিয়ে দিতে অনুরোধ জানানো হয়।

কিন্তু আইন পরিবর্তন করে পদবী পরিবর্তন করায় পদবী পরিবর্তন সম্ভব হয়নি। পরে এনবিআর চেয়ারম্যান আইন পরিবর্তনের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেন। সে অনুযায়ী জনপ্রশাসন অনাপত্তি জারি করে।

সূত্র জানায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তিপত্র আগামী এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রী সভায় যাবে। সেখান থেকে সংসদে যাবে। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর সংসদ বসবে। সেখানে এটি পাস হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের দাবির প্রতি শতভাগ সমর্থন ছিল।

তিনি বলেন, পদবী পরিবর্তনের মাধ্যমে তাদেরকে আরেকবার স্বীকৃতি দেয়া হলো। তাদের যেকোনো ন্যায্য দাবির প্রতি এনবিআর সমর্থন করবে। এর মাধ্যমে রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

এদিকে বাংলাদেশ কাস্টমস এক্সসাইজ এন্ড ভ্যাট এক্সিকিউটিভ এসোসিয়েশনের (বাকায়েভ) এক্সিকিউটিভ মেম্বার রাসেল মাহমুদ জুয়েল ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন ও দিকনির্দেশনায় দেয়ায় এনবিআর চেয়ারম্যানের প্রতি সংগঠনের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, আমাদের প্রাণের দাবি ইন্সপেক্টর ও সুপারিনটেনডেন্ট পদবী ফিরে পাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। প্রায় ২ বছর অক্লান্ত পরিশ্রমের পর অনাপত্তি পাওয়া গেছে। পদবী ফিরে পাওয়ার মাধ্যমে রাজস্ব আহরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

উল্লেখ, বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা নিয়োজিত রয়েছেন। এরমধ্যে পিএসসি থেকে ৫টি ব্যাচে মোট ১ হাজার ৪৩৯ জন নিয়োজিত পেয়েছেন। বাকিরা পদোন্নতি পেয়েছেন। এছাড়া রাজস্ব কর্মকর্তা রয়েছে ৭৮০ জন কর্মরত রয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ