ঢাকা, শুক্রবার 25 August 2017, ১০ ভাদ্র ১৪২8, ০২ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুতবায় মাদক বিরোধী আলোচনা করায় শরীয়তপুরে ইমামকে কুপিয়ে জখম

শরীয়তপুর সংবাদদাতা : জুমার খুতবায় মাদক বিরোধী আলোচনা করায় শরীয়তপুর পৌরসভার বালুচড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা শরীফুল ইসলামকে (৪৮) কুপিয়ে জখম করেছে স্থানীয় এক বখাটে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার সময় মসজিদের ভিতর এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার মাথায় ও শরীরে গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। ঘটনার খবর পেয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এদিকে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। মানববন্ধনে ইমাম পরিষদের নেতারা দ্রুত বখাটে সলেমানের শাস্তি দাবি করেছেন। 

মসজিদের ইমাম, পালং মডেল থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ বছর ধরে শরীয়তপুর পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের বালুচড়া জামে মসজিদে মাওলানা শরিফুল ইসলাম ইমামতি করে আসছেন। গত শুক্রবার জুমার সময় তিনি মাদক বিরোধী ও সুন্নাতের বিষয় আলোচনা করেন। এতে স্থানীয় বখাটেরা ক্ষিপ্ত হয় বলে জানায় আহত ইমাম।

গতকাল সকালে ইমাম মাওলানা শরীফুল ইসলাম ফজরের নামাযের পর মুসল্লিরা চলে যাওয়ার পর মসজিদের ভিতর অবস্থান করছিলেন। এমন সময় স্থানীয় মৃত হাসান সরদারের ছেলে বখাটে সলেমান সরদার এসে তাকে গত শুক্রবার জুমার খুতবায় কেন মাদক বিরোধী আলোচনা করা হয়েছে জানতে চাইলে উভয়ের মধ্যে তর্ক বিতর্ক হয়। এক পর্যায়ে সলেমান সরদার ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে কিল ঘুসি মারে। এর পর তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মসজিদের মধ্যে রক্তাক্ত জখম করে ফেলে রেখ যায়। ইমাম সাহেবের আর্তচিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।

তিনি নড়াইল জেলার নরগাতী উপজেলার চান্দের গ্রামের মৃত মাওলানা আব্দুল মালেক শেখের ছেলে। এ ব্যাপারে মাওলনা শরীফুল ইসলাম বাদী হয়ে সলেমানকে আসামী করে পালং মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সলেমানকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এদিকে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে শরীয়তপুর শহরে ইমাম পরিষদের উদ্যোগে তাৎক্ষণিক এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। মানববন্ধনে ইমাম পরিষদের নেতারা বখাটে সলেমান সরদারের শাস্তি দাবি জানিয়েছেন। 

এ ব্যাপারে মাওলনা শরীফুল ইসলাম বলেন, গত শুক্রবার জুমার নামাযের খুতবায় মাদক বিরোধী বক্তব্য দেয়ায় এলাকার হাসান সরদারের ছেলে বখাটে নেশাখোর সলেমান সরদার আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়। এরপর থেকে সে আমাকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার ফজরের নামাযের পর আমি সমজিদের ভিতরে অবস্থান করছিলাম। এ সময় সলেমান এসে কেন মাদকের বিষয় আলোচনা করেছি এ নিয়ে আমাকে কিল ঘসি ও লাথি মারে। পরে চাপাতি দিয়ে আমাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। আমি এর বিচার চাই। 

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। আমি হাসপাতালে গিয়ে ইমাম সাহেবের খোঁজখবর নিয়েছি। এ ব্যাপারে মামলা হয়েছে এবং আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ