ঢাকা, শুক্রবার 25 August 2017, ১০ ভাদ্র ১৪২8, ০২ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ওষুধ প্রশাসনের সেই দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত

স্টাফ রিপোর্টার : ভেজাল প্যারাসিটামল সিরাপ সেবনে ২৮ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় ওষুধ প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা উপ-পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন ও সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলামকে তদন্ত কাজে অদক্ষতা ও অযোগ্যতার কারণে বরখাস্ত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। হাইকোর্টে স্বাস্থ্য সচিব এই তথ্য জানান। পরে স্বাস্থ্য ও সেবা বিভাগের সচিব সিরাজুল হক খানকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে অনুষ্ঠিত শুনানিতে ওই দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্তের তথ্য অবহিত করা হয়। 

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। ওষুধ প্রশাসনের দুই কর্মকর্তার পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। সচিবের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী।

গত ২১ আগস্ট স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবকে ২৩ আগস্ট হাজির হতে তলব করেন হাইকোর্ট। সেই অনুসারে তিনি হাজির হলে যথাযথ ব্যাখ্যা না দেয়ায় পরদিনও (গতকাল বৃহস্পতিবার) তাকে হাজির হতে বলা হয়। 

২০০৯ সালের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত রীড ফার্মার ভেজাল প্যারাসিটামল সিরাপ সেবন করে সারা দেশে ২৮টি শিশু মারা যায়। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক মো. শফিকুল ইসলাম ওই ঘটনায় ঢাকার ড্রাগ আদালতে একটি মামলা করেন। মামলায় রীড ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমানসহ পাঁচজনকে আসামী করা হয়। ওই মামলার রায়ে গতবছর নবেম্বরে পাঁচ আসামীর সবাই খালাস পান। বাকি চার আসামী হলেন-মিজানুর রহমানের স্ত্রী কোম্পানির পরিচালক শিউলি রহমান, পরিচালক আব্দুল গণি, ফার্মাসিস্ট মাহবুবুল ইসলাম ও এনামুল হক।

ঢাকার ওষুধ আদালতের বিচারক আতোয়ার রহমান ওই রায়ে বলেন, মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তখনকার সহকারী পরিচালক শফিকুল ইসলাম ও উপ-পরিচালক আলতাফ হোসেনের ‘অযোগ্যতা ও অদক্ষতার কারণে’ রাষ্ট্রপক্ষ (প্রসিকিউশন) অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

আদালতের রায়ের পরও ওষুধ প্রশাসনের দুই কর্মকর্তার পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) হাইকোর্টে একটি আবেদন করলে গত ১৬ মার্চ হাইকোর্ট রুল জারি করে। ওষুধ প্রশাসনের অধিদপ্তরের ওই দুই কর্মকর্তাকে কেন চাকরি থেকে অপসারণের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হবে না-তা জানাতে চাওয়া হয় রুলে। সরকারের স্বাস্থ্য সচিব ও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এর জবাব দিতে বলা হয়। ওই রুলের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ১১ জুলাই হাইকোর্টে একটি প্রতিবেদন দেয়, সেখানেও ওই দুই কর্মকর্তার অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হয়। এরপর তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চেয়ে আরেকটি সম্পূরক আবেদন করে এইচআরপিবি।

এরপর গত ৩ আগস্ট ওই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা জানতে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। স্বাস্থ্য সচিব এক প্রতিবেদনে আদালতকে জানায়, ওই দুই কর্মকর্তাকে সতর্ক করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ