ঢাকা, শুক্রবার 25 August 2017, ১০ ভাদ্র ১৪২8, ০২ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নওগাঁয় বন্যায় মৎস্য খাতে ক্ষতি ২০ কোটি টাকা

মোঃ মনিরুজ্জামান চৌধুরী (মিলন) : বন্যা এলাকা গুলো থেকে ফিরেঃ বন্যা বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে নওগাঁর মৎস্য খাত। চলতি বন্যায় জেলার ১১ টি উপজেলায় ৩ হাজার ৪১৬ টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এতে প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে আত্রাই, ছোট যমুনা ও পুনর্ভবা নদীর ২০ টি স্থানে বাঁধ ভেঙে জেলার ১১ টি উপজেলার ৬৫ টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়। এসব এলাকার বাড়িঘর, ফসলি জমি ও পুকুর-বিল তলিয়ে গেছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৩ লাখ মানুষ। জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নওগাঁর সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা মান্দায় ভেসে গেছে ১ হাজার ৮২ টি পুকুর। এছাড়া আত্রাইয়ের ৫০৭ টি, ধামইরহাটের ৩১৫ টি, পত্নীতলার ৫২৯ টি, রানীনগরের ২২২টি, সদরের ২৬৯ টি, নিয়ামতপুরের ১৩০ টি, বদলগাছীর ৬১ টি, সাপাহারের ১৬৫ টি, পোরশার ৭৫টি ও মহাদেবপুরের ৬১টি পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এতে ১৬ কোটি ১৭ লাখ ৩৭ হাজার টাকার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ,  ১ কোটি ৮ লাখ টাকার পোনা এবং অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণ ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। মোট ক্ষতি হয়েছে ১৯ কোটি ৭৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকার।

সরেজমিনে দেখা যায়, মান্দার নুরুল্যাবাদ, প্রসাদপুর, কুশুম্বা, বিষ্ণপুর ও কালিকাপুর ইউনিয়ন, পত্নীতলার পার্টিচরা, পত্নীতলা, নজিপুর ও কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন, ধামইরহাটের আগ্রাদ্বিগুন, আলমপুর, খেলনা ও ইসবপুর ইউনিয়নের প্রায় সবকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার পুকুর গত এক সপ্তাহ ধরে বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে। কিছু কিছু পুকুরের চারপাশ নাইলনের জাল দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। 

কয়েকজন মাছচাষী বলেন, জাল দিয়ে পুকুর ঘেরার আগেই বেশির ভাগ মাছ বেড়িয়ে গেছে। এরপরও যদি কিছু মাছ আটকানো যায়, সে জন্য তাঁরা পুকুর জাল দিয়ে ঘিরে রেখেছেন। 

মান্দার বিষ্ণপুর ইউনিয়নের হুলিবাড়ি গ্রামের মাছচাষি সামসুল আলম বলেন, তিনটি পুকুর নিজের ও আরও দুটি পুকুর দুই বছরের জন্য ভাড়া নিয়ে মাছ চাষ করেছিলেন। মান্দার জোতবাজার এলাকায় আত্রাই নদীর বাঁধ ভেঙে বন্যায় তার সবকটি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এতে প্রায় ১০-১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ধামইরহাটের খেলনা ইউনিয়নের রসপুর গ্রামের মাছচাষি আমজাদ হোসেন বলেন, আমাদের এলাকায় ৮৮-র পর আর বন্যা হয়নি। তাই বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম বলে মাছ রক্ষার কোনো প্রস্তুতি আমাদের ছিলনা। পুকুর ঘেরার জন্য আগে থেকেই জাল রাখা থাকলে এতটা ক্ষতির মুখে পড়তাম না। আমার চারটি পুকুরের মাছ ভেসে প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবদুল হান্নান বলেন, বন্যায় জেলার মৎস্য খাতে প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। দুর্যোগপ্রবণ এলাকা না হওয়ায় নওগাঁর মাছচাষিদের মধ্যে যে ধরনের প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা থাকা দরকার, তা সম্পর্কে কম ধারনা রয়েছে। এ জন্য এখানে ক্ষতির পরিমাণটা বেশি হয়েছে। তবে বন্যায় পুকুরের মাছ রক্ষায় করণীয় সম্পর্কে মাছচাষিদের মাঝে বিভিন্ন নির্দেশনামূলক লিফলেট বিকরণ করা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ