ঢাকা, শুক্রবার 25 August 2017, ১০ ভাদ্র ১৪২8, ০২ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

দূরপাল্লার বাসের টিকিট হাওয়া  বেশি দামে মিলছে কালোবাজারে

 

স্টাফ রিপোর্টার :  পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ছুটিতে আজ শুক্রবার থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা রাজধানী ছেড়ে যাবেন। অবশ্য যারা অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকবেন তারা তাদের পরিবার পরিজনদের গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে থেকেই নগরীর বিভিন্ন টার্মিনাল থেকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে ভিড় ততই বাড়বে এই আশংকায় আগেভাগেই অনেকে বাড়িতে চলে যাচ্ছেন।  যদিও ইতোমধ্যে বিভিন্ন কোম্পানীর দূরপাল্লার বাস বিশেষ করে যারা বাসের টিকিট সংগ্রহ করতে পারেননি তাদের একমাত্র ভরসা এখন ট্রেনের টিকিট। 

গতকাল কাউন্টার ঘুরে দেখা গেছে, টিকেটের জন্য  এখনো যাত্রীদের লম্বা লাইন।  দীর্ঘ অপেক্ষার পর অনেকেই কাংখিক্ষত টিকেট পেয়ে বিজয়ীর হাসি দিয়ে কাউন্টার ত্যাগ করছেন।  যারা এখনও টিকেট পাননি তারাও অপেক্ষা করছেন টিকেটের জন্য। ঈদে বাড়ি যাত্রা যারা কিছুটা সহজ ও নির্বিঘœ করতে চান তারা আগেভাগেই বাসের অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করছেন। তবে নগরীর বিভিন্ন বাস কাউন্টারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে অনেক রুটের দূরপাল্লার বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে গেছে।  তবে কাউন্টারে যোগাযোগ করলে প্রথমে টিকিট নেই বলে জানালেও পরে অতিরিক্ত দামে টিকিট মিলছে। যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, এটা যেন নিয়মে পরিনত হয়েছে। প্রতি বছর ঠিক একই নিয়মে বেশি দামে টিকিট বিক্রি হলেও প্রতিবাদ করে কোনো লাভ হয় না। ঈদে বাড়ি ফিরতে টিকিট সংগ্রহ করতে গেলে অনিয়মকেই নিয়ম হিসেবে সবাই মানতে বাধ্য হচ্ছেন।  

এবছর ঈদুল আজহা পালিত হবে ২ সেপ্টেম্বর  শনিবার। বাংলাদেশ রেলওয়ে সাধারণ মানুষের নির্বিঘেœ ঘরে ফেরার জন্য প্রতিবারের মতো এবারও অগ্রিম টিকিট বিক্রি করছে। টিকিট বিক্রিতে যাতে কোনো ঝামেলা না হয় এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। টিকিট কালোবাজারী রোধে সিসি ক্যামেরা লাগানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। 

এদিকে এবার ঈদে বাস ও ট্রেনের পাশাপাশি ঘরমুখো যাত্রীদের নির্বিঘেœ বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করতে নৌপথেও বিশেষ লঞ্চের ব্যবস্থা করেছে বিআইডব্লিউটিসি।  ঢাকা নৌবন্দর থেকে  দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ৪১টি রুটের প্রায় দেড় শ বেসরকারি লঞ্চ ও বিআইডব্লিটিসির রকেট-স্টিমার সার্ভিস চলাচল করেবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এসব নৌযানের বেশির ভাগ কেবিনের বুকিং ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। তবে আগাম টিকিট না পেয়ে অনেক যাত্রী হতাশায় পড়েছেন। বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, নৌপথের যাত্রীদের নিরাপত্তা ও হয়রানি রোধে সদরঘাট টার্মিনাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নৌযান মালিক কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, সদরঘাট টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ৪১ টি রুটে দেড় শতাধিক বেসরকারি লঞ্চ চলাচল করছে। এসব লঞ্চে প্রায় সাড়ে আট হাজার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর কেবিন রয়েছে। ইতিমধ্যে এসব কেবিনের আগাম টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।

ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষ  অনেকেই আগেভাগেই ট্রেনে চড়ে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। রেলের মহাপরিচালক  সাংবাদিকদের কাছে তিনি দাবি করে বলেছেন, এখনও পর্যন্ত কোনো যাত্রী ভোগান্তির অভিযোগ নেই। শান্তিপূর্ণভাবে মানুষ বাড়ি ফিরতে পারবেন। ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মহাপরিচালক আরো জানান, এবার টিকিট কালোবাজারি সম্পূর্ণ বন্ধ আছে। তাই মানুষ স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারবেন বলেও জানান তিনি। রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ভিড় এখন ক্রমেই বেড়েছে। ঘুরমুখো যাত্রী এবং টিকিট প্রত্যাশী মিলিয়ে কমলাপুর রেলস্টেশনে  আজ থেকে শুরু হবে জনস্রোত। সব যাত্রীর যাত্রা নির্বিঘœ করতে পুলিশ নিয়োজিত আছে। কোনো টিকিট কালোবাজারি নেই। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, পুলিশ র‌্যাব সম্মিলিতভাবে কাজ করবে। সূত্র জানায়, এবার  ঈদের আগে ২৫ শতাংশ টিকিট অনলাইনের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ