ঢাকা, শুক্রবার 25 August 2017, ১০ ভাদ্র ১৪২8, ০২ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের শুভাকাক্সক্ষীরাই ২১ আগস্টের হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে -রিজভী

 

স্টাফ রিপোর্টার : ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত দাবি করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট হামলা একটি সন্ত্রাসী হামলা। বিএনপি সরকারকে বিব্রত করতেই ২১ আগস্টের হামলা আওয়ামী লীগের অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ঘটনা। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের শুভাকাঙ্খিরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিচতলায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি কামনায় জাতীয়তাবাদী ওলামা দল এ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে।

রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগকে তো বলা হয়েছিল মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ করতে। তারা কেন পার্টি অফিসের সামনে সমাবেশ করলেন? এরমধ্যে তো কোনো কিছু লুকিয়ে আছে, কোনো ঘটনা লুকিয়ে আছে। ঘটনা কী? ওখানে বোমা ফুটলো কিন্তু শেখ হাসিনা সিকিউরর্ড হলেন। এটা আওয়ামী লীগের লোকেরাই ঘটিয়েছেন। তাঁরা চেয়েছিল, শুধু শেখ হাসিনা বেঁচে থাক। শেখ হাসিনার প্রতি মানুষের সহমর্মিতা বৃদ্ধি পাক। 

রিজভী বলেন, আমরা বলতে চাই, ২১ আগস্টের ঘটনা পরিকল্পিত একটি ঘটনা ছিলো আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। আওয়ামী লীগের শুভাকাক্সক্ষীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। তার আরেকটি প্রমাণ কী জানেন ? তাদের আন্দোলনের ফসল মইন-ফখরুদ্দিনও তারেক রহমানকে ২১ আগস্টের ঘটনায় জড়াতে পারেনি কোনোভাবেই। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে তাদের মনোনীত কাহার আকন্দকে নিয়োগ দিয়ে তারেক রহমানকে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দিয়ে ঢুকানো হয়েছে। অর্থাৎ টার্গেট হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান অর্থাৎ বিএনপির ভাবমূর্তিকে খাটো করা এবং শেখ হাসিনার প্রতি সহানুভুতি বাড়ানো।

রিজভী বলেন, এক এক করে ঘটনাগুলো যদি বিশ্লেষণ করেন তাহলে দেখবেন অত্যন্ত পরিকল্পিত এই ঘটনা। এই ঘটনা ঘটিয়েছেন অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে যে, তারেক রহমানকে ধরতে হবে, বেগম খালেদা জিয়াকে ধরতে হবে, তার সরকারকে ইয়ে করতে হবে। সরকারের শুভাকাঙ্খীরা চাচ্ছে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে দমন করতে।

সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী কারাবন্দি দলের সহসভাপতি আবদুস সালাম পিন্টুকে ২১ আগস্টের মামলায় জড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই সময়ে আমাদের এক মন্ত্রীর ভাইকে অভিযুক্ত করেছেন, যেকোনো পরিবার থেকে যে কেউ বিভ্রান্ত হতে পারে, সেজন্য তো তার ভাই দায়ী হতে পারে না। তিনি ছাত্র জীবন থেকে প্রগতিশীল রাজনীতি করেছেন, ছাত্র ইউনিয়ন করেছেন, মওলানা ভাসানীর সাথে রাজনীতি করেছেন, জিয়াউর রহমানের সাথে রাজনীতি করেছেন আবদুস সালাম পিন্টু। আজকে তাকে আপনারা সেই মামলায় জেলে পাঠিয়েছেন। যার ধর্মীয় উগ্রবাদী সন্ত্রাসী রাজনীতির সাথে ছাত্র জীবন থেকে সম্পর্ক নাই।

রিজভী বলেন, এখন যদি আমরা বলি, পিলখানার বিডিআর হত্যার সাথেও আওয়ামী লীগ জড়িত, আপনারা ক্ষমতায় আসার পরপরই এই ঘটনা ঘটেছে। তাহলে যত সেনা অফিসার মারা গেছেন এর জন্য দায়ী আওয়ামী লীগ-এটাই তো সঠিক হবে। এর উত্তর তাদের কিছু জানা নেই।

রিজভী বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে হামলা হয়েছে এবং হচ্ছে কিন্তু সেখানে তো কেউ রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকা সরকারকে দায়ী করেনি। বরং সেখানে সন্ত্রাসী ও উগ্রবাদির দায়ী করেছে। সরকার কিংবা বিরোধী দল কেউ কাউকে দোষারোপ করেনি। বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকাকালীন ২১ আগস্টে হামলা হয়েছে বলে আওয়ামী লীগ বিএনপিকে দায়ী করেছে। 

উল্লেখ্য, বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা হয়। হামলায় অনেক মানুষ হতাহত হয়। 

সাবেক এই ছাত্রনেতা বলেন, ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার কারণে সরকার সুপ্রীমকোর্টের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। প্রধান বিচারপতির বিষোদগার করছেন। যারা সরকারের এই কর্মকা-ের প্রতিবাদ করছেন এবং অবৈধ ঘোষণায় যারা সুপ্রীমকোর্টের পক্ষে অবস্থান করছেন, কথা বলছেন তাদেরকে সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর লোকেরা হুমকি দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ষোড়শ সংশোধনী রায় বাতিলের পর আওয়ামী লীগ উন্মাদ হয়ে গেছে। তারা প্রধান বিচারপতি ও বিচার বিভাগের ওপর বিষের তীর নিক্ষেপ করছেন। এবং আওয়ামী লীগের যেসব নেতা প্রধান বিচারপতিকে পাকিস্তান চলে যেতে বলছেন তাদের কে একটু স্মরণ করে দিতে চাই এই বলে যে, পাকিস্তানে চলে যাওয়ার ইতিহাস তো আওয়ামী লীগের।  শেখ মুজিবুর রহমান ৭১ সালে অর্পিত দায়িত্ব পালন না করে পাকিস্তান চলে যান।

বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গুম করা হচ্ছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, এই সমাজে আজকে কারো কি কোনো দায়িত্ব নেই? দেশকে আজ কবরস্থান বানাতে চাচ্ছেন শেখ হাসিনা। গোরস্থানের শাস্তি দিয়ে তিনি ভরিয়ে দিতে চাচ্ছেন।

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কারো চিন্তা নেই উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রধানমন্ত্রীর অনুগত হয়ে কাজ করছেন। সংবিধানতো তাঁকে যথেষ্ট ক্ষমতা দিয়েছে। কিন্তু তিনি প্রধানমন্ত্রীর চাকরি করছেন বলে সেই ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছেন না।

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, এ দেশের সব সামরিক শাসনকে তো আপনারা সমর্থন করেছেন, আমরা করিনি। খন্দকার মোশতাককে তো আপনারাই সঙ্গে সঙ্গে রেখেছেন। যে এরশাদ গণতন্ত্র ধ্বংস করে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল সেই এরশাদকে তো শেখ হাসিনাই প্রশ্রয় দিচ্ছেন। এই ঐতিহ্য শুধু আওয়ামী লীগেরই। তাদের ঐতিহ্যই হচ্ছে গণতন্ত্র হত্যা এবং সব দলের রাজনীতি বন্ধ করা।

বিএনপি বন্যার্তদের পাশে ত্রাণ সামগ্রি বিতরণ করে যাচ্ছে। আর সেই ত্রাণ কর্মসূচিতে সরকার বাধা দিচ্ছে। অথচ বর্ন্যাতদের কাছে সরকারের ত্রাণ পৌছে দেয়ার কার্যক্রম নেই।

জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ মাওলানা আব্দুল মালেকের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল এবং জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, হাফেজ মাওলানা জসিম উদ্দিন, আলমগীর হোসেইন খলিল, মাওলানা দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ