ঢাকা, শুক্রবার 25 August 2017, ১০ ভাদ্র ১৪২8, ০২ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চৌগাছায় বাণিজ্যিকভাবে লালড্রাগনের চাষে  সফলতা অর্জন করেছে ইসমাইল

 

এমএ রহিম চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা : যশোরের চৌগাছায় বাণিজ্যিকভাবে নতুন ফল লালড্রাগনের চাষ করে ব্যাপক সফলতা অর্জন করছে শিক্ষিত যুবক ইসমাইল হোসেন। তিনি পিয়ারা, আম ও কুল চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়ে উন্নত জাতের ফল চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ২০১৫ সালে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও ভিয়েতনাম থেকে চারা এনে নিজের দুই বিঘা জমিতে নতুন ফল লালড্রাগনের চাষ শুরু করেন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাযায়, উপজেলায় তিনি প্রথম লালড্রাগনের বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তিনি প্রায় ৯ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ভিয়েতি জাতের লালড্রাগনের চাষ শুরু করেছেন। এই বাগান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৭০/৮০ কেজি লাল জাতের সুস্বাদু ড্রাগন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে খুলনা, চিটাগাং, বরিশাল, রাজবাড়ী ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। নতুন জাতের এ ফল এলাকাসহ সারা দেশে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে সকল স্তরের মানুষের মাঝে। এ ফলের সমারহ দেখে যেন চোখ ও মন জুড়িয়ে যায়।  চাষি ইসমাইল জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফুল ও ফল বেশি হয়েছে। তিনি জানান ইন্টারনেট কৃষি পাতার মাধ্যমে জেনে আমি ভিয়েতনাম ও ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লাল জাতের ড্রাগনের চারা সংগ্রহ করে প্রথমে ৩ বিঘা জমিতে চাষ করি। ড্রাগন চাষ করে অধিক মুনাফা পেয়ে ৯ বিঘা জমিতে চাষ করেছি। চারা রোপণ করার ২ বছরের মধ্যে ফল ধরা শুরু হয়। বর্তমানে প্রতিদিন আমার বাগার থেকে প্রায় ৭০/৮০ কেজি ড্রাগন বিক্রি করছি। তিনি আরো জানান প্রতিটি গাছে বছরের ১২ মাসেই ড্রাগন থাকে। প্রতি কেজি ড্রাগন ২৫০/৩০০ টাকা দরে বিক্রি করা যায়। গাছে ড্রাগনের ফুল আসার সাথে সাথে প্রতিটি ফুল সুন্দরভাবে বেঁধে রাখা হয়। প্রয়োজনীয় আলো বাতাস পেতে নিয়োমিত পরিচর্যা করা হয়। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করার ফলে কোন কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। প্রতিটি ড্রাগন ফলের ওজন ২/৩শ গ্রাম হয়ে থাকে। তিনি জানায় বিঘা প্রতি ৭০/৮০ হাজার টাকা খরচ করে খুব কম সময়ে ১ থেকে দেড় লাখ টাকার ড্রাগনফল বিক্রি করা সম্ভব।

 চলতি মৌসুমের শুরুতে বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় লাভ হয়েছে অনেক। চৌগাছার প্রথম সফল ড্রাগন চাষী ইসমাইল হোসেন বলেন, তার ৯ বিঘা বাগানে চলতি মৌসুমে খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত বিক্রি করেছেন ৫০/৬০ মন ড্রাগন। যার বাজার মূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা। তিনি জানান তার বাগানে মাসিক বেতন ভুক্ত কর্মচারী রয়েছে ৮ জন, তাছাড়া প্রতিদিন ১০/১২ জন শ্রমিক কাজ করেন। এক সময় নিজের কর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন কোম্পানি ও সরকারের দপ্তরে দপ্তরে ধর্না দিয়েছি। বর্তমানে আমার আম, কুল, পিয়ারা ও ড্রাগন বাগানগুলোতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে কয়েকশ শ্রমিকের। তিনি বলেন, তার দেখাদেখি স্থানীয় আরো কয়েকজন চাষি ড্রাগন চাষ শুরু করেছেন। ক্ষেতে জৈব সার ব্যবহার করায় ফলের রং ও সাদ ভালো হয়েছে। যে কারণে ঢাকা থেকে ব্যবসায়িরা এসে ২০০/৩০০ টাকা কেজি দরে ড্রাগন কিনে নিয়ে যাচ্ছে। যে কারেণ ফল বিক্রি করতে কোনো ঝামেলা নেই।  উপজেলার তিলকপুর গ্রামের একছের আলীর ছেলে ইসমাইল। ৪ ভাই এক বোনের সবার বড় তিনি। ইসমাইলের ছোট বেলার শখ ছিল কৃষির উপর ব্যাতিক্রম কিছু করার। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০০ সালে লেখাপড়া শেষ করেন। লেখাপড়া শেষে ২০০৮ সালে চাকুরি নেন একটি মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিতে। এক সড়ক দুর্ঘটনায় তার ১ পা ভেঙ্গে যায়। অসুস্থতার কারণে চাকরি ছেড়ে দিতে হয়। দীর্ঘদিন বিছানায় পড়ে থাকার সময় ছোট বেলার চিন্তাটা মাথায় জেঁকে বসে। একটু সুস্থ্য হয়ে উন্নত জাতের ফল চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ে শুরু করেন আম, পিয়ারা, কুল, লেবু পরে ড্রাগন ফলের চাষ। এ ব্যাপারে উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম জানান ড্রাগন গাছের কার্টিং লাগাতে হয় অক্টোবর মাসে। এক বছর ছয় মাসের মাথায় মার্চ-এপ্রিল মাসে গাছে ফল আসতে শুরু করে। এ ফলটি দেখতে অনেকটা ক্যাকটাসের মত। আগস্ট-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গাছের ফল বিক্রি করা যায়। একবার লাগিয়ে সঠিক পরিচর্যা করলে একটানা ত্রিশ বছর ফল দেয়। 

এ ব্যাপারে চৌগাছা মডেল হাসপাতালের অবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আওরঙ্গজেব জানান ড্রাগন ফলে ক্যালোরি খুব কম থাকায় এ ফল ডায়াবেটিস ও হৃদরোগীদের জন্য ভালো। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও আয়রন রয়েছে। যে কারণে শরীরের চর্বি ও রক্তের কোলেস্টরেল কমানোসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে। এ বিষয়ে চৌগাছা উপজেলা কৃষি অফিসার কেএম শাহাবুদ্দীন বলেন, লাল জাতের ড্রাগন একটি অত্যান্ত সুস্বাদু ফল সরকার বিদেশে এ ফলটির রপ্তানির চেষ্টা করলে অবশ্যই সফল হতো। আর সে ক্ষেত্রে ড্রাগন চাষ হতো দেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় কৃষি খাত। চৌগাছা এলাকার মাটি ড্রাগন ফলের জন্য বেশ উপযোগী। এ কারণে কৃষকদের ড্রাগন চাষে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ