ঢাকা,মঙ্গলবার 13 November 2018, ২৯ কার্তিক ১৪২৫, ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

হাওরজুড়ে মানুষের নিরব হাহাকার

অনলাইন ডেস্ক: একের পর এক দুর্যোগে মারাত্মক বিপর্যয় নেমে এসেছে সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকায়। অর্থ সংকট আর খাদ্যাভাবে অনাহারে-অর্ধাহারে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে বিস্তীর্ণ এলাকার বহু পরিবার।

সংকট কাটাতে এখনই জরুরি ভিত্তিতে সরকারি-বেসরকারি সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করার তাগিদ দিচ্ছেন উন্নয়ন গবেষকরা। তবে পরিস্থিতি তুলে ধরে অতিরিক্ত ত্রাণ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে পত্র লিখেই নির্ভার জেলা প্রশাসন।

মেঘ, পাহাড় আর জলের এক অদ্ভুত মিতালীতে সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলের প্রকৃতি এখন এমনই অপরূপ।

এই নৈসর্গিক সৌন্দর্যের আড়ালেই যেনো লুকিয়ে আছে এ অঞ্চলের মানুষের চাপা কষ্ট। এপ্রিলের পাহাড়ি ঢলে এই থৈ থৈ জলে তলিয়ে গেছে ধানের ক্ষেত; এরপর পানিতে বিষক্রিয়ায় মরেছে মাছ, মরেছে হাঁস।

সবশেষ এ মাসের মাঝামাঝি সময়ের বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে বসতভিটাও। এখন নেই কোনো কাজ, নেই খাবার; সবমিলিয়ে নানামুখি সংকটে সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে হাওরের মানুষেরা।

সরকারি হিসাবেই, এবারের দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় সোয়া ৩লাখ পরিবার। এর মধ্যে সরকারি ত্রাণ সহায়তার আওতায় মাসে ৩০কেজি চাল ও ৫শ' টাকা করে পাচ্ছে দেড় লাখের কিছু বেশি পরিবার। বাকি দেড় লাখ পরিবার পাচ্ছে না কিছুই।

অভাবী মানুষের নিরব হাহাকার এখন হাওরজুড়েই। শনির হাওর, হালির হাওর ও টাঙ্গুয়ার হাওরসহ এ অঞ্চলের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে জেঁকে বসেছে ক্ষুধা। শিশু থেকে বৃদ্ধ প্রতিটি মানুষের চোখেমুখেই যেনো অসহায়ত্বের ছাপ। প্রতিটি কণ্ঠ থেকেই যেনো ঝরে পড়ছে কষ্ট।

হাওরের মানুষকে এই মানবিক বিপর্যয় থেকে রক্ষার জন্য সরকারকে আরো বেশি তৎপর হওয়ার দিচ্ছেন হাওর গবেষকরা।

সংকটের বিষয়ে অবগত জেলা প্রশাসনও। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানালেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।

হাওরে খাদ্যের অন্যতম উপাদান মাছ। মড়কের কারণে তাও আশঙ্কজনকহারে কমে গিয়ে তীব্র করে তুলেছে সার্বিক সংকটকে।-সময়টিভি

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ