ঢাকা, শনিবার 26 August 2017, ১১ ভাদ্র ১৪২8, ০৩ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মাগুরায় ৫টি কাঁচা সড়কের উন্নয়ন নেই ১৭ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

মাগুরা থেকে ওয়ালিয়র রহমান: মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের দশটি গ্রামের ৫০ হাজার মানুষের চলাচলের প্রায় ১৬ কিলোমিটারের পাঁচটি কাচাঁ রাস্তার বেহাল দশায় জনগণের  চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। 
গ্রামগুলি মাগুরা-২ সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত। আর এখানকার সংসদ সদস্য যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এড. বীরেন শিকদার হলেও এর কোন উন্নতি নেই।
গ্রামের বাসিন্দারা জানান, গ্রামের এসব গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা সড়ক বর্ষাকাল এলেই চলাচলের সম্পূর্র্ণ অযোগ্য হয়ে পড়ে। এ কারণে প্রতি বছর জনগণকে দুর্ভোগের শিকার হয়ে পড়তে হয় । রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নিতে,  উৎপাদিক কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে যারপর ন্যায় কষ্ট করতে হয়। এ সময় স্কুলে কমে যায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি। কাদার যন্ত্রণায় স্থানীয় বাজারের অনেক ব্যবসায়ী দিন শেষে বাড়ি  যেতে পারেনা। 
 বিকল্প না থাকায় গ্রামের বাসিন্দাদের এই কাদা মাড়িয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হয়। বছরের পর বছর ধরে মানুষ চলাচলের অনুপযোগী এসব সড়ক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে তারা ধর্ণা দিয়েও কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না বলে জানান।
 দেখা গেছে, মহম্মদপুর উপজেলা সদর থেকে পাকা রাস্তা ধরে তিন কিলোমিটার গেলেই বালিদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন। প্রধান সড়ক থেকে গ্রামের মধ্যে যাওয়া অধিকাংশ সড়কই কাঁচা। এসব সড়ক বর্ষাকালে সম্পূর্ণ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
 বেহাল এ সড়কগুলো হচ্ছে, বড়রিয়া বাবু মোল্যার বাড়ির ব্রীজ হতে মৌশা গুচ্ছ গ্রাম হয়ে নিখড়হাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৩ কিলোমিটার। বড়রিয়া নতুন বাজার হতে মৌশা আদর্শ গ্রাম হয়ে নিখড়হাটা হাফেজিয়া মাদ্রাসার পাশ দিয়ে ছোট কলমধারী ৪ কিলোমিটার।
বালিদিয়া শিকাদার মোড় থেকে নিখড়হাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে গোলাবাড়ি মৌশা হয়ে কানুটিয়া বাজার ৫ কিলোমিটার। বালিদিয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যন পান্নু মোল্লার বাড়ির সামনে থেকে ঘোষপুর মোড় হয়ে মৌশা মোল্লা পাড়া পর্যন্ত ২ কিলোমিটার এবং বড়রিয়া মেলা এলাকা থেকে নিখড়হাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২ কিলোমিটার রাস্তা।
এসব সড়ক দিয়ে ধোয়াইল, বড়রিয়া, নিখোড়হাটা, বালিদিয়া, শ্রীপুর, ছোটকলমধারী, মঙ্গলহাটা, মৌলী, চাবিনগর, গোপিনাথপুর, কাওড়া, চাপাতলা, কানুটিয়া, মাইজপাড়া, ঘোষপুর, আউনাড়া ও যশপুরসহ আশপাশের এক লাখের বেশি মানুষ চলাচল করেন। এসব গ্রামের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ের দশটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার   শিক্ষার্থীরা এসব সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনেও গ্রামের মানুষ এই সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করে। কয়েক হাজারহেক্টর কৃষি জমির  উৎপাদিত ধান পাটসহ বিভিন্ন ফসল এসব সড়ক দিয়ে কৃষকের আঙিনায় আনতে হয়। অথচ সড়কগুলো উন্নয়নে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এসব গ্রামের অর্ধেকের বেশী লোক কৃষিকাজ করেন। অন্যান্যরা ব্যবসায় ও চাকরির সাথে জড়িত। তাদের প্রতিদিন চলাচল করতে হয় খুব কষ্ট করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ