ঢাকা, শনিবার 26 August 2017, ১১ ভাদ্র ১৪২8, ০৩ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রাজশাহী বিভাগে নদীগর্ভে ১১টি বিদ্যালয় ॥ ক্ষতিগ্রস্ত ৬৬৮টি

বিশেষ প্রতিনিধি, রাজশাহী : এবারের বন্যায় রাজশাহী বিভাগে এ পর্যন্ত ৬৬৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যা কবলিত হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানি প্রবেশ করেছে ৫৪৭টিতে। সবমিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ ৮ কোটি ৩৮ লাখ ২৮ হাজার ৫১৪ টাকা।
রাজশাহী বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, বন্যা দুর্গতের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ১১০টি বিদ্যালয়। তাদের দাবি, এগুলোর পুনর্বাসন প্রস্তুতি চলছে। বন্যার পানি নামলেই শুরু হবে এ কার্যক্রম। বিভাগের আট জেলার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় শীর্ষে আছে নওগাঁ। সেখানকার ১৪৮ বিদ্যালয় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীগর্ভে চলে গেছে জেলার একটি বিদ্যালয়। পাঠদান বন্ধ রয়েছে ১৬০টিতে। ৫০টি বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। জেলার বিদ্যালয়গুলো সংস্কারে খরচ হবে ৩ কোটি ৩৫ লাখ ৫ হাজার টাকা। বন্যায় সিরাজগঞ্জের ২৬০ বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাঠদান বন্ধ রয়েছে বন্যা কবলিত ১৩৯টি বিদ্যালয়ে। নদীগর্ভে চলে গেছে জেলার ৮টি বিদ্যালয়। এছাড়া আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে ৩২টি। এসব বিদ্যালয় চালুর উপযোগী করতে ব্যয় হবে ২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। বগুড়ার ১১০ বিদ্যালয় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে নদীগর্ভে গেছে দুটি বিদ্যালয়। পানিবন্দি হয়ে পড়ায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে ৭৬টির। এছাড়া আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে ১০টি। সবমিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ এক কোটি ১৫ লাখ ২৪ হাজার টাকা। বন্যায় নাটোরের ৭৯টি বিদ্যালয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৫৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। জলমগ্ন হয়ে পড়ায় এখানকার ১৩টি বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে ৬টি। পাবনার ৩৯টি বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৫৩ লাখ ১০ হাজার ৪০০ টাকা। ১৯টি বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। বন্যা কবলিত চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৩টি বিদ্যালয় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে ১১টির। ১১টিতে আশ্রয় নিয়েছে বন্যা কবলিতরা। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৭০ হাজার। বন্যায় জয়পুরহাটের ছয়টি এবং রাজশাহীর ৩টি বিদ্যালয় প্লাবিত হয়েছে। এতে এ দুই জেলায় ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ৬ লাখ টাকা করে। শিক্ষা দফতরগুলো জানিয়েছে, বন্যা কবলিত বিদ্যালয়গুলোয় ক্ষতির ধরন প্রায় একই। তবে কোথাও কোথাও পলি পড়েছে বিদ্যালয় আঙিনায়। কোথাও আবার ভূমি ক্ষয়ে গেছে। দেয়াল স্যাতসেতে হয়ে খসে পড়েছে পলেস্তারা। দরজা-জানালা এবং আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শৌচাগার ও নলকূপ নষ্ট হয়ে গেছে বন্যায়। বিদ্যালয়গুলো সংস্কারে খরচ হবে ৮ কোটি ৩৮ লাখ ২৮ হাজার ৫১৪ টাকা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ