ঢাকা, শনিবার 26 August 2017, ১১ ভাদ্র ১৪২8, ০৩ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রামে কুরবানীর পশুর হাট এখনো জমে উঠেনি

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রামে কুরবানীর পশুর হাট এখনো জমে ওঠেনি। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত ট্টাক গরু ছাগল আসছে। নগরীতে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে নয়টি পশুর হাট রয়েছে। ক্রেতারা হাটে আসছে কম। যারা আসছে তারা পশুর দাম পরখ করে  যাচ্ছে। বড় গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে আকাশচুম্বী। আগামীকাল রোববার থেকে হাটগুলো জমজমাট হবে বলে ব্যবসায়ীরা আশা করছে।
গত শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরীর বৃহৎ গরুর হাট সাগরিকা ঘুরে জানা যায়, হাটে প্রচুর গরু এসেছে এবং প্রতিদিন উত্তরবংগের পাবনা, কুষ্টিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ট্টাকযোগে আরো গরু আসছে। বেশি আমদানি হচ্ছে ষাড়। বলদ গরুও আসছে। ইতিমধ্যে মাঝারি ও বড় গরু এসে পৌঁছেছে। বাজারে বড় গরুগুলো আসে প্রধানত কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী ও দিনাজপুর থেকে।
কুষ্টিয়ার বিভিন্ন গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্পের এ গরু গুলো বেপারিরা কিনে এখানকার বাজারে নিয়ে আসেন। তবে এবার উত্তরবঙ্গ ছাড়াও মিয়ানমারের কিছু গরুও এসেছে। দক্ষিণ চট্টগ্রাম থেকেও ট্রাকে করে গরু আসছে। গৃহস্থের এসব গরু আরো কয়েকদিন ধরে বাজারে আসবে।
সাগরিকা গরুর বাজারের আশেপাশেও গরুর হাট বসেছে। হাটগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে। হাটে কথা হয় বিভিন্ন জেলার গরু ব্যবসায়ীদের সাথে। কুষ্টিয়ার বেপারী বাতেন মোল্লা এবারও প্রতিবারের ন্যায় বড় বড় বলদ গরু ও ষাড় এনেছেন। দাম হাকছেন বেশী। তার দুটো সাদা ষাড়ের দাম হেকেছেন ১০ লাখ টাকা। মাঝারি আকৃতির ষাড়ের দাম হাকছেন ৩ লাখ টাকা করে। বড় বলদ গরুর দাম হাকছেন ৪ লাখ টাকা করে। কুষ্টিয়ার আরেক বেপারী আবু তালেব বড় বড় বলদ গরু এনেছেন। তিনি প্রতিটি গরুর দাম হাকছেন ৪ লাখ টাকা করে।
 বেপারীরা জানান, এবার প্রচন্ড গরম অনুভূত হচেছ। সাগরিকা গরুরহাটে জায়গা কম। আশে পাশের বিভিন্ন গুদামে তুলতে হচেছ বিধায় গরু অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
এদিকে অভিযোগ পাওয়া গেছে, বেপারিরা বাজারে গরু নিয়ে আসার আগেই নগরীর প্রবেশমুখসহ নানা জায়গায় চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। চাঁদা দিতে হচ্ছে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের। আর তা চলছে গোপনেই। আর এই গোপন চাঁদাবাজিতে গরু বেচাকেনা শুরু হওয়ার আগেই একটা বড় খরচের ধাক্কায় পড়ছেন বেপারিরা। তারা বলছেন, এর প্রভাব পড়বে গরুর দামে। বেপারিদের অভিযোগ, উত্তরবঙ্গ থেকে চট্টগ্রামে আসতে একেকটি ট্রাককে ১০ থেকে ১২ জায়গায় চাঁদা দিতে হচ্ছে। এ কারণেই তারা বাজার জমে উঠার আগেই গরুর দাম চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন। শুধুমাত্র চাঁদাবাজির কারণে গরুর সরবরাহ বাড়লেও দাম বেশি পড়বে বলে জানিয়েছেন অধিকাংশ বেপারিরা।
সাগরিকা হাটে কথা হয় আগত ক্রেতাদের সাথে। তারা জানান, বড় গরুতে মেডিসিন দেয়া হয় তাই তারা মাঝারী ও ছোট গরুর দিকে নজর দিচেছন। হাটে প্রচুর গরু আছে। দেখেশুনে দরদামে ঠিক হলে কাল পরশুর দিকে গরু কিনবেন।
এ ছাড়া নগরীর বিবিরহাট, নুরনগর মাঠ, সল্টগোলা, স্টিলমিল, কমল মহাজনহাট ও পতেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ভিড় বাড়ছে বেপারিদের। এদিকে ধনিয়ালাপাড়া আসমা খাতুন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বসবে ছাগলের হাট। নগরের বাইরে বড় পশুর হাট বসছে হাটহাজারী উপজেলার ফতেয়াবাদ ও সাতকানিয়া উপজেলার কেরানিহাটে।
কর্ণফুলী থানা এলাকার মইজ্জারটেকের বেপারী পেয়ারু এ প্রতিবেদককে জানান, উওর বংগে বন্যার কারণে সেখান থেকে আসা গরু অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বেশ কিছু গরু মারা গেছে। তবে চট্টগ্রামে স্থানীয় খামারগুলোতে প্রচুর গরু আছে। তা সত্বেও গরুর দাম কমবেনা।
এদিকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর হাট, ঈদের জামাত, চামড়া বিক্রিসহ বিভিন্ন কাজে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে থানা ও ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যদের বাইরে অতিরিক্ত দুই হাজার পুলিশ সদস্য মাঠে থাকবে বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশ কমিশনার মো. ইকবাল বাহার। মঙ্গলবার দুপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পশু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের বিফ্রিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি। পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার ব্রিফিংয়ে জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা পৃথকভাবে ঈদের আগের পশুর হাট, বাস-রেলওয়ে স্টেশন ও লঞ্চঘাট এবং ঈদের জামাত, ঈদের পরে চামড়া বিক্রি ও বিনোদন পার্কে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করবেন। এই অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ৪০০ জন পশুর হাটে, ২০০ জন বাস-রেলওয়ে স্টেশনে, ঈদের জামাতে ৬০০ জন এবং চামড়া বাজার কেন্দ্রীক নিরাপত্তায় ৪০০ জন থাকবেন। এছাড়াও প্রতিটি পশুর হাটে আমাদের একটি কন্ট্রোল রুম থাকবে। পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। সিটি করপোরেশন পশুর হাটের জন্য যে চৌহদ্দি ঠিক করে দিয়েছে এর বাইরে পশু বিক্রির জন্য বসানো যাবে না। এছাড়া যে হাটে পশু বিক্রি করতে আগ্রহী, সেই হাটে ট্রাকে করে পশু নিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাকের সামনে ওই পশুর হাটের নাম লিখে দিতে হবে। তিনি বলেন, অনেকে নিজেদের হাটে পশু নামানোর জন্য বিভিন্ন পশুবাহী গাড়িকে পথে আটকিয়ে ফেলেন, টানা হেঁচড়া করেন, এরকম কোনো কিছু হলেই আমরা ব্যবস্থা নেব। জাল টাকা চিহ্নিত করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বুথ থাকবে। পাশাপাশি সেখান থেকে টাকা উঠানো, জমা দেওয়া যাবে। এছাড়া প্রতিটি পশুর হাটে কোন পশুর জন্য কতো হাসিল নির্ধারণ করা হয়েছে তা হাটের একাধিক স্থানে প্রকাশ্যে টাঙিয়ে রাখতে হবে। এসব নিরাপত্তা জোরদারের জন্য আমাদের অতিরিক্ত ৪০০ পুলিশ সদস্য পশুর হাটে নিয়োজিত থাকবেন।
গরুর হাটে চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে পুলিশ কমিশনার জানান, গরুর হাট নিয়ে কোন চাঁদাবাজই বরদাশত করা হবে না। কিন্তু কোন ইজারাদার কিংবা বেপারি পুলিশকে সরাসরি অভিযোগগুলো জানায় না। চাঁদাবাজরা তাই গোপনেই চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে।
সভায় অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) দেবদাস ভট্টাচার্য, অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) সালেহ মোহাম্মদ তানভীর, অতিরিক্ত কমিশনার (অর্থ ও প্রশাসন) মাসুদ- উল- হাসানসহ বিভিন্ন জোনের উপ-কমিশনার ও বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ