ঢাকা, শনিবার 26 August 2017, ১১ ভাদ্র ১৪২8, ০৩ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ধর্মমন্ত্রীর অনুমোদনে হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সাংবাদিক সম্মেলন!

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট বলেছে, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর পর্যবেক্ষণগুলো রিভিউ করে বর্তমানে বিরাজমান উত্তপ্ত অবস্থার নিষ্পত্তি সম্ভব। গতকাল শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা বলা হয়। তবে সাংবাদিক সম্মেলন করতে ধর্মমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ হয়েও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দাক্ষিণ্যে বিশেষ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত বিচারপতি সিনহা যে সুযোগ পেয়েছিলেন, তিনি তার সম্মান রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন। বিপুল বিরোধিতা ও দুর্বলতা সত্ত্বেও জননেত্রী শেখ হাসিনা অনুগ্রহ করে তাঁকে প্রধান বিচারপতি করে যে ঔদার্য দেখিয়েছিলেন, বিচারপতি সিনহা তার মর্যাদা রক্ষা করতে পারেননি, যা নিঃসন্দেহে দুর্ভাগ্যজনক বলে সাধারণের বিশ্বাস।
সব মহলকে নিজ নিজ দায়িত্ব, অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, আশা করা যায়, জাতির কপালে যে অবাঞ্ছিত কলঙ্ক লেপন করা হয়েছে, তার সম্মানজনক নিষ্পত্তি হবে।
হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান বিচারপতি গৌর গোপাল সাহা সাংবাদিক সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। তাঁর পক্ষে ট্রাস্টি রিপন রায় লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিচারপতি সিনহার নানাবিধ অপ্রাসঙ্গিক বিচারবহির্ভূত কর্মকা-ের বিরুদ্ধে আজ সর্বস্তরের মানুষ সোচ্চার হয়ে নিন্দা জানাচ্ছেন। সাবেক প্রধান বিচারপতি, বরেণ্য রাজনীতিবিদ ও মুক্তমনা বিজ্ঞজনেরা এসব অবাঞ্ছিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ধিক্কার জানাচ্ছেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পদত্যাগের আহ্বান জানাচ্ছেন।
ষোড়শ সংশোধনীর ওপর আপিল বিভাগের শুনানিকালে মাননীয় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা মূল বিচারিক বিষয়ের বাইরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক অবদান কটাক্ষ করে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর।
এই সাংবাদিক সম্মেলন সরকারের কোনো মহলের চাপে করা হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বিচারপতি গৌর গোপাল সাহা বলেন, সরকারের কোনো চাপে এই সাংবাদিক সম্মেলন করছি না। তবে এই সম্মেলন করার বিষয়ে ধর্মমন্ত্রীর অনুমোদন নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিচার বিভাগ, প্রশাসনিক বিভাগ ও আইন বিভাগ একে অন্যের পরিপূরক। অথচ এমনও দেখা যায়, যেন এক বিভাগ আরেক বিভাগের প্রতিপক্ষ।
সাংবাদিক সম্মেলনে কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষে স্বপন কুমার রায়, চন্দন রায়, উজ্জ্বল প্রসাদ, নির্মল পাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ