ঢাকা, শনিবার 26 August 2017, ১১ ভাদ্র ১৪২8, ০৩ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনায় সেবিকা সুমির মৃত্যুতে কথিত প্রেমিকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীতে অবৈধ গর্ভপাতকালে সেবিকা ফারজানা আক্তার সুমি (২৩)’র মৃত্যুর ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সুমির পিতা ইছাবুর গোলদার বাদী হয়ে কথিত প্রেমিক (বিজিবি সদস্য) মুরাদ শেখ, ঐশী থেরাপির মালিক এস এম আকাশ ও তার স্ত্রী (অজ্ঞাত)’র বিরুদ্ধে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। বুধবার সন্ধ্যায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সুমির মৃত্যু হয়। আসামীরা পলাতক থাকায় এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
ফারজানা আক্তার সুমি ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ শাখায় কর্মরত ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার পিতা ইছাবুর গোলদার। তিনি বটিয়াঘাটার কাতিয়ানাংলা গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী থেকে জানা গেছে, ‘ফারজানা আক্তার সুমি নগরীর ডক্টরস্ পয়েন্টে সেবিকা থাকাকালে বটিয়াঘাটার গড়িয়াডাঙ্গার আব্দুল মজিদ শেখের ছেলে বিজিবি সদস্য মুরাদ শেখের সাথে প্রেম সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। সুমি বিভিন্ন সময়ে মুরাদ শেখকে বিয়ের জন্য চাপ দিতো। যা উভয় পরিবারে কমবেশি সবাই জানতো। মুরাদ শেখ ছুটিতে এসে সুমির সাথে বিভিন্ন ভাবে মেলামেশার এক পর্যায়ে গর্ভে সন্তান আসে। তখনও মুরাদ শেখ নানান তালবাহানা করতে থাকে। গত সোমবার মুরাদ শেখ সিদ্ধান্ত নেয় সুমির গর্ভপাত করাবে। সে জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিপরীতে মাদরাসা রোডের ঐশী ফিজিও ফেরাপী সেন্টারে নিয়ে যায়। এ সেন্টারের ফিজিওথেরাপিস্ট এস এম আকাশ অপারেশন করবে বলে জানতে পারি। বিষয়টি জানতে পেরে আমি প্রতিবাদ করি। সেখানে গিয়ে আমি বলি-আগে বিয়ে করতে হবে, পরে অপারেশন। এক পর্যায়ে মুরাদ শেখের সাথে এক লাখ টাকা কাবিনে তড়িঘড়ি করে তাদের বিয়ে দেই। একই সাথে গর্ভপাত না করতে অনুরোধ করি তাদের। কিন্তু মুরাদ শেখ ও  তার আপন মামা ফিজিওথেরাপিস্ট এস এম আকাশের যোগসাজসে সুমির অপারেশন করা হয়। কিন্তু রক্ত বন্ধ করতে পারছিল না। একপর্যায়ে গত মঙ্গলবার বিকেলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনী বিভাগে সুমিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সুমি মারা গেছে। মুরাদ শেখ দিনাজপুরস্থ বিজিবি ২০ সিপাহী পদে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
সোনাডাঙ্গা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মমতাজুল হক জানান, আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ