ঢাকা, রোববার 27 August 2017, ১২ ভাদ্র ১৪২8, ০৪ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আগামী নির্বাচন অবশ্যই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে

 

# একটা রায় নিয়ে প্রধান বিচারপতির সাথে শাসকদলের বৈঠকের দৃষ্টান্ত কোথাও নাই--মওদুদ

 

স্টাফ রিপোর্টার: দেশে আবারো একদলীয় শাসন ব্যবস্থা (বাকশাল) প্রবর্তন করতেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে বিষোদাগার করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শনিবার সকালে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে বিএনপি মহাসচিব এই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে আওয়ামী লীগ যে ধরনের কথা-বার্তা বলছে এবং তারা যে কার্যক্রম করছে- আমি মনে করি তা আইনের শাসনের বিরোধী ও আদালত অবমাননার শামীল। তাদের প্রত্যেকটি নেতা প্রধান বিচারপতিকে লক্ষ্য করে যে অশ্লীল ভাষায় কথা-বার্তা বলছেন, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তারা কথাবার্তা বলছেন। এটার মাধ্যমে আদালত অবমাননা করা হচ্ছে। মির্জা ফখরুল বলেন, এর উদ্দেশ্য হচ্ছে একটাই, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নষ্ট করে দিয়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা। যেটা এদেশের মানুষ কখনোই মেনে নেবে না।

 ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর্যবেক্ষণের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের ক্ষমতায় থাকার বৈধ্যতার প্রশ্ন তুলে অবিলম্বে তাদের (সরকার) পদত্যাগ করা উচিত বলে মনে করেন বিএনপি মহাসচিব। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর বিএনপি যে স্বপ্ন দেখেছিলো সেটি উল্টে গেছে- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ যে কথাবার্তা বলছেন তারা নিজেই জানেন না, তারা কি বলছেন। মূল বিষয়টা হয়েছে যে, এই রায়ের মাধ্যমে তাদের যে আসল চেহারা, দেশ কিভাবে চলাচ্ছে, সরকারের আসল চেহারা সেটা পরিষ্কার বেরিয়ে গেছেন। জনগণ সেটা বুঝে গেছে। এই কারণে তারা এই সমস্ত অমূলক কথাবার্তা বলছেন।

নির্বাচন কমিশনের চলমান সংলাপ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) তার বক্তব্যেই বলে দিয়েছেন, এই সংলাপে খুব একটা ফল পাওয়া যাবে না। কারণ এই সংলাপকে তারা বলেছেন যে, সবাইকে নির্বাচনে আনা এটা তাদের দায়িত্ব নয়। এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো সংলাপ হচ্ছে না, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ হচ্ছে। এখানে মূল যে সংকট রয়েছে, সেই সংকট সমাধানে এটা কোনো কাজ করবে না। অর্থাৎ সহায়ক সরকারের যে ব্যাপার এবং নির্বাচনকালীন সময়ে যে একটি নিরপেক্ষ সরকারের যে বিষয়টি সামনে এসে দাঁড়িয়েছে সেটার বিষয়ে কোনো সমাধান দেবে না। তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার ছাড়া দেশে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। এছাড়া আগামী নির্বাচন অবশ্যই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে কোনো রাজনৈতিক দল তাতে অংশ নেবে না এমনকি দেশে কোনো নির্বাচন হতেও দেয়া হবে না।

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে রায় নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের আলোচনার বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া বিএনপিরন স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, এটা কোনোদিন জীবনেও শুনিনি যারা প্রশাসনে আছেন, দেশ শাসনে যারা আছেন, কোনো একটা রায় নিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলাপ করা- এটা কোনো দৃষ্টান্ত বোধহয় কোথাও নাই। সুতরাং এটা বলতে হবে যে, তারা বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করার জন্য চেষ্টা করছেন ও প্রধান বিচারপতিকে প্রভাবিত করার জন্য চেষ্টা করছেন। এটা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক, এটা তারা যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য এটি একটি অত্যন্ত কলঙ্ক বলে মনে হবে।

গতকাল সকাল ১১টায় সদ্য কারামুক্ত দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুকে নিয়ে বিএনপি মহাসচিব শেরে বাংলানগরে অবস্থিত দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে যান এবং নেতা-কর্মীদের নিয়ে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে বিশেষ মোনাজাত করেন।

এ সময়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবউন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মীর সরফত আলী সপু, মহানগরের কাজী আবুল বাশার, আহসানউল্লাহ হাসান, যুব দলের সাইফুল আলম নিরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মামুন হাসান, এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, গোলাম মাওলা শাহিন, ছাত্র দলের আকরামুল হাসান, স্থানীয় নেতা মঞ্জুরুল আজিম সমুন, মাহফুজুল হক জাবেদ, মাসুদ রানা, আমির হোসেনসহ কয়েক হাজার নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

তিন মাস কারাভোগের পর উচ্চ আদালতের জামিনে গত ১৮ আগস্ট বরকত উল্লাহ বুলু ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। গত ১৮ মে নাশকতার ১৩ মামলায় বুলু আত্মসমর্পণ করলে জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠায় আদালত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ