ঢাকা, রোববার 27 August 2017, ১২ ভাদ্র ১৪২8, ০৪ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার  ফেরাতে রাজপথে নামতে হবে

 

 *ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে গুম খুনের চিত্র ফুটে উঠেছে ---খন্দকার মাহবুব

*ন্যায়বিচার ছাড়া গণতন্ত্র আসে না ---ডা.জাফরুল্লাহ

*দেশে গণতন্ত্র মুক্ত না হলে আমার দেশ মুক্ত হবে না ---মাহমুদুর রহমান

*সরকার পতন আন্দোলনের এখনই সময় --- মেঃ  জেঃ(অবঃ) ইব্রাহিম

*মন্ত্রীরা প্রতিদিন আদালত অবমাননাকর বক্তব্য দিচ্ছেন ---রুহুল আমিন গাজী

 

স্টাফ রিপোর্টার: দৈনিক আমারদেশ পত্রিকার ভারপ্রাাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, এই ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে না পারলে দেশের জনগণ আর ভোটাধিকার ফিরে পাবে না। গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ফিরাতে রাজপথে নামতে হবে। অধিকার আদায়ে জেল জুলুম মেনেই রাজপথে নামতে হবে।

গতকাল শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে দৈনিক আমারদেশসহ বন্ধ মিডিয়া খুলে দেয়ার দাবিতে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

আমারদেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের(ডিআইজে) সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তৃতা করেন, সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি, প্রখ্যাত আইনজ্ঞ এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, সাবেক সচিব ইঞ্জিনিয়ার আনহ আক্তার হোসেন, বিএফইউজের মহাসচিব এম আব্দুল্লাহ,সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব এমএ আজিজ, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম রিজু, কৃষিবিদ নেতা শামীমুর রহমান শামীম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক ইলিয়াস খান, সাংবাদিক আবদুল আউয়াল ঠাকুর, কাজিম রেজা, ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু প্রমুখ। 

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ত্রয়োদশ সংশোধনীর রায় আওয়ামীলীগের আঁতে ঘা লেগেছে। তাদের দুর্নীতি, লুটপাট, হত্যা, গুমের অবৈধ শাসনের চিত্র এতে ফুটে উঠেছে। সরকারি দলের নেতা ও তাদের মন্ত্রীরা প্রধান বিচারপতিকে আক্রমণ করে যেসব অশালীন বক্তব্য রাখছেন তাতে প্রতিদিন তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা হয়।

 তিনি বলেন, সুপ্রীমকোর্ট ন্যায়বিচারের শেষ আশ্রয়স্থল। তার ওপর যদি আঘাত আসে তাহলে বাংলার মানুষ রুখে দাঁড়াবে। তিনি বলেন আপনারা রাষ্ট্রের সব স্তম্ভ ধ্বংস করেছেন, বিচার বিভাগের ওপর হাত দেবেন না। 

আমার দেশ এর প্রেস অবিলম্বে খুলে দেয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সত্য লেখা এবং সরকারের অপকর্ম তুলে ধরার কারণেই এ পত্রিকাটির ওপর সরকারের এত আক্রোশ। তিনি আমার দেশ ও মাহমুদুর রহমানের পাশে সবাইকে দাড়ানোর আহ্বান জানান। 

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সুিপ্রম কোর্টের বিবেক জাগ্রত হয়েছে। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার ছাড়া গণতন্ত্র আসে না। গণতন্ত্রের জন্যে আজ বিচার বিভাগকে ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রী, নেতা সবাই আজ মানহানিকর বক্তব্য দিচ্ছেন, আদালত অবমাননা করছেন। আদালত কি এসব দেখেন না? তিনি অবিলম্বে আমার দেশ সহ বন্ধ মিডিয়া খুলে দেয়ার দাবি জানান।

তিনি আরও বলেন,আদালত অবমাননার দায়ে মাহমুদুর রহমান প্রায় ১০ মাস জেল খেটেছেন। অথচ এখন প্রতি দিনই মন্ত্রী/এমপিরা আদালত অবমাননা করছেন। তাহলে প্রধান বিচারপতির উচিত হবে মাহমুদুর রহমানের কাছে ক্ষমা চাওয়া। তাহলে বুঝবো তিনি বড় মনের মানুষ। 

মাহমুদুর রহমান বলেন, সরকার ও সংসদ যে অবৈধ জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল করে এই সরকার তা প্রমাণ করেছে। তিনি বলেন, সরকারের মন্ত্রীরা যে বক্তব্য দিচ্ছেন তাতে প্রতিদিন আদালত অবমাননা হচ্ছে। তিনি গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে আমার দেশকেও মুক্ত করার আহ্বান জানান।

 তিনি বলেন, আমি আদালত অবমাননার মামলায় বিনা অপরাধে ১০ মাস জেল খেটেছি। সেদিন বিচারকের আসনে ছিলেন এই এস কে সিনহা। আমি তার কাছে আরজি করেছিলাম যে আমি আদালত অবমাননা করিনি। আমি বাস্তব অবস্থা লিখিছি মাত্র। সেদিন তারা বলেছিল আপনার সপক্ষে দেয়া বক্তব্যও আদালত অবমাননা।

তিনি আরও বলেন, দেশের গণতন্ত্র মুক্ত না হলে আমার দেশ কোনভাবেই মুক্ত হবে ন্ াএটা আমি ভাল করেই বুঝি। আমি রাজপথে আন্দোলনের নামতে রাজি আছি। আন্দোলন ছাড়া এই সরকারের পতন হবে না। আমি  বিশ^াস করি এই হাসিনা সরকার কোন দিনই সেচ্ছায় ক্ষমতা ছাড়বে না। আমাদের অধিকার আমাদেরই আদায় করতে হবে।

 মেজর জেনারেল (অবঃ) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের দূরদর্শীতা আজ বেশি প্রয়োজন। ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে ট্রানজিট নিয়ে যে চুক্তি করেছে, আমার ভয় হয় সিকিমের অবস্থা এখানেও হয় কি না।

তিনি বলেন,আমাদের এখন সজাগ হতে হবে। নতুন প্রজম্মকে এগিয়ে আসতে হবে। রাজপথে ঐক্যবদ্ধভাবে নামতে হবে। তা না হলে এই সরকার কোন দিনই বিদায় নেবে না। সরকার পতনের আন্দোলনের এখনই সময়।

 রুহুল আমিন গাজী বলেন, আদালত অবমাননার আইনটি যেনো সরকারের প্রভাবশালীদের জন্য নয়, শুধু মাহমুদুর রহমানের জন্যে। মন্ত্রীরা প্রতিদিন আদালত অবমাননামূলক বক্তব্য রেখে যাচ্ছেন। অথচ আদালত আজ চুপ।

তিনি বলেন,পুলিশ আজ ঘরে বসেও মিটিং করতে দেয় না। অথচ বলছে দেশে নাকি গণতন্ত্র আছে। এটি কিসের গণতন্ত্র আমার বুঝে আসে না। দেশের গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে এখনও রাজপথে আন্দোলনের নামতে হবে। 

তিনি আরও বলেন সরকার গায়ের জোরে আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ করে রেখেছে। আমার দেশ খুলতে হলে,মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে এবং গণতন্ত্র ফিরাতে হলে এই সরকারের পতন ঘটাতে হবে। তা না হলে মন্ত্রী এমপি হওয়ার স্বপ্ন  দেখে কোন লাভ হবে না।

উল্লেখ্য আমার দেশ প্রেস তালাবদ্ধ করে পত্রিকাটি বন্ধ করে রাখার চার বছর চার মাস অতিবাহিত হচ্ছে। দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি, চ্যানেল ওয়ানসহ অসংখ্য মিডিয়া বন্ধ করায় শত শত সাংবাদিক কর্মচারী আজ বেকার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ