ঢাকা, রোববার 27 August 2017, ১২ ভাদ্র ১৪২8, ০৪ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কুয়াকাটায় পৌর শহরে অনুমোদন বিহীন বহুতল ভবন নির্মাণ॥ কর্তৃপক্ষ নীরব

 

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা : পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় অনুমোদন বিহীন বহুতল ভবন নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। এসব বহুতল ভবন নির্মাণ করতে পৌর কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসক অথবা কুয়াকাটা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেয়ার বিধান থাকলেও তা শুধু কাগজ কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদনের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা ও হয়রানির কারণে বিনিয়োগকারীরা অনুমোদন না নিয়েই যত্রতত্র বহুতল ভবন নির্মাণ করছে নিজের খেয়াল খুশি মত। ভবন নির্মাণকারীদের কারও কারও বিরুদ্ধে সরকারি খাল ও খাস জমি দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ থাকলেও তদারকির অভাবে অবৈধ দখল রোধ করা যাচ্ছে না। উল্টো দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অলিখিতভাবে কাজ করার এক প্রকার বৈধতা দিয়ে যাচ্ছেন। সরকারের স্বার্থ সংরক্ষণ না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরব ভূমিকায় জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছেন। কুয়াকাটা পৌরসভায় যেমন খুশি তেমন চলছে বেসরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম। সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, বর্তমানে কুয়াকাটা পৌর এলাকার মধ্যে প্রায় ২৫টি বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। কোন কোন ভবন নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও একটি ভবনেরও অনুমোদন নেই। এদের মধ্যে কুয়াকাটা মহাসড়ক ও ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের বাড়ির সামনে বাচ্চু মোল্লা, এবায়দুল হক, এ্যারাবিয়ান প্যালেস সহ ৩টি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে সরকারি খাল খাস দখল করে। খালের পাড় দখল করে ভবন নির্মাণকৃত ওই জমি এস এ রের্কডে ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত থাকলেও বিএস জরিপে দখলকারীদের নামে রেকর্ড করে দেয়া হয়েছে। কাগজপত্রে কোন বৈধ মালিক না থাকলেও শুধু মাত্র দখল সূত্রে বিএস জরিপের মালিকানা অযুহাত দেখিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তারা কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। যার ফলে বেহাত হয়ে যাচ্ছে এসব সরকারি জমি। ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের বাড়ির সামনে ঢাকার বিনিয়োগকারী র্গামেন্টস ব্যবসায়ী এবায়দুল হক অনুমোদন বিহীন প্রায় সত্তর ফুট লম্বা ১টি বহুতল ভবণ নির্মাণ করছে। ইতোমধ্যে ওই ভবণের ১তলার কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে। নির্মাণকৃত ভবণের একটি অংশ খালের খাস জমির উপর। ওই ভবণের নির্মাণ কাজের দ্বায়িত্বে থাকা কেয়ার টেকার আশ্রাফুল বলেন, তারা নির্মাণকৃত ভবণের অনুমোদনের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন। খালের খাস জমি দখলের বিষয়ে বলেন, বিএস জরিপ রেকর্ডে কোন খাল খাস নাই। স্থানীয় ভূমি অফিস ও পৌর কর্তৃপক্ষের লোক এসে মাপ দিয়ে দেখেছে কোন খাস জমি পাওয়া যায়নি। পৌর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় ভুমি কর্মকর্তারা অনুমোদনহীন এ ভবণ নির্মানে কোন বাধাও দেয়নি। একই কথা বলছেন বাচ্চু মোল্লা। সরকারি খালের পাড় দখল করে অনুমোদন বিহীন ভবণ নির্মাণ করলেও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এখন পর্যন্ত টনক নড়েনি। কুয়াকাটা পৌর সভার ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ সাগর মোল্লা বলেন, পূর্বে বহুতল ভবনের অনুমোদনের ক্ষমতা পৌর সভাকে দেয়া হয়নি। তাই পৌর কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দিতে পারেনি। বর্তমানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ভবনের প্লান পাস ও অনুমোদনের ক্ষমতা পৌরসভাকে দেয়ায় পৌর কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে যথাযথ কার্যক্রম শুরু করেছেন। কলাপাড়া উপজেলা ভূমি সহকারি কমিশনার বিপুল চন্দ্র দাস জানান, যে সকল প্রতিষ্ঠান সরকারি খাল দখল করে অবৈধ ভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের জন্য জেলা প্রশাসকের বরাবারে চিঠি দেয়া হয়েছে। অবৈধ স্থাপণা গুলো খুব শীঘ্রই অপসারণ করা হচ্ছে। অপরদিকে যে সব প্রতিষ্ঠান বা যারা অনুমোদন বিহীন বহুতল ভবন নির্মাণ করছে তাদের তালিকা করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী ওইসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আঃ বারেক মোল্লা বলেন, অনুমোদন নিয়ে জটিলতার কারণে গড়ে উঠছে অনুমোদন বিহীন বহুতল ভবন। সরকারি খাল খাস দখল করে ৩টি বহুতল ভবন তোলা হচ্ছে। ২টি ভবনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক ব্যবস্থা নিতে বললেও স্থানীয় ভূমি প্রশাসন অজ্ঞাত কারণে ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ