ঢাকা, রোববার 27 August 2017, ১২ ভাদ্র ১৪২8, ০৪ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চলনবিলে লাল শাপলা এখনও প্রকৃতি প্রেমীদের মুগ্ধ করে

তাড়াশ: চাটমোহর,গুরুদাসপুর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, আত্রাই, সিংড়াসহ বিল এলাকা জুড়ে শাপলা ফুলের গন্ধে মাতোয়ারা হয়ে থাকে-ঐ সব এলাকা

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ): সিরাজগঞ্জ, নাটোর, ও পাবনা ৩ জেলার মধ্যবর্তী চলনবিলের খাল, বিলে ফোটে বিভিন্ন প্রজাতির শাপলা। এর মধ্যে নয়নাভিরাম মনোমুগ্ধকর লাল শাপলার প্রতি আকর্ষণ সবার চেয়ে বেশী। বর্ষা মওসুমের শুরুতে এ ফুল ফোটা শুরু হয়ে প্রায় ৬ মাস পর্যন্ত বিল ঝিল জলাশয় ও নিচু জমিতে প্রাকৃতিক ভাবেই জন্ম নেয় লাল শাপলা। এই বিলে লাল সাদা সব ধরনের শাপলা ফুলের গন্ধে গোটা চলনবিল মুখরিত হয়ে উঠে। আবহমান কল থেকে শাপলা মানুষের খাদ্য তালিকায় সবজি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল। চলনবিল এলাকার স্বল্প আয়ের মানুষেরা অভাবি সংসারে এক সময় শাপলা খেয়েই জীবিকা নির্বাহ করার কথা মানুষের মুখে এখনও শোনা যায়। সাদা ফুল বিশিষ্ট শাপলা সবজি হিসেবে ও লাল রঙ্গের শাপলা ঔষধি গুণে সমৃদ্ধ। ছোটদের কাছে শাপলা ফুল একটি প্রিয় খেলানোর পাশাপাশি অনন্ত সৌন্দর্যের আকর্ষণ। তাড়াশ চাটমোহর.গুরুদাসপুর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, আত্রাই, সিংড়া, সহ বিল এলাকা জুড়ে শাপলা ফুলের গন্ধে মাতোয়ারা হয়ে থাকে। তাড়াশের হামকুড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আবুল বাশার ও মাদ্রাসার প্রবীন শিক্ষক ক্বারী গোলাম মোস্তফা জানান কয়েক বছর আগেও বর্ষাকাল থেকে শরতকালের শেষ পর্যন্ত বিল এলাকায় মাইলের পর মাইল মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে থাকত নয়নাভিরাম রক্ত শাপলা বা লাল শাপলা। শুধু তাড়াশ উপজেলার হামকুড়িয়া বিলেই নয় চলনবিলের গোটা এলাকা জুড়ে এখনও লাল শাপলার অপরূপ দৃশ্য দেখা যায়। বর্ষার শুরুতে শাপলা জন্ম হলেও হেমন্তের শিশির ভেজা রোদ মাখা সকালের জলাশয়ে চোখ পড়লে রং-বেরংয়ের শাপলার বাহারী রূপ দেখে চোখ জুড়িয়ে যেত। মনে হত কোন এক সাজানো ফুল বাগানের মধ্যে স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছি। এ দৃশ্য চোখে না দেখলে বোঝানো যাবে না। ওই সব লাল শাপলার বিলে ছুটে আসতেন প্রকৃতি প্রেমীরা। অনেকে আবার শাপলা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে। স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য হওয়ায় এলাকার লোকজন শাপলা তুলে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে, এবং বিভিন্ন হাটে বিক্রি করে থাকেন। গ্রামের পাশাপাশি শহরেও এখন শাপলা খাদ্য তালিকা স্থান করে নিয়েছেন। বর্তমান সভ্যতায় বাড়তি জনগণের চাপের কারণে আবাদি জমি ভরাট করে বাড়ি, পুকুর মাছের ঘের বানানোর ফলে চলনবিলের পরিমান যেমন কমেছে, তেমনি শাপলা জন্মানোর জায়গা ও কমে আসছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ