ঢাকা, রোববার 27 August 2017, ১২ ভাদ্র ১৪২8, ০৪ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

টুং টাং শব্দে মুখরিত কামারপাড়া

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা: কোরবানি  ঈদকে সামনে রেখে আনোয়ারায় বিভিন্ন হাট-বাজারে টুং টাং শব্দে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কামার শিল্পীরা। ক্রেতা সাধারণের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে কামারপাড়ার দোকানগুলো। তাদের যেন দম ফেলার ফুরসত নেই।
জানা যায়, বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে কোরবানি ঈদের আগে কামার শিল্পীদের কাজের চাপ অনেকটা বেড়ে যায়। সেই সাথে তাদের আয়-রোজগারও বাড়ে। এ সময়ে কোরবানির আনুসাঙ্গিক হাতিয়ার দা,বটি,চাপাতি,ছুরিসহ ধারালো জিনিস বানাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
কামার শিল্পীদের বেশিরভাগই হিন্দু সম্প্রদায়ের। তাদের অনেকেরই পৈতৃক সূত্রে পাওয়া এ পেশা। সারাবছর তেমন কাজ না থাকায় অপেক্ষায় থাকেন মুসলমানদের এ ধর্মীয় উৎসবের। কোরবানি ঈদের সময় যত ঘনিয়ে আসছে এসব যন্ত্রপাতির বেচাকেনা তত বাড়ছে। তবে কামার শিল্পে প্রয়োজনীয় জ্বালানি কয়লা ও লোহার দাম বাড়লেও সে তুলনায় উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়েনি।
ফলে আর্থিকভাবে তেমন লাভবান হচ্ছেন না কামার শিল্পীরা। যার কারণে অনেকে বাধ্য হয়ে পৈতৃক পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় ঝুঁকছেন।
রাণীনগর (নওগাঁ)
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার গ্রামীণ প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী কামার শিল্প নানা সংকটে আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব, কারিগরদের মজুরী বৃদ্ধি, তৈরি পণ্যসামগ্রী বিক্রয় মূল্য কম, কয়লার মূল্য বৃদ্ধি, বিদেশ থেকে বড় বড় ব্যবসায়ীদের স্টীল সামগ্রী আমদানি সহ চরম আর্থিক সংকট ও উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা কম থাকায় বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে রাণীনগর উপজেলার কামার শিল্প প্রায় বিলুপ্তির পথে।
ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব আগমনী ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে রাণীনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের হাট-বাজারে কামারপট্টিতে দেশী প্রযুক্তির দা, কুরাল, বেকি, খুন্তা ও কাটারী বানাতে বেশ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে কামাররা। এলাকার বিভিন্ন জায়গায় ইতিমধ্যেই গ্রামের লোকজন গরু, মহিষ, ছাগল জবাই ও মাংস তৈরির কাজের জন্য কামারীদের কাছে প্রয়োজনীয় ধারালো দেশী তৈরি চাকু, বটি, কাটারি ও ছুরি তৈরির আগাম অর্ডার দেওয়া শুরু করায় কামার পল্লী ও হাট-বাজার গুলোতে টুং-টাং শব্দে এখন মুখরিত। ঘুমাতে পারছে না কামার পাড়ার পাশের বাড়ির মানুষগুলো।
চুয়াডাঙ্গা
প্রতি বছর কোরবানির ঈদ এলেই কামারশালার শ্রমিকদের ব্যস্ততা বেড়ে
যায় কয়েকগুণ। এই সময়ে রাত-দিন ব্যস্ত সময় কাটান কামাররা। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। কোরবানির পশু জবাইয়ের জন্য বড় ছুরি থেকে শুরু করে চাপাতি, চামড়া ছাড়ানোর ছুরি, রামদা, বটি, বিভিন্ন আকারের কাঁচি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চুয়াডাঙ্গার কামাররা। আগুনে পুড়িয়ে লাল করে লোহা পিটিয়ে বানানো হচ্ছে এসব যন্ত্রপাতি। লোহা পেটানোর শব্দে সরব সব কামারশালাগুলো। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস টুকরো করতে ধারালো অস্ত্রের প্রয়োজন। আর এ জন্য বর্তমানে চাপাতি, দা, বটি, চাকু তৈরি ও পুরনো অস্ত্রে শান দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে কামাররা। দিনরাত চলছে তাদের এ কাজ। যেন ঢুং-ঢাং শব্দে মুখর কামারপাড়া।
মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
পবিত্র ঈদুল আযহাকে ঘিরে এখন মহা ব্যস্ত মিরসরাইয়ের কামারপাড়া। সারা বছর কাজ খুব একটা না থাকলেও কোরবানী উপলক্ষে তাদেও কর্মব্যস্থতা বেড়ে যায় অনেকগুন। কর্মচাঞ্চল্য হয়ে উঠে কামারপাড়া।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার তথা, বারইয়ারহাট, মিঠাছড়া, শান্তিরহাট, বামনসুন্দর, আবুরহাট, বড় দারোগারহাট, কমলদহ, জোরারগঞ্জ করেরহাট, আবুতোরাব সহ ছোটবড় সকল বাজারে সর্বত্র  কামারদের ব্যস্ত সময় কাটাতে হচ্ছে এখন।
কয়লার দগদগে আগুনে লোহাকে পুড়িয়ে পিটিয়ে  তৈরি করছেন তারা দা, ছুরি, চাকু, কুড়াল, কাঠারি, বঁটিসহ ধারালো কর্তন সামগ্রী বানিয়ে চলেছে ওরা। কেউবা অর্ডারকৃত আর কেউবা নিজের লোহা দিয়েই তৈরি করে পাইকারি দরে বিক্রি করছেন।তবে এসব তৈরিতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি কামারের দোকানগুলোতে। পুরানো নিয়মেই চলছে আগুনে পুড়ে লোহা হতে ধারালো কর্তন সামগ্রী তৈরির কাজ।কামাররা জানায়, এ পেশায় অধিক  পরিশ্রম। আর শ্রম অনুযায়ী তারা এর যথাযথ মূল্য পান না। কারণ লোহার বাজার দর বেশি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ