ঢাকা, সোমবার 28 August 2017, ১৩ ভাদ্র ১৪২8, ০৫ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কৃষিত্রাণ পৌঁছতে বিলম্ব কেন?

‘কৃষকেরা কৃষিত্রাণ পাননি’ শিরোনামে একটি খবর মুদ্রিত হয়েছে পত্রিকান্তরে। ২৭ আগস্ট মুদ্রিত খবরটিতে বলা হয়, এবারের বন্যায় উত্তরের জেলাগুলোতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ধানই বন্যাকবলিত এলাকাগুলোর প্রধান ফসল। বন্যার সময় রোপা আমনের মৌসুম চলছিল। পানিতে বেশির ভাগ জমির ধানের চারা নষ্ট হয়েছে। বন্যার অল্প কিছুদিন আগে এসব চারা লাগানো হয়েছিল। কুড়িগ্রাম ও দিনাজপুর জেলার বানে ডোবা ক্ষেতগুলোতে চারা পচে কালো হয়ে আছে। কৃষকেরা জানিয়েছেন, যারা জমিতে একদফা সার দিয়েছিলেন তাদের পুরো জমির চারাই পচে গেছে। যারা সার দেননি এবং যেসব জমির পানি দ্রুত নেমে গেছে সেখানে কিছু চারা রক্ষা পেয়েছে। সরকারিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কৃষিত্রাণ হিসেবে আমনের চারা, দানাদার শস্যের বীজ ও সার বিতরণের কথা ঘোষণা করা হলেও মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের হাতে এখনও সেই সাহায্য এসে পৌঁছায়নি। বাজারে এখন আমনের চারার তীব্র সংকট। অল্প-স্বল্প যে চারা পাওয়া যাচ্ছে, তার দাম স্বাভাবিকের চেয়ে তিন-চার গুণ বেশি। তাই অধিকাংশ কৃষকের পক্ষেই নতুন করে চারা কিনে আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতি কৃষকদের জন্য দুঃখের বার্তাই বহন করছে।
সরকারি হিসেবে এ পর্যন্ত ৪০ জেলায় ৬ লাখ ৫২ হাজার ৬৫৪ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবার প্রতি হেক্টর জমিতে সাড়ে ৩ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। সেই হিসেবে তলিয়ে যাওয়া জমি অনাবাদী পড়ে থাকলে আমন মৌসুমে ২৩ লাখ টন চাল কম উৎপাদন হবে। এমন পরিস্থিতি শুধু কৃষকদের জন্য নয়, দেশের জন্যও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু জমিতে আবাদ করতে গেলে তো সামর্থ্যরে প্রয়োজন, কৃষিত্রাণ প্রয়োজন।  কুড়িগ্রামে রোপা আমন ও সবজি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সেখানে চারা ও বীজের সংকট এখন তীব্র। রোপা আমনের চারার জন্য কৃষকরা জেলার বিভিন্ন জায়গায় ছুটাছুটি করছেন। কুড়িগ্রামের নয় উপজেলায় রোপা আমন চাষ করা হয়েছিল ৯৯ হাজার ৮৭৭ হেক্টর জমিতে। এছাড়া বীজতলা করা হয়েছিল ১ হাজার ৯৩৯ হেক্টর জমিতে এবং শাক-সবজি করা হয়েছিল ২ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে। দুঃখের বিষয় হলো, এখানে বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে ৫০ হাজার ৩১ হেক্টর জমি। শুধু কুড়িগ্রাম নয়, দিনাজপুর, গাইবান্ধাসহ উত্তরের জেলাগুলোর কৃষকরা এখন বিপর্যয়ের সম্মুখীন।
কৃষকের সমস্যা আসলে দেশের সমস্যা। কারণ বাংলাদেশ একটি কৃষিভিত্তিক দেশ। কৃষকের মুখে হাসি না ফুটলে দেশের মুখে হাসি ফুটবে কেমন করে? তাই এবারের বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় কৃষকরা যে সংকটের মুখে আছে তার গভীরতা সরকার, কৃষি মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনকে উপলব্ধি করতে হবে। সরকারিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কৃষিত্রাণ হিসেবে আমনের চারা, দানাদার শস্যের বীজ ও সার বিতরণের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, ঘোষিত কৃষিত্রাণ মাঠ পর্যায়ে এখনও কৃষকদের হাতে এসে পৌঁছায়নি। এমন অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ঘুরে দাঁড়াবে কেমন করে? আমরা আশা করবো, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। এখানে আরো উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কৃষিত্রাণ যেন অপাত্রে না যায়। দুর্নীতির মাধ্যমে যেন দুর্বৃত্তরা কৃষিত্রাণ লুণ্ঠন করতে না পারে সে ব্যাপারেও প্রশাসন ও সরকারের উপযুক্ত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ