ঢাকা, সোমবার 28 August 2017, ১৩ ভাদ্র ১৪২8, ০৫ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনা মহানগরীর ৮০ ভাগ সড়কেই ছোটবড় গর্ত

টানা সাত দিনের অবিরাম বর্ষণে ডুবে যাওয়া খুলনা মহানগরীর অধিকাংশ সড়ক ভেঙ্গে গেছে। ফলে সড়কগুলোর বিটুমিন উঠে গিয়ে ছোটবড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে গর্তে চাকা পড়ে উল্টে  যাচ্ছে রিকশা, ভ্যান, ইজিবাইকসহ ছোটখাটো যানবাহন। চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে।
স্থানীয়রা জানান, সকালে বৃষ্টি হলে সেই পানি জোয়ারের কারণে নামতে পারে না। ফলে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত নগরীর অধিকাংশ সড়কই পানিতে তলিয়ে থাকে। নি¤œাঞ্চলে পানি নামে বিকাল ৫টার পরে। ফলে দীর্ঘ সময় রাস্তা তলিয়ে যাওয়ার কারণে বিটুমিন, ইট খোয়া উঠে ছোটবড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। তবে টানা এই বৃষ্টিতে ঠিক কত কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার পরিসংখ্যাণ এখনও তৈরি করতে পারেনি কেসিসি। নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ৮০ ভাগ সড়কই যানবাহন চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানি নামার পর সড়কগুলোর চেহারা পাল্টে যায়। দেখে মনে হবে সেখানে খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়েছে। ইট, খোয়া ছড়ানো-ছিটানো, মাঝখানে বড় বড় গর্ত। সেখানে ময়লা-আবর্জনা ভরা। সারাদিন বৃষ্টি এবং পানি ওঠানামা করায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মীরা সড়ক পরিষ্কার করছে না।
নগরীর ময়লাপোতা থেকে রয়েল মোড় পর্যন্ত সড়কের মাঝখানে অসংখ্য গর্ত। বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার পর সিটি কলেজ ও হোটেল ক্যাসল সালামের সামনের অংশ মনে হয় যুদ্ধবিধ্বস্ত কোনো সড়ক। সেখান থেকে রূপসা ট্রাফিক মোড় পর্যন্ত ছোট বড় অসংখ্য গর্ত। কোনো কোনো স্থানে গর্ত বড় হয়ে ডোবায় রূপ নিয়েছে। শান্তিধাম মোড়, ফারাজিপাড়া মোড়, শিববাড়ি মোড়, মুজগুন্নী মহাসড়কে অসংখ্য গর্ত।
স্থানীয়রা জানান, বৃষ্টির পানি আটকে থাকায় নগরীর অলি-গলিতেও গর্ত তৈরি হয়েছে। একদিকে জলাবদ্ধতা অন্যদিকে পানি নেমে গেলেও গর্তের কারণে মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই।
কেসিসির ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম বলেন, বিটুমিনের প্রধান শত্রু পানি। দিনের একটা লম্বা সময় সড়ক পানির নিচে থাকা এবং তখন ওই সড়কের ওপর দিয়ে যানবাহন চলায় সড়ক দুর্বল হয়ে পড়ছে। অল্পতে সড়কের বিটুমিন, ইটের খোয়া, পাথর সরে গিয়ে গর্ত তৈরি হচ্ছে। কত কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার পরিসংখ্যান এখনও তৈরি করা হয়নি। কেসিসির মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, বৃষ্টিতে সব শহরে একই সমস্যা। বৃষ্টিতে সড়কের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রণালয়ে বিশেষ বরাদ্দ চেয়ে চিঠি দেয়া হবে। এছাড়া নিজস্ব ব্যবস্থায় বৃষ্টি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কগুলো মেরামত করা হবে।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ আমিরুল আজাদ জানান, গত শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে মঙ্গলবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত খুলনায় ৪৪২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এর মধ্যে শুক্রবারই হয়েছে ১২৯ মিলিমিটার। এছাড়া গত সোমবার ৮৪ এবং মঙ্গলবার ২৯ মিলিমিটার। গত বুধবার ছিটেফোঁটা ছাড়া ভারী বৃষ্টি হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ