ঢাকা, সোমবার 28 August 2017, ১৩ ভাদ্র ১৪২8, ০৫ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

থুকড়া বাজার জামে মসজিদের উদ্যোগে যাকাত কমিটি গঠন

‘যাকাত ভিত্তিক সমাজ চাই-দারিদ্র্য মুক্ত দেশ চাই’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে ডুমুরিয়া উপজেলার থুকড়া বাজার সংলগ্ন বায়তুস সালাম জামে মসজিদে ‘মসজিদভিত্তিক যাকাত কমিটি’ গঠন করে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে -সংগ্রাম

‘যাকাত ভিত্তিক সমাজ চাই- দারিদ্র্য মুক্ত দেশ চাই’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে থুকড়া বাজার সংলগ্ন বায়তুস সালাম জামে মসজিদে ‘মসজিদ ভিত্তিক যাকাত কমিটি’ গঠন করে এক অনন্য নজির স্থাপন করা হয়েছে। এ বাজারের ব্যবসায়ী ছাড়াও গ্রামের অনেক স্বচ্ছল ব্যক্তি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন রাজধানী ঢাকাসহ অনেক স্থানে। যাদের যাকাত দেয়ার সামর্থ আছে এবং যাদের যাকাতের অর্থ প্রাপ্য সবারই তালিকা করে গত রমযান মাস থেকে এ ‘যাকাত কমিটি’ তাদের কার্যক্রম শুরু করে। এ কমিটি ইতোমধ্যে এলাকার দুইজন অসচ্ছল ব্যক্তিকে যাকাতের টাকা দিয়ে ভ্যান গাড়ি কিনে দিয়েছে। তারা এ ভ্যান চালিয়ে সংসার পরিচালনা করছে। পাশাপাশি তারাও ভাবছে আগামীতে অন্যান্যদের মতো যাকাত দিয়ে অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়াবে।
ভ্যান চালিয়ে সংসার চলে রেজাউল ইসলাম বিশ্বাসের। স্ত্রী ও বাক প্রতিবন্ধী একটি মেয়ে ছাড়াও সংসারে আছে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া আরও একটি মেয়ে। চার সদস্যের পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিই রেজাউল। কোন রকম দিন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। দিনভর ভ্যান চালিয়ে যে আয় হয় তা দিয়েই চলে সংসার। কোন রকম সঞ্চয়ের সুযোগ থাকে না। এরই মধ্যে ভ্যানটিও অনেক পুরাতন হওয়ায় নতুন একটি ভ্যানও প্রয়োজন দেখা দেয়। কিন্তু ভ্যান কেনার সামর্থতো নেই-ই বরং বসবাসের ঘরটিও ঝড়ে পড়ে গেছে। উপায় না পেয়ে রান্না ঘরেই বসবাস শুরু করে দেন রেজাউল। টানাপোড়েনের সংসারে যখন এমন হাহাকার অবস্থা তখনই আশির্বাদ হয়ে সামনে আসে থুকড়া বায়তুস সালাম যাকাত কমিটি। একটি নতুন ভ্যান দেয়া হয় এ কমিটির পক্ষ থেকে। কমিটির উদ্দেশ্য যাকাত সংগ্রহ ও বন্টনের মধ্যদিয়ে দারিদ্র্যমুক্ত থুকড়া গড়া। অপর একজন একই গ্রামের শহীদুল ইসলাম গাজীকেও দেয়া হয়েছে আরেকটি ভ্যান। নতুন দু’টি ভ্যান পেয়ে দু’টি পরিবারই মোটামুটি সচ্ছল হবার স্বপ্ন দেখছে। সম্প্রতি থুকড়া গ্রামে গিয়ে কথা বলার সময় শহীদুল ইসলাম গাজী বললেন, ‘আমার স্বপ্ন আমি যাকাত দেব, আর নেব না’। যাকাত দেয়ার মত সামর্থ না হলেও অন্তত: স্বচ্ছলভাবে যাতে ওই গ্রামের সব পরিবার চলতে পারে এমনটি প্রত্যাশা নিয়েই যাকাত কমিটি গঠন হয়েছে বলেও জানালেন কমিটির সদস্য আব্দুল হালিম গাজী।
খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার উত্তর-পশ্চিমের একটি গ্রামের নাম থুকড়া। এক সময় খুলনা থেকে সাতক্ষীরা যাতায়াতের জন্য অন্যতম রুট ছিল দৌলতপুর-শাহপুর-খর্ণিয়া সড়ক। এ সড়কের শাহপুরের কাছেই স্থাপিত এ থুকড়া বাজারটি।
যাকাত কমিটি গঠনের ইতিবৃত্ত বর্ণনা করতে গিয়ে স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, থুকড়া বাজার সংলগ্ন বায়তুস সালাম জামে মসজিদে একদিন জুময়া’র খুতবা দিতে গিয়ে খতীব হাফেজ মাওলানা মো. সাইফুল্লাহ মানসুর যাকাত বন্টনের ওপর বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। তার এ বক্তব্য অনেকের মধ্যেই পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়। এরপর একদিন মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. আফজাল হোসেন উক্ত খতীবকে নিয়ে খুলনায় বসেন। দু’জনে প্রাথমিক আলোচনার পর এলাকায় গিয়ে আরও কয়েকজন মুসল্লীর সাথে কথা বলেন। এভাবে ধীরে ধীরে সকলেই ইতিবাচক হিসেবে দেখে বিগত রমযান মাসের শেষ দিক থেকে যাকাত কমিটি গঠনের মধ্যদিয়ে কিছু যাকাত আদায় করে তা রেজাউল ইসলাম বিশ্বাস ও শহীদুল ইসলাম গাজীর মধ্যে বন্টন করা হয়। এজন্য একটি গঠনতন্ত্রও তৈরি করা হয়। কিভাবে কমিটি হবে, কিভাবে যাকাত আদায় ও বন্টন হবে তারও বিস্তারিত উল্লেখ থাকে গঠনতন্ত্রে। যাকাত কমিটির সদস্য সচিব শেখ রবিউল ইসলাম বলেন, যেহেতু প্রথম বছর একেবারেই শেষের দিকে এসে কার্যক্রম শুরু হয় সেহেতু খুব কম অর্থ সংগ্রহ করা গেছে। যা দিয়ে দু’টি ভ্যান কিনে দু’জনকে দেয়া হয়। পরবর্তী বছর থেকে আরও বৃহৎ আকারে অর্থ সংগ্রহ ও বন্টনের ব্যবস্থা করার লক্ষ্য রয়েছে তাদের।  থুকড়া গ্রামে ২২ জন লোকের যাকাত দেয়ার সামর্থ আছে এবং ৬০ জনের তালিকা করা হয়েছে যাদের মধ্যে যাকাতের অর্থ বন্টন করা যেতে পারে। তবে যে ৬০ জন যাকাতের অর্থ পেতে পারে এমন তালিকা করা হলেও সেটি প্রকাশ করা হয়নি। শুধুমাত্র যখন যাকে যে জিনিসটি দেয়া হবে তখনই তা প্রকাশ করা হবে। এ বছর যে দু’জনকে ভ্যান দেয়া হয় তাও আগে প্রকাশ করা হয়নি বলে তিনি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ