ঢাকা, সোমবার 28 August 2017, ১৩ ভাদ্র ১৪২8, ০৫ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কপিলমুনি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি যে কোন সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা

দক্ষিণ খুলনার ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক শহর ঐতিহাসিক কপিলমুনি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। সংস্কারের অভাবে বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যে কোন মুহূর্তে বিধ্বস্ত হয়ে শত শত লোকের মৃত্যুর কারণ হতে পারে।  দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও ভবনটি সংস্কারের কোন ব্যবস্থা করা হয়নি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে পরিষদের কাজকর্ম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি ১৯৩৩ সালে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। তখন ভবন নির্মাণের কাজ মান ভাল হলেও পরবর্তীতে ভবনটির ছাদে বড় ধরনের ফাটলের সৃষ্টি হয়। এর পর অনেক দৌড়ঝাঁপ করে সর্বশেষ ২০০০ সালে এলজিইডি’র  অর্থায়নে পরিষদ ভবনটির ছাদ ও দেয়ালের কিছুটা সংস্কার করা হয়। কিন্তু বর্তমানে ভবনটির অবস্থা অত্যন্ত হুমকির সম্মুখীন হলেও অদ্যাবধি সংস্কারের কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ভবনটি নির্মাণের পর ৮৪ বছর অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু বড় ধরনের সংস্কার করা হয়নি। বর্তমানে ভবনটির ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারে বিভিন্ন স্থানে ফাঁটলের সৃষ্টি হয়েছে। এমতাবস্থায জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। ৮৪ বছর আগে নির্মিত ভবনটির দরজা, জানালা, মেরামত না করায় সব দরজা, জানালা ভেঙ্গে গেছে। শুধুমাত্র সচিবের কক্ষের অবস্থা মোটামুটি ভাল বলা যায়। জীর্ণশীর্ণ অবস্থা যেকোন সময়  ভেঙ্গে পড়তে পারে। ভবনটির এহেন ভগ্নদশা অবস্থায় এখানে অনেক বিষয় প্রশিক্ষণ কর্মশালা চলে। অনেক কর্তা ব্যক্তিদের এখানে আগমন ঘটে। কিন্তু আজও পর্যন্ত তাদের দৃষ্টি ভবনটির উপর পড়েনি। ভবনটির অবস্থা খারাপ তা নয়। নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত কপিলমুনি ইউনিয়ন পরিষদ। পরিষদের গোডাউন সম্পূর্ণ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর ফলে দুস্থ মহিলাদের ভিজিডি কার্ডের গম বিতরণ করতে মারাত্মক সমস্যায় পড়তে হয়। আসবাবপত্রের সংখ্যা অপ্রতুল। প্রয়োজনীয় চেয়ার, টেবিল, আলমারী না থাকায় পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। একটি ইউনিয়ন পরিষদ কিন্তু সেখানে কোন নলকূপ নেই। সামান্য বৃষ্টি হলেই ভবনটির সামনে হাঁটুপানি জমে যায়। সবকিছু মিলিয়ে বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে কপিরমুনি ইউনিয়ন পরিসদের নব নির্বচিত চেয়ারম্যান কওছার আলী জোয়াদ্দার বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে সংস্কার করলে হবে না। এটাকে ভেঙ্গে নতুন পরিষদ ভবন নির্মাণ করা একান্ত প্রয়োজন। বর্তমান সময়ে সরকার ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা করছে। এই জরাজীর্ণ ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করতে নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। পরিষদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র বৃষ্টির পানি ও আসবাবপত্রের অভাবে নষ্ট হচ্ছে। পরিষদে শালিস বিচার করা ও দুরুহ ব্যাপার হয়ে পড়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে চলছে পরিষদের কার্যক্রম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ