ঢাকা, সোমবার 28 August 2017, ১৩ ভাদ্র ১৪২8, ০৫ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

গত ১০ বছরেও খুলনা নার্সিং কলেজ চালু হয়নি

অবকাঠামো নির্মাণের সাড়ে দশ বছরেও চালু না হওয়ায় বেহাল হয়ে পড়েছে খুলনা নার্সিং কলেজ -সংগ্রাম

সাড়ে ১০ বছরেও চালু হয়নি খুলনা নার্সিং কলেজ। জানালা দরজায় পচন ধরেছে, ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ছে, ঠিকাদারের সাথে সরকারের সমঝোতার পর পুনঃনির্মাণে সাত কোটি টাকার প্রাক্কলন প্রস্তুত করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে তাও প্রায় বছর পার। কিন্তু টেন্ডার প্রক্রিয়া করতেই কেটে গেলো প্রায় আট মাস। এতে সাড়ে ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কলেজটি কার্যক্রম শুরুর আগেই শিশুদের কাছে ভুতুড়ে বাড়ি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। আর কোন সীমানা দেয়াল রাতে মাদকসেবী আর বখাটেদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয় বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নার্সিং পেশায় উচ্চ শিক্ষার লক্ষ্য নিয়ে ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ার সাথে খুলনায়ও প্রতিষ্ঠা হয় খুলনা নার্সিং কলেজ। বয়রার কলাবাগান এলাকা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ১০ একর জমির উপর ১৬ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে প্রতিষ্ঠিত এ কলেজটির নির্মাণ কাজ থেমে যায় ২০০৯ সালে। তখন একটি একাডেমিক ভবন, একটি গেস্ট হাউজ, দুইটি হোস্টেল, ও তিনটি স্টাফ কোয়ার্টার নির্মাণ কাজের অধিকাংশ স¤পন্ন করা হয়। দীর্ঘ চার বছর পর ২০১১ সালে একাডেমিক কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিয়ে ১৩ জন শিক্ষক পদায়ন করা হলেও বর্তমানে মাত্র ৭ জন শিক্ষক রয়েছেন কাগজে-কলমে। তাদের মধ্যে আবার শিক্ষা ছুটি এবং প্রেষণে অন্যত্র কর্মরত আছেন ৫ জন। বর্তমানে স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরে সহকারী পরিচালক (সেবা) হিসেবে কর্মরত খালেদা আক্তার এখন অতিরিক্ত দায়িত্বে অধ্যক্ষ। এছাড়া একজন মাত্র প্রভাষক রয়েছে সেখানে। তাছাড়া দু’জন কম্পিউটার অপারেটর, একজন ক্যাশিয়ার, একজন স্টোর কীপার, একজন ল্যাব সহকারী পদায়ন থাকলেও প্রেষণে অন্যত্র কর্মরত। এসবের মধ্যে গত সেশনে দেশের অন্য তিনটি নার্সিং কলেজে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের অপেক্ষমান তালিকা থেকে ৬০ জনকে খুলনাতে ভর্তির জন্য মনোনীত করা হয়েছিল কিন্তু পরবর্তীতে তা বাতিল করে ডিজি নার্সিং-এর কার্যালয়।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী এ এফ এম আনিছুর রহমান বলেন, সদ্য যোগদান করেছি, কোন কাজই ঠিকমত বুঝে নিতে পারিনি। তাই এই বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।
সদ্য বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ বলেন, হেড অফিসের চাহিদামত সাত কোটি টাকার প্রাক্কলন ঢাকায় পাঠিয়েছি। সেখানে থেকেই টেন্ডার হওয়ার পর ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ শুরু হবে।
নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ খালেদা বেগম বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে বার বার পুনঃনির্মাণ প্রক্রিয়া থমকে যাওয়ায় শিক্ষার্থী ভর্তিও পিছিয়ে যাচ্ছে। এতে এ অঞ্চলের নার্সিং পেশায় নিয়োজিত শত শত নার্স উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তবে আগামী বছর শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। অতিরিক্ত দায়িত্বে অধ্যক্ষ হিসেবে রয়েছেন তিনি। জানালেন সরকার কর্তৃক কিছু আসবাবপত্র পাঠানো হয়েছে। আন্তে আস্তে জটিলতা নিরসন কবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদ (স্বানাপ) সংগঠনের খুলনা মহানগর সভাপতি জেসমিন নাহার বলেন, খুলনায় নার্সিং কলেজটি চালু না হওয়ায় এ অঞ্চলের কর্মরত নার্সদের ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়ায় গিয়ে বিএসসি নার্সিং কোর্স করতে হচ্ছে। এতে অনেকে সংসার, স্বামী-সন্তান রেখে দু’বছর ধরে দূরে অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ নার্সিং কলেজটি চালু থাকলে বাড়িতে বসেই অনেকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেতেন।
খুলনা বিভাগীয় সভাপতি শীলা রাণী দাস বলেন, বর্তমান সরকার নার্সদের ব্যাপারে অতীতের সব সরকারের চেয়ে আন্তরিক। এজন্যই ইতোমধ্যে সারাদেশে ১০ হাজার নার্স পদায়ন ছাড়াও নার্সদেরকে দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদা দিয়েছে। খুলনা নার্সিং কলেজটিও দ্রুত পুনঃনির্মাণ করে চালু করা হবে এমন প্রত্যাশাও করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ