ঢাকা, সোমবার 28 August 2017, ১৩ ভাদ্র ১৪২8, ০৫ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পাইকগাছা হাসপাতালে ডাক্তার নেই : অস্ত্রোপচার বন্ধ

খুলনার পাইকগাছায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যানেসথেসিস্টসহ পাঁচজন ডাক্তারের বদলির কারণে গর্ভবতী মায়েদের সিরাজিয়ানসহ সকল ধরনের অপারেশন বন্ধ হয়ে গেছে। এই উপজেলায় ৩৩ জন ডাক্তারের স্থলে কর্মরত আছেন মাত্র পাঁচজন। তার মধ্যে একজন আবার প্রশাসনিক দায়িত্বে নিয়োজিত (উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা)। মাত্র এই পাঁচ ডাক্তার দিয়ে চলছে ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম। অন্যদিকে, কপিলমুনির দশ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পাঁচটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র, একটি সাব-সেন্টার ও ৪ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ডবয় এমনকি এমএলএসএস না থাকায় সেগুলোতে অচলাবস্থা বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পাইকগাছা উপজেলা শহরে ১৯৯৭ সালে ৩১ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে যা ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। কিন্তু ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে চলছে ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম। উপজেলার প্রায় চার লাখ মানুষসহ পাশের উপজেলাগুলো থেকে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন অসংখ্য রোগী। প্রতিদিন বহির্বিভাগে ২-৩শ’ রোগী চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। অন্তঃবিভাগে কখনো কখনো রোগীর সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়ে যায়। নিয়মিত ভর্তি থাকেন ৭০/৮০ রোগী। বেড ছাড়া যাদের ঠাঁই হয় মেঝে ও বারান্দায়।
সূত্র জানায়, ১৯৯৯ সালে পাইকগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০৫ সালে চালু হয় ইউওসি প্রজেক্ট। সেবার গুনগত উন্নত মান ও কয়েক বছর মাতৃত্ব সেবায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করায় ২০০৭ সালে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডিএসএফ কার্যক্রম চালু হয়। গাইনি ওয়ার্ডে প্রায় সব সময় ২০-২৫ জন রোগী ভর্তি থাকেন। দীর্ঘদিন ধরে অ্যানেসথেসিস্টসহ নয়জন ডাক্তার হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি সিজারিয়ানসহ বিভিন্ন ধরনের অপারেশন করে আসছিলেন। কিন্তু চলতি মাসে একজন অ্যানেসথেসিস্টসহ পাঁচজন ডাক্তার বদলি হয়ে পাইকগাছা ছেড়েছেন। ফলে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে অস্ত্রোপচার কার্যক্রমে। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রভাতকুমার দাশ বলেন, ‘মাত্র চারজন ডাক্তার দিয়ে এতো বড় হাসপাতালসহ উপজেলার এতোগুলো স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সেবা দেওয়া সম্ভব না। এছাড়া অ্যানেসথেসিয়া না থাকায় গর্ভবতী মায়েদের সিজারিয়ানসহ অন্যান্য অপারেশন বন্ধ রয়েছে।’ হাসপাতালের টিকিট মাস্টার আইয়ুব আলী সরদার বলেন, ‘রোগীর সংখ্যা কয়েকদিনের মধ্যে অর্ধেকে নেমে আসছে। ‘ডাক্তার নেই কেন?’- রোগীদের এই প্রশ্নের জবাব দিতে হিমশিম খাচ্ছি।’
এদিকে, কপিলমুনি দশ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার, ওয়ার্ডবয়, এমএলএসএস কেউই নেই। প্রতিদিন একজন সহকারী ডাক্তার গিয়ে আগত রোগীদের কোনো মতে সেবা দিয়ে আসছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ