ঢাকা, মঙ্গলবার 29 August 2017, ১৪ ভাদ্র ১৪২8, ০৬ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

প্রথম ইনিংসে লিড নিয়ে ৮৮ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ

রফিকুল ইসলাম মিঞা : অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৪৩ রানের লিড নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম দিন আগে ব্যাট করে ২৬০ রানে অল আউট হয় স্বাগতিকরা। জবাবে অস্ট্রেলিয়াকে ২১৭ রানে অলআউট করে ৪৩ রানে লিড নেয় টাইগাররা। অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের স্পিন ঘুর্ণিতেই প্রথম ইনিংসে ২১৭ রানেই অলআউট হয়ে যায় সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ম্যাট রেনশ সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেন। এছাড়া অ্যাস্টন আগার অপরাজিত ৪১, পিটার হ্যান্ডসকম্ব ৩৩ ও প্যাট কামিন্স ২৫ রান করেন। সাকিব তার পঞ্চম উইকেটটি নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ২১৭ রানে অলআউট করেন। শেষ ব্যাটসম্যান জশ হ্যাজলউডকে ৫ রানে ইমরুলের ক্যাচ বানান তিনি। গতকাল দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট ব্যাট করতে নেমে এক উইকেটে ৪৫ রান করে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। ফলে দ্বিতীয় দিন শেষে ৮৮ রানে এগিয়ে আছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। আজ তৃতীয় দিনে হাতে নয় উইকেট নিয়ে ব্যাট করতে নামবে মুশফিকরা।

গতকাল ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শুরুতেও পিচ ছিল স্পিনারদের অনুকূলে। যার পুরো সুবিধা নিয়েছিল বাংলাদেশের স্পিনাররা। আগের দিন ৩ উইকেটে ১৮ রানে দিন শেষ করা অস্ট্রেলিয়ার ১৪৪ রানেই বাংলাদেশ ফেলে দিয়েছিল ৮ উইকেট। ফলে প্রথম ইনিংসেই বড় লিড নেওয়ার আভাস দিয়েছিল টাইগাররা। কিন্তু দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন অ্যাস্টন অ্যাগার ও প্যাট কামিন্স। ফলে শেষ পর্যন্ত লিডটা আর তেমন বড় হয়নি। প্রথম দিন শেষে ৩ উইকেট ১৮ রান করেছিলো অসিরা। ওপেনার ম্যাট রেনশ ৬ ও অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ ৩ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছিলেন। গতকাল সকালে বাংলাদেশের স্পিনাররা দুর্দান্ত শুরু করেছিল। দিনের তৃতীয় ওভারেই মেহেদী হাসান মিরাজের স্পিনে বোল্ড হয়ে ৮ রানে ফেরেন অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান স্টিভেন স্মিথ। দলীয় ৩৩ রানে স্মিথ ফিরে যাবার পর পঞ্চম উইকেটে ৬৯ রানের জুটি গড়েন রেনশ ও পিটার হ্যান্ডসকম্ব। বাংলাদেশের বিপক্ষে পঞ্চম উইকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি এটি। এই জুটিকে বড় হতে দেননি বাংলাদেশের বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। লেগ বিফোর ফাঁেদ পড়ে ৩৩ রানেই বিদায় নেন হ্যান্ডসকম্ব। হ্যান্ডসকম্বকে তুলে নিয়ে আত্মবিশ্বসাী হয়ে উঠে বাংলাদেশের বোলাররা। তাই মধ্যাহ্ন বিরতির আগে ষষ্ঠ উইকেট শিকারের সাফল্য পায় বাংলাদেশ। এবার বাংলাদেশকে সাফল্যের মুখ দেখান সাকিব আল হাসান। ৯৪ বলে ৪৫ রান করেন ফিরেন রেনশ। ফলে ১১৭ রানে ৬ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। মধ্যাহ্ন বিরতির পর অস্ট্রেলিয়াকে খেলায় ফেরানোর পরিকল্পনা করেছিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও উইকেটরক্ষক ম্যাথু ওয়েড। কিন্তু সেটি হতে দেননি মিরাজ। ঐ সেশনের ষষ্ঠ বলেই ওয়েডের বিদায় নিশ্চিত করেন মিরাজ। অবশ্য আম্পায়ারের দেয়া লেগ বিফোর সিদ্বান্তটি ভুল ছিলো। টিভি রিপ্লেতে তা ফুঁটে উঠে। সেই চাপ আরও বাড়ে ম্যাক্সওয়েলের ভুল শট নির্বাচনে। ইনিংসের ৪৪তম ওভারের প্রথম বলে উইকেট ছেড়ে সাকিবকে খেলতে গিয়েছিলেন ম্যাক্সওয়েল। কিন্তু সাকিবের ঘুর্ণি ডেলিভারিটি ম্যাক্সওয়েলের ব্যাটকে ফাঁকি দিয়ে উইকেটের পেছনে থাকা অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসে ধরা পড়েন। তালুতে বল নিয়ে স্টাম্প ভেঙ্গে ফেলেন মুশফিক। তাই ২৩ রানেই থেমে যেতে হয় ম্যাক্সওয়েলকে। দলীয় ১৪৪ রানে ম্যাক্সওয়েলের আউটের পর জুটি বাধেন অ্যাস্টন আগার ও প্যাট কামিন্স। দু’জন জুটিতে ৪৯ রান যোগ করেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে নবম উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার এটি সর্বোচ্চ রান। অবশ্য সাকিবের বলে কামিন্সের ক্যাচ শফিউল না ফেললে এই জুটি রেকর্ড গড়তে পারতো না। শেষ পর্যন্ত সাকিবের বলেই ইনিংস থেমেছে কামিন্সের। তখন তার নামের পাশে ২৫ রান। অস্ট্রেলিয়ার শেষ ব্যাটসম্যান জশ হ্যাজেলউডকেও শিকার করেছেন সাকিব। তাই ২১৭ রানেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস। ৬৮ রানে ৫ উইকেট নেন সাকিব। ক্যারিয়ারে ১৬তম বারের মত ৫ বা ততোধিক উইকেট নিলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই প্রথম। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাস্টন আগার ৪১ রানে অপরাজিত ছিলেন। সাকিব ছাড়াও বাংলাদেশের মিরাজ ৩টি ও তাইজুল ১টি উইকেট নেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৪৩ রানে লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ১ উইকেটে ৪৫ রান করেছে বাংলাদেশ। ফলে দ্বিতীয় দিন শেষে ৮৮ রানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। ১৫ রান করে বাঁ-হাতি ওপেনার সৌম্য সরকার ফিরে গেলেও, আরেক ওপেনার তামিম ইকবাল ৩০ ও নাইটওয়াচম্যান তাইজুল ইসলাম শুন্য রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন। আজ তৃতীয় দিনে ৯ উইকেট হাতে নিয়ে ব্যাট করতে নামবে বাংলাদেশ।

 সংক্ষিপ্ত স্কোর :

বাংলাদেশ---প্রথম ইনিংস----২৬০/১০ (৭৮.৫ ওভার)

অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস-----২১৭/১০ (৭৪.৫ ওভার)

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ওভার-----৪৫/১ (২২ ওভার)।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ