ঢাকা, মঙ্গলবার 29 August 2017, ১৪ ভাদ্র ১৪২8, ০৬ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার : ভোটকেন্দ্রে পুলিং এজেন্টের স্বাক্ষর নিয়ে কেন্দ্রেই ফলাফল ঘোষণা করার ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল। অপরদিকে খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করাসহ বত্রিশ দফা প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। এর মধ্যে সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় যাতে কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে না পারে সে পদক্ষেপ নেয়া, সরকারী দল ও বিরোধী দলসমূহকে অবিলম্বে জাতীয় সংলাপে বসার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব রয়েছে।

গতকাল সোমবার সকালে মুসলিম লীগ ও বিকেলে খেলাফত মজলিসের সাথে বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন। দলের সভাপতি ড. এএইচএম কামরুজ্জামান খানের নেতৃত্বে দলটির ১০ সদস্যের প্রতিনিধি সংলাপে অংশ নেয়।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে সংলাপে ৪ নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংলাপ শেষে কামরুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, তারা ১১ দফা সুপারিশ করেছেন। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে- নির্বাচনে প্রত্যেক নিবন্ধিত দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ ও অবৈধ, কালো টাকা এবং পেশি শক্তির ব্যবহার বন্ধ করার সুপারিশও করেছে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ।

তারা ভোটের কার্যকর পরিবেশ, প্রকাশ্যে ভোটের ফল ঘোষণা, সকল দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির প্রস্তাব করেছে।

বিএমএল মহাসচিব জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী বলেন, আলোচনা ফলপ্রসু হয়েছে।

আমরা ২০ দলীয় জোটের শরিক হওয়ায় গতকাল রাতে বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে আলোচনা করেই এসব প্রস্তাবনা তৈরি করেছি।

খেলাফত মজলিস

এদিকে গতকাল সোমবার বিকেলে খেলাফত মজলিসের সাথে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচন কমিশনের। সংলাপে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্যে ও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার বিষয়ে খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে ৬ বিষয়ে ৩২ দফা প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। 

তাতে রয়েছে, নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালীকরণ, নির্বাচনের পরিবেশ, সুষ্ঠু ভোট, নির্বাচনী ব্যয় ও জাতীয় নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার বিষয়ে দলমতের উর্ধ্বে উঠে নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন, জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়সহ নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগসমূহ নির্বাচন কমিশনের অধীনে রাখা, সামরিক বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেসী ক্ষমতা প্রদান করে নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন, ইসির নিজস্ব কর্মকর্তা থেকে রিটানিং অফিসার ও সহকারী রিটানিং অফিসার নিয়োগ, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম বা ডিভিএম ব্যবহার না করা, ২০০৮ সালের পূর্বে সংসদীয় আসনসংখ্যা যেভাবে বিন্যস্ত ছিল সেভাবে পুন:নির্ধারণ করা, নির্বাচনকে অর্থ ও পেশী শক্তির প্রভাব মুক্ত রাখা, সকল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও লাইসেন্সকৃত অস্ত্র জমা নেয়া, বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নির্বাচনী তফসিল ঘোষনার পূর্বে সকল রাজবন্দীকে মুক্তি দেয়া, অনলাইনেও মনোনয়ন পত্র জমাদানের সুযোগ রাখা, সিল মারার গোপন স্থান ব্যতীত ভোট কেন্দ্রের সকল জায়গা সিসিটিভির আওতায় আনা, প্রবাসী ভোটারদের ভোট গ্রহনের পদক্ষেপ নেয়া, ভোট গ্রহনে নিয়োজিতদে আগাম ভোট গ্রহনের ব্যবস্থা করা, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা, সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় যাতে কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে না পারে সে পদক্ষেপ নেয়া, সরকারী দল ও বিরোধী দলসমূহকে অবিলম্বে জাতীয় সংলাপে বসার ব্যবস্থা করাসহ মোট বত্রিশ দফা প্রস্তাব পেশ করা হয়। 

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আবদুল বাসিত আজাদ, যুগ্মমহাসচিব এডভোকেট মো: জাহাঙ্গীর হোসাইন, শেখ গোলাম আসগর, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, বায়তুলমাল ও আইনবিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মোঃ মিজানুর রহমান, অফিস ও প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ আবদুল জলিল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য হাফেজ মাওলানা জিন্নত আলী।

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনার মোঃ রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী(অবঃ) ও নির্বাচন কমশিনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর একটি বিতর্কিত ও অগ্রহনযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে একটি জনবিচ্ছিন্ন সরকার দেশের ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকায় দেশে রাজনৈতিক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। দেশের সংসদ আজ ‘অকার্যকর’। মানুষের ভোটের অধিকার ভূলুন্ঠিত। ৫ জানুয়ারীর ভোট ও ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে খোদ নির্বাচন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন নিয়ে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে এক নেতিবাচক ধারণা। চলমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে দেশে একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল ও জবাবদিহীমূলক সরকার ও কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরী। একইসাথে নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার তথা নির্বাচনী ব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্যে সকল দলের অংশগ্রহনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন অত্যন্ত গুরুত্বর্র্র্র্পূণ। একই সাথে নির্বাচনকালীন সরকারের সদিচ্ছা ও নিরপেক্ষ ভূমিকা অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ। 

উল্লেখ্য, ৩১ জুলাই সুশীল সমাজ, ১৬ ও ১৭ অগাস্ট গণমাধ্যম প্রতিনিধির সঙ্গে সংলাপের পর ২৪ আগস্ট থেকে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মতবিনিময় শুরু হয়। অক্টোবর পর্যন্ত নিবন্ধিত ৪০টি দলের সঙ্গে সংলাপ শেষ করার কথা রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ