ঢাকা, মঙ্গলবার 29 August 2017, ১৪ ভাদ্র ১৪২8, ০৬ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত খাদ্য ঘাটতি ২০ লাখ মে. টন 

স্টাফ রিপোর্টার : বন্যার কারণে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব ব্রিজ-কালভার্ট বন্ধ আছে সেগুলো খুলে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকদের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া দেশে খাদ্য মজুদের বিষয়ে জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। এর প্রেক্ষিতে খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম মন্ত্রিপরিষদকে জানান, আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে খাদ্য ঘাটতি সর্বোচ্চ ২০ লাখ মেট্রিক টন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমনভাবে খাদ্য আমদানি করবেন যেন ভারসাম্য থাকে। কৃষকের যেন কোনো অসুবিধা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

মন্ত্রিপরিষদের একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা ও সংশ্লিষ্ট সচিবের প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানা গেছে। গতকাল সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ছাড়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে দুপুরে সচিবালয়ে এ বিষয়ে যথারীতি প্রেস ব্রিফিং করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। 

বৈঠকে উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনাকালে কয়েকজন মন্ত্রী বলেন, দেশের অনেক ব্রিজ ও কালভার্টের কারণে বন্যার পানি দ্রুত নিষ্কাশন হচ্ছে না। এছাড়া ছোটখাট অনেক নদীতে বাঁধ দেয়া হয়েছে। অনেকে কালভার্ট-ব্রিজের মুখে দেয়াল দিয়ে মাছ চাষ করছেন। অনেকে নিজের সুবিধার জন্য ব্রিজ ও কালভার্টের নিচে মাটি দিয়ে ভরাট করে ফেলেছেন। ফলে বন্যার পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারছে না। এতে অনেক স্থানে পানিবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

মন্ত্রীদের এমন আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্যেকটি ব্রিজ ও কালভার্ট দিয়ে পানি যাতে দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে সেই ব্যবস্থা নিতে ডিসিদের (জেলা প্রশাসক) কার্যকর পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

আলোচনাকালে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, পর্যাপ্ত পরিমাণে আমন ধানের বীজ মজুদ আছে। এছাড়া আমনের চারাও পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে। বন্যার পানি নেমে গেলে কৃষকরা আবার ধান রোপন করতে পারবেন।

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম মন্ত্রিপরিষদকে জানান, আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে খাদ্য ঘাটতি সর্বোচ্চ ২০ লাখ মে. টন।

সভা শেষে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ওই সময়ের মধ্যে দেশের খাদ্য ঘাটতি মেটাতে কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড থেকে ১৫ লাখ মে. টন চাল এবং রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে ৫ লাখ মে. টন গম আমদানি করা হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী।

সচিব আরো জানান, সভার শুরুতে খাদ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল চাল আমদানির বিষয়ে সম্প্রতি কম্বোডিয়া সফর সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করে। এ সময় তারা জানান, আগামী ৫ বছর মেয়াদে সর্বোচ্চ ১০ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির জন্য কম্বোডিয়ার সঙ্গে জিটুজি পদ্ধতিতে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। 

চুক্তি অনুযায়ী কবে নাগাদ চাল আসবে সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে শফিউল আলম বলেন, ইতোমধ্যে চাল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্য জানান, এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০ লাখ মে. টনের বেশি খাদ্যশস্য যেন আমদানি না করা হয়। কারণ প্রয়োজনের বেশি আমদানি করলে দেশের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

এদিকে, ঢালিউড মহানায়ক, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি রাজ্জাকের মৃত্যুতে মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। নায়করাজের পাশাপাশি যশোর-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য-আওয়ামী লীগ নেতা খান টিপু সুলতান ও ক্রিকেটার খালেদ মাসুদ পাইলটের বাবা সাবেক ফুটবলার শামসুল আলম মোল্লার মৃত্যুতেও শোক প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৯ আগস্ট খান টিপু সুলতান, ২১ আগস্ট নায়করাজ, ২৭ আগস্ট শামসুল আলম মোল্লা মারা গেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ