ঢাকা, মঙ্গলবার 29 August 2017, ১৪ ভাদ্র ১৪২8, ০৬ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নীলফামারীর সৈয়দপুরে ট্রেনের আগাম টিকিট মিলছে না

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা : নীলফামারীতে কোনো স্টেশনে ট্রেনের আগাম টিকিট মিলছে না। অগ্রিম টিকিট পাওয়া না পাওয়া নিয়ন্ত্রণ করছেন চোরাকারবারীরা। ফলে ট্রেন যাত্রীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। নীলফামারীতে গত দুইদিন ধরে লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না ট্রেনের আগাম টিকেট। আসামী ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোনো টিকেট না থাকায় হতাশ যাত্রীরা।

ঈদ যাত্রার অগ্রিম টিকিটের জন্য যাত্রীরা ভোরে এসে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। টিকিট বিক্রি শুরু হতে না হতেই বলা হচ্ছে টিকিট শেষ। সোমবার সকালে (২৮ আগস্ট) নীলফামারীর ব্যস্ততম সৈয়দপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা গেল, অগ্রিম টিকিটের নারী-পুরুষ লাইনে দাঁড়িয়েছেন সেই সাথে মাঝে মধ্যে রাখা হয়েছে ইট, চেয়ারসহ অন্যান্য জিনিসপত্র। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, এসব রেখে জায়গা দখল করেছেন রেলওয়ে কারখানার কর্মচারি মাহবুব ওরফে জামাই।

তিনিই মুলত: ট্রেনের টিকিট কিনে নিয়ে যাত্রীদের কাছে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছেন। এ ব্যাপারে সৈয়দপুর জিআরপি থানার এসআই মোস্তফা জানান, মাহবুবের এ অনৈতিক কাজে বাঁধা দেয়ায় ঝগড়া পর্যন্ত হয়েছে। সহকারি স্টেশন মাস্টার আলমগীর হোসেন জানান, সৈয়দপুরের ট্রেনের টিকিট বরাদ্দ রয়েছে মোট ১২০টি। যারা লাইনে দাঁড়ান তাদেরকে টিকিট দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, জামাইয়ের কর্মকান্ডের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলে জানানো হয়েছে। এসব চোরাকারবারীদের কারণে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। 

জেলা থেকে প্রতিদিন ৪টি আন্ত:নগর ট্রেন নীলসাগর ঢাকা, খুলনা ও রাজশাহী যাতায়াত করে। এর মধ্যে চিলাহাটি থেকে যাতায়াত করে মাত্র ১টি মাত্র ট্রেন। ফলে টিকিটের চাপ অনেকটাই বেশি। অধিকাংশ মানুষই টিকেট না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। ট্রেন যাত্রী আজাদ, ফিরোজা, আব্বাস ও জহির উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, দুইদিন ধরে স্টেশনে যাওয়া-আসা করছি কিন্ত ট্রেনের টিকিট পাচ্ছি না। 

এছাড়া অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করতে আসা স্থানীয়দের অভিযোগ, দালালের দৌরাত্ম টিকিট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে টিকেট কাউন্টার কর্তৃপক্ষের দাবি, সুষ্ঠুভাবেই টিকেট সরবরাহ করা হচ্ছে।

যুবলীগ কর্মী ছুরিকাঘাত

নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেজোয়ান (২৬) নামে যুবলীগ কর্মীকে ছুরিকাঘাত করেছে দূর্বত্তরা। রোববার (২৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের উপকন্ঠ উত্তরা আবাসনে এ ঘটনা ঘটে। রেজোয়ান আবাসনের আফতাব হোসেনের পুত্র এবং পৌর ১নং ওয়ার্ডের যুবলীগের কর্মী।

সূত্র মতে, আর্থিক লেনদেন নিয়ে রেজোয়ানের সাথে প্রতিবেশী ইকবাল হোসেন (৫৩) ও তার পুত্র সাকিব হোসেনের (২৬) দ্বন্দ্ব হয়। এরই জের ধরে রেজোয়ানকে আটকিয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে তার হাতের রগ কেটে দেয় এবং কোমরের নীচে আঘাত করে।

পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত রেজোয়ানকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করায়। কিন্তু তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

সৈয়দপুর পৌর কাউন্সিলর মো: শাহিন হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পুলিশ ইকবাল ও সাকিবকে আটক করেছে। তবে ওই ঘটনায় ইকবালের স্ত্রী আহত হয়েছেন। তিনিও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ