ঢাকা, মঙ্গলবার 29 August 2017, ১৪ ভাদ্র ১৪২8, ০৬ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আ’লীগ সুক্ষ্ণভাবে সাম্প্রদায়িকতাকে সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে

গতকাল সোমবার বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনায় দোয়ার মাহফিলে বক্তব্য রাখেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভি আহম্মদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : মানসিকভাবে দুর্বল করতে সরকারি দল প্রধান বিচারপতিকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, আপনার (প্রধান বিচারপতি) বিরুদ্ধে নানা হুমকি-ধামকি, আপনার বিরুদ্ধে এই মুহুর্তে নানা ধরণের অনুসন্ধান, আপনার জমি কয়টা, তিন কাঠা থেকে পাঁচ কাঠা করেছেন কিনা। এসব সরকার করাচ্ছে। এই জন্য করাচ্ছে- মানসিকভাবে দুর্বল করে দাও। এ সময় প্রধান বিচারপতিকে বিদেশে চলে যেতে ক্ষমতাসীনদের হুমকিতে ‘সাম্প্রদায়িকতার গন্ধের কথা জানান রিজভী। গতকাল সোমবার সকালে এক দোয়া মাহফিলে কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই আশঙ্কা ব্যক্ত করেন। গত ৮ অগাস্ট লন্ডনের মুরফিল্ড আই হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ডান চোখে অস্ত্রোপচারের পর তার আরোগ্য কামনায় নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল।
রিজভী বলেন, সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী এবং নেতা দেশের প্রধান বিচারপতিকে বলেছেন, আপনি বিদেশে চলে গেলেই পারেন। আরো দুই-একজন মন্ত্রীর কথায় আমরা কিন্তু সাম্প্রদায়িকতার গন্ধ পাচ্ছি। এই সৃজনপ্রেমিক সেক্যুলার রাজণৈতিক দল যে রক্ত ঝরিয়েছে আসলে তারা কিন্তু অন্য জায়গার লোক। খুব সুক্ষèভাবে সাম্প্রদায়িকতাকে তারা নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন, গন্ধ ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। কারণ প্রধান বিচারপতি বাংলাদেশী কিন্তু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের দিক থেকে তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। এই কারণে নানা ধরণের প্রচ্ছন্ন হুমকির মধ্যে এই সম্প্রদায়িকতাটা রয়েছে।
রিজভী বলেন, উনি (প্রধান বিচারপতি) বিদেশে যাবেন কেনো? এখন কী প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহারকে বিদেশে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়ে তার বাড়ি-ঘর, জমি-জায়গা আপনারা দখল করবেন? এটাই হচ্ছে আপনাদের অভিপ্রায়, এটাই হচ্ছে আপনাদের প্রচেষ্টা। সেজন্য এখন তাকে দেশের বাইরে চলে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছেন, পরামর্শ দিচ্ছেন। কারণ আপনাদের কাজ হচ্ছে সংখ্যালঘুদের জমি-জায়গা দখল করা, সংখ্যালঘুদের ঘর-বাড়ি দখল করা- আপনাদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এখন সেটাই ফুটে উঠছে। তিনি বলেন, আপনারা তো এদেশে সংখ্যালগুদের জায়গা-জমি, বসত-ভাটি সব দখল করেন, তাদেরকে উচ্ছেদ করে দেন। এসব খবর জাতীয় দৈনিক ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, বাংলাদেশের মানুষ জানে। দেশের হিন্দুদের বাড়ি-ঘর, জমি-জায়গা, বৌদ্ধ-খৃষ্টানদের জমি-জায়গা তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান-এগুলো দখল করে আওয়ামী লীগ, অন্য কেউ না।
রিজভী বলেন, আমি মাননীয় প্রধান বিচারপতির উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আপনাকে তারা(সরকার) পরাজিত করার চেষ্টা করছে। আপনি(প্রধান বিচারপতি) এই চাপের মুখেও আপনি অটল থাকলে পরেও ইতিহাসে আপনি বীর হবেন। কোনো ক্রমেই যখন আপনাকে নুন্যতম টলাতে পারবে না, আপনি হবেন এদেশে বীরদের আরেকজন বীর। বীরগাঁথার মধ্য আপনারও হবে বীরগাঁধা। আর যদি ওদের চাপের কাছে যদি কোনোভাবে বিন্দুমাত্র সরে যান, তাহলে কিন্তু আপনি মানুষের মধ্যে ইতিহাসে আপনার এখন যে অবস্থানটি সেই অবস্থানটি আর থাকবে না। আওয়ামী লীগ চাচ্ছে, ক্ষমতাসীনরা চাচ্ছে আপনাকে সেই জায়গা থেকে নতজানু করার জন্য, নানাভাবে চাপ দিয়ে চেষ্টা করে নানাভাবে আপনাকে বিপন্ন করার চেষ্টা করছে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী আলাদাভাবে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে গিয়ে সাক্ষাতের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, কি কথা বলেছেন, আমি জানি না। এইটুকু বুঝা যায়, সরকারের পক্ষ থেকে নানাভাবে তার ওপরে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। হিমালয় পর্বতের চাপ তার ওপর দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই চাপের মধ্যেও মাননীয় প্রধান বিচারপতি আপনি সাধারণ মানুষের বিবেকের যে প্রতিধ্বনি ঘটিয়েছেন এদেশে দুঃশাসন, ইলেকশন কমিশন, পার্লামেন্ট, করাপশন, গভার্মেন্ট নিয়ে, আপনি যে অবজারভেশন দিয়েছেন- এটা কোটি কোটি মানুষের কন্ঠের উচ্চারিত ধ্বনি সেটার প্রতিফলন হয়েছে। জনগন আশা করে, বিশ্বাস করে আপনি চারিদিকে এই জুলুম-নির্যাতন-উৎপীড়নের মধ্যেও আপনার দৃঢ়তা এবং সাহস নিয়ে আপনি যেভাবে কাজ করেছেন, আপনি যেভাবে আপনি রায়টি দিয়েছেন এবং এখন যেভাবে অটল আছেন- জনগন সেটিই দেখতে চায়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় হাত দিলে হাত পুঁড়ে যাবে- বানিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের এই বক্তব্যকে ‘স্ববিরোধী’ বলে মন্তব্য করেছেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বাহ বাহ। হাত পুঁড়ে যাবে তাহলে তো আপনি নিজে নিজের গায়ের আগুন ঠেলে দেয়া উচিৎ। কারণ আপনি সেই ব্যক্তি যখন দুইটি অবজারভেশন দেয়া হয়েছিলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলে, এই এবিএম খায়রুল হক যে অবজারভেশন দিয়েছিলেন এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে সংসদে যে বিশেষ কমিটি হয়েছিলো। সেই কমিটিতে যারা বক্তব্য রেখেছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাখার পক্ষে তারমধ্যে তোফায়েল আহমেদ সাহেবও ছিলেন।
উনি(তোফায়েল আহমেদ) গতকাল বলেছেন, এটাতে হাত দিলে হাত পুঁড়ে যাবে। কেনো? মন্ত্রিত্বের জন্য, ক্ষমতায় থাকার লোভ, হালুয়া-রুটি, মাংসের ঝোল- শুধু এই টুকুর জন্যে। গণতন্ত্র, সংসদ, সার্বভৌমত্ব, মানুষের নাগরিক স্বাধীনতা, কথা বলার স্বাধীনতা-সব জলাঞ্জলি দিলেন। আপনি ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের সিপাহশালা বলেন। সবকিছু কী ছিলো আওয়ামী লীগের লুটপাটের জন্য, মানুষের ঘর-বাড়ি দখল করার জন্য, গণতন্ত্রকে দখল করার জন্য। নির্বাচন কমিশন, সংসদ থেকে শুরু করে এখন সর্বোচ্চ আদালতকে করাত্ব করতে পারছেন না, কবজার করতে না পারছেন না বলে ক্ষুব্ধ হয়ে আপনার বলছেন যে হাত পুঁড়ে যাবে।
তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে দোয়া মাহফিলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আহমেদ আজম খান, প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপু, এবিএম মোশাররফ হোসেন, আমিরুল ইসলাম আলিম, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, হাফেজ আবদুল মালেকসহ শতাধিক নেতা-কর্মী অংশ নেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ