ঢাকা, মঙ্গলবার 29 August 2017, ১৪ ভাদ্র ১৪২8, ০৬ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কেশবপুরে ইউরিয়া সার সংকট আমন চাষীরা বিপাকে

কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা : যশোরের কেশবপুরে চলতি আমন মওসুমে কৃষকদের জন্য বিসিআইসি ডিলারদের অনুকূলে বরাদ্দকৃত ইউরিয়া সার বেশী দামে মাছের খাদ্য হিসেবে ঘের মালিকদের কাছে বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ডিলারদের অতি মুনাফা লাভের আশায় এ উপজেলায় সম্প্রতি ইউরিয়া সারের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে আমন চাষীরা পড়েছে বিপাকে। যে কারণে চলতি মওসুমে কেশবপুরে আমন ধান চাষে সরকারি লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, কেশবপুরে বিসিআইসি অনুমোদিত ডিলার রয়েছে ১৩ জন। ওইসব ডিলারের অধীন উপজেলার প্রতি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ১০৮ জনের মধ্যে ৮৬ জন খুচরা বিক্রেতা (সাব ডিলার) রয়েছে। চলতি মৌসুমে কেশবপুরে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৬ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে। বন্যা ও পানিবদ্ধতার কারণে ২২ আগষ্ট পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ৩ হাজার ৫২০ হেক্টর। আমন ধান ও অন্যান্য সকল প্রকার মৌসুমি ফসলের অনুকুলে জুন, জুলাই ও আগষ্ট মাসের মোট ইউরিয়া সারের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১ হাজার ৯৫৩ মেট্রিক টন। এরমধ্যে ডিলাররা ইউরিয়া সার উত্তোলন করেছে ১ হাজার ৪৩০ মেট্রিক টন। লক্ষমাত্রার চেয়ে প্রায় অর্ধেক জমিতে আমন আবাদ হওয়ায় ইউরিয়া সংকট হওয়ার কথা না। অথচ অধিকাংশ বিসিআইসি ডিলার অধিক মুনাফা লাভের আশায় বেশী দামে ইউরিয়া সার মাছের খাদ্য হিসেবে ঘের মালিকদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন। ফলে খুচরা বিক্রেতারা সার না পাওয়ায় ভরা মওসুমে কৃষকরা সময় মত জমিতে সার দিতে পারছে না। আর এ সংকটের কারণে কৃষকরা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশী দামে ইউরিয়া কিনতে বাধ্য হচ্ছে। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক খুচরা বিক্রেতা জানান, বিসিআইসি ডিলারদের অনুকুলে বরাদ্দকৃত ইউরিয়া সার সাব ডিলারদের নিকট বিক্রি না করে চড়া মূল্যে রাতের আধারে অথবা খুব ভোরে মাছের ঘের ব্যবসায়ীদের নিকট পাচার করে দিচ্ছেন। এ ভাবে বিসিআইসি ডিলাররা ইউরিয়া সারের সংকট তৈরি করে তাদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশী মূল্যে সার বিক্রি করছেন। বিধায় তারা কৃষকদের কাছে বেশী দামে সার বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
উপজেলা মৎস্য অফিসার আলমগীর কবির বলেন, কেশবপুরে প্রায় ৬ হাজার মাছের ঘের রয়েছে। যার অনুকুলে ইউরিয়া সারের কোনো বরাদ্দ নেই। অথচ ঘের ব্যবসায়ীরা প্রচুর পরিমান ইউরিয়া ও টিএসপি সার মাছের ঘেরে ব্যবহার করে থাকেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার মহাদেব চন্দ্র সানা বলেন, সম্প্রতি উপজেলা মৎস্য অফিসার মাছের ঘেরের জন্য ৪ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া ও ৪ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সারের চাহিদা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে সার-বীজ মনিটরিং কমিটির মিটিং করে রেজুলেশন জেলা অফিসে পাঠানো হয়েছে। যদি ঘেরের জন্য সার বরাদ্দ পাওয়া যায় তখন সংকট থাকবে না।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, আজ (মঙ্গলবার) এক গাড়ী ইউরিয়া কেশবপুরে এসেছে। পুলিশ প্রশাসনকে বলা হয়েছে ওই সার নামানোর ব্যবস্থা করে দিতে। ২-১ দিনের মধ্যে হয়ত সংকট কেটে যাবে।
বানভাসিদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ
কেশবপুরে রবিবার ঢাকাস্থ যশোর সমিতির উদ্যোগে উপজেলার পাঁজিয়া ও বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের বানভাসী মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।
পাঁজিয়া ও বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে বন্যা কবলিত ৪০০ পরিবারের ভেতর ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডি এসবি) আনছার উদ্দিন, কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি )এস এম আনোয়ার হোসেন, কেশবপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আশরাফ-উজ-জামান খান,সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন চৌধুরী, সাংগঠণিক সম্পাদক আব্দুর রউফ, নিলুফা সুলতানা, কামাল উদ্দিন, আব্দুস সামাদ, আরাফাত হোসেন, রেজাউল করীম, আনোয়ারুল করিম সোহেল, ইউপি চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম, আমজাদ হোসেন প্রমুখ। ত্রাণ সহায়তা হিসেবে প্রতিটি পরিবারকে চাল, ডাল, আলু, তেল, চিনি, লবন, মোমবাতিও ম্যাচ বিতরণ করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ