ঢাকা, মঙ্গলবার 29 August 2017, ১৪ ভাদ্র ১৪২8, ০৬ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চৌগাছায় মহাবিপাকে রোগী ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষ

চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা : যশোরের চৌগাছায় নজির বিহীন লোডশেডিং ও অসহনীয় গরমে মহাবিপাকে কোমলমতি শিক্ষার্থী ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী সাধারণ মানুষ। লোডশেডিংয়ের ফলে প্রচন্ড গরমে নানাবিধ  রোগের প্রকোপ বাড়ছে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে গর্ভবতী মা,শিশুসহ নানা বয়সের সাধারণ রোগী। অন্যদিকে কল-কারখানায় ও ডিম-মুরগি খামারে ধস নেমেছে। চৌগাছা জোনাল অফিস সূত্রে জানাযায়, বর্তমানে  চৌগাছা গ্রিডে বিদ্যুতের চাহিদা ৮/৯ মেগাওয়াট। কিন্তু সেখানে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া যায় তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। এর মধ্যে আবার ৩ মেগাওয়াট বিশেষ এলাকার জন্য বরাদ্দ থাকে।
একদিকে বিদ্যুতের এ নজির বিহীন লোডশেডিং অন্যদিকে ভাদ্রের প্রচন্ড গরমে নিরঘুম রাত কাটাচ্ছেন অনেকে। ঘুম ঠিকমত না হওয়ায় মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে যার ফলে হাসপাতালে সকল ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া প্রস্তুত করতে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে। বিদ্যুতের এই ভেলকি বাজিতে নাকাল চৌগাছা উপজেলাবাসী। আওয়ামীলীগ সরকার বারবার বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র উদ্বোধন করলেও বাস্তবে তার কোন প্রতিফলন ঘটেনি। চাহিদার তুলনায় ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
 সোমবার সরেজমিনে পল্লীবিদ্যুতের চৌগাছা জোনাল অফিস গেলে দেখা যায়, পল্লীবিদ্যুতের অফিসে ইঞ্জিন চালিত জেনারেটর চলছে। অফিসের জরুরি ফাইলপত্রাদি প্রস্তুত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্মকর্তাদের। বিদ্যুতের অভাবে কর্মবিমুখ হয়ে পড়েছে শ্রমজীবী শতশত মানুষ। হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুন। বিদ্যুৎ ঠিকমত না থাকায় প্রচ- গরমে প্রসূতী মা, শিশু, বৃদ্ধাসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ ডাইরিয়া, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
 ব্রয়লার খামারগুলোতে অনেক ব্রয়লার হিটস্ট্রোকে মারা যাচ্ছে। ফলে মাইকিং করে কমদামে বিক্রি করা হচ্ছে। ডিমের খামারে উৎপাদন থাকলেও বিদ্যুৎ ঘাটতির ফলে হিমাগারে সংরক্ষণ করতে পারছে না। এতে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে ব্রয়লার খামার মালিকরা। অন্যদিকে লেয়ার খামারেও সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। উপজেলার জগদিশপুর গ্রামের মুরগির খামারি আজাদ হোসেন জানান, প্রচন্ড গরমে ডিম উৎপাদন অনেক কমে গেছে। প্রচন্ড গরমে ডিম পঁচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। লোডশেডিংয়ের কারণেই সম্ভাবনাময় এ সমস্ত শিল্পগুলোতে ধস নেমেছে। গরু ও ছাগল মোটা-তাজাকরণ খামারিদেরও সমস্যার অন্ত নেই।
 চৌগাছা বাজারের কাপুড়িয়া পট্রির কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান জানান ঈদের বাকী আর মাত্র কয়েক দিন দিনে-রাতের বেশিভাগ সময়ে বিদ্যুৎ না থাকার ফলে ব্যবসায় দারুণমন্দা যাচ্ছে। কারণ দোকান-পাটে বসে মাছি মারছি বেচা-বিক্রি নেই। সব মিলিয়ে তাদের অভিযোগ চৌগাছাতে এখন আর বিদ্যুৎ যাচ্ছেনা মাঝে মাঝে আসছে। এমনিতেই ভাদ্রের প্রচ- খরতাপ ও নজিরবিহীন লোডশেডিংয়ের ফলে উপজেলাবাসী নাকাল। দিনে পর দিন বিদ্যুতের লোডশেডিং আরো প্রকট আকার ধারণ করছে। লোডশেডিংয়ের ফলে বিকল হয়ে যাচ্ছে টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটারসহ বিদ্যুৎ চালিত ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী।
সংবাদকর্মীরা সময়মত তাদের সংবাদ পাঠাতে পারছে না। নজির বিহীন লোডশেডিং আর প্রচ- তাপে গর্ভবতী মা, শিশুসহ সাধারণ মানুষ ডাইরিয়াসহ নানা ধরনের চর্ম রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতালে গিয়েই তার প্রমাণ মিলেছে। চৌগাছা মডেল হাসপাতাল সূত্রে জানাযায় গত ৩ দিনে হাতপাতালে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৪’শ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। হাসপাতালে চিকিৎসারত বৃদ্ধ হামেদ আলী (৫৫) জানান, ‘প্রচন্ড গরমে প্রাণ যায় যায় অবস্থা। রাতেও অসহ্য গরম পড়ছে। ফ্যান থাকলেও বিদ্যুতের অভাবে তা ঘুরছেনা।’’ দিনে রোদের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গরম। তীব্র গরমে মানুষের পাশাপাশি জীবকুলের জীবন অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
এ ব্যাপারে চৌগাছা পল্লীবিদ্যুতের ডি জি এম দেলোয়ার হোসেন জানান হঠাৎ করে জাতীয় গ্রীডে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় সাময়ীক সমস্যা হচ্ছে। তবে কবে নাগাত এ সমস্যার সমাধান হবে সেটাও বলা মুশকিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ