ঢাকা, মঙ্গলবার 29 August 2017, ১৪ ভাদ্র ১৪২8, ০৬ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মিয়ানমারে গণহত্যা বন্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়কে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে -শিবির সভাপতি

গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে ছাত্রশিবিরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট বৈঠকে সভাপতির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত বলেছেন, একটি সভ্য বিশ্ব ব্যবস্থা থাকার পরও মিয়ানমারে বার বার মুসলমানদের উপর গণহত্যা ও নিপিড়ণ চলছে। যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। মিয়ানমারে মুসলমানদের উপর গণহত্যা বন্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়কে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর এক মিলনায়তনে ছাত্রশিবিরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইনের পরিচালনায় এসময় সেক্রেটারিয়েট সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
শিবির সভাপতি বলেন, মিয়ানমারে ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা ও মানবতা বিরোধী নৃশংসতা চলছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও স্থানীয় বৌদ্ধ সন্ত্রাসীরা মুসলিম অধ্যুষিত পুরো রাখাইন রাজ্যকে নরকে পরিণত করেছে। নিরস্ত্র মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা করছে। যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। নারীদকে ধর্ষণ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে। রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে পুড়িয়ে হত্যা করা হচ্ছে। পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে মুসলমানদের ঘর বাড়ি মসজিদ মাদ্রাসা। নির্বিচারে লুটপাট করা হচ্ছে। গৃহহীন হয়ে পড়েছে লক্ষ লক্ষ মুসলমান। রাষ্ট্র কর্তৃক নিজ দেশের নাগরীকদের উপর এমন বর্বরতা ইতিহাসে নজীরবিহীন। কোন সভ্য রাষ্ট্র এমন বর্বর নজির স্থাপন করতে পারে না। বিশ্ববাসীর জন্য লজ্জার বিষয় হলো, শান্তিতে নোবেল পাওয়া ব্যক্তি ক্ষমতা থাকা অবস্থায় এই রকম নারকীয় হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হওয়া। অন্যদিকে সব হারিয়ে জীবন বাঁচানোর তাগিদে রোহিঙ্গা মুসলমানরা যখন একটু আশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশের দিকে ছুটে আসছে তখন বাংলাদেশেও তাদের ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। একদিকে মিয়ানমার সেনাবাহীনির নির্বিচারে গুলি অন্যদিকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগটুকুও না পেয়ে মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে আছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান। এ এক ভয়াবহ চিত্র।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর এমন সময় হামলা করা হয়েছে যার ২ দিন পূর্বে কফি আনান কমিশনের রিপোর্টে কমিশনের পক্ষ থেকে ১২ লাখ রোহিঙ্গার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়। কিন্তু মিয়ানমার সরকার কফি আনান কমিশনের সুপারিশ উপেক্ষা করে পরিকল্পিত ভাবে আবারও গণহত্যা শুরু করে। এর আগেও বহুবার মিয়ানমারে মুসলমানদের উপর গণহত্যা ও নির্যাতন চালানো হয়েছে। ধারাবাহিক নির্যাতনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের একটি বিশাল অংশ এখন দেশ ছাড়া। গত ৫০ বছরে মিয়ানমার সরকার সে দেশ থেকে প্রায় ১২ লক্ষ মুসলমানকে বিতাড়িত করেছে। প্রায় ৪ লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলমান বাংলাদেশে উদ্বাস্তু অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছে।
তিনি বলেন, আমরা বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে আহবান রেখে বলতে চাই, সভ্যতা ও মানবতার বুলি আওড়িয়ে গণহত্যায় নিরব থাকা অত্যন্ত অমানবিক, লজ্জাজনক এবং সভ্যতা ও মানবাধিকারের প্রতি চরম পরিহাস। অবিলম্বে মিয়ানমার সরকারকে এই গণহত্যা বন্ধ করে রোহিঙ্গা মুসলমানদের নাগরিকত্ব প্রতিষ্ঠায় কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তদন্তের মাধ্যমে সেনাসদস্যসহ জড়িতদের বিচার করতে হবে। জাতিসংঘসহ বিশ্ব সংস্থাগুলোকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে হবে। একইসাথে ওআইসি, আরবলীগ, ইসলামি সংস্থা ও মুসলিম উম্মাহকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের পাশে দাঁড়াতে হবে। রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে ব্যপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যপারে কোনো অবস্থান নিতে ব্যর্থ হওয়ায় সূচি’র নোবেল শান্তি পুরস্কার ফিরিয়ে নিতে হবে। অন্যদিকে বিপদগ্রস্ত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে না দিয়ে মানবিক দিক বিবেচনা করে গণহত্যা ও নির্যাতনের শিকার মুসলমানদের পাশে দাঁড়াতে বাংলাদেশ সরকারকে আহবান জানাচ্ছি।
বৈঠক শেষে মিয়ানমারে নিহত মুসলমানদের রুহের মাগফিরাত ও নির্যাতিতদের জন্য রহমত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ