ঢাকা, মঙ্গলবার 29 August 2017, ১৪ ভাদ্র ১৪২8, ০৬ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পুুলিশের বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ

রাণীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা : চুরির অপবাদ দিয়ে দুই পায়ের বৃদ্ধা আঙ্গুলে সুঁচ ঢুকিয়ে, পায়ের পাতায় সুঁচ ফুটিয়ে ও দড়ি দিয়ে বেঁধে প্রায় ১৬ ঘন্টা ধরে দফায় দফায় মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বর নির্যাতন চালানো হয়েছে ১৫ বছরের কিশোর শরিফুল ইসলামের উপর। এছাড়া পুরো শরীরে মারাত্মক জখম ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। যা আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগকেও হার মানিয়েছে। পা ধরে অনুনয় বিনয় করার পরও তাকে ছেড়ে দেয়া হয়নি। কিশোর শরিফুল ইসলামের বাড়ি নওগাঁর রানীনগর উপজেলার কালিগ্রাম ইউনিয়নের কালিগ্রামের মুন্সিপাড়ায়। প্রবাসি জামাল উদ্দিন আকন্দের ছেলে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও কিশোরকে উদ্ধার না করেই রহস্যজনক কারণে থানায় ফিরে আসে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে এক ধরনের চাপা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী পুলিশের এ বিষয়টিকে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন। শরিফুল নওগাঁ সদর হাসপাতালে অর্থোপেডিক বিভাগে শিশু ওয়ার্ডের ৩৬নং বেডে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে শরিফুল ইসলাম বাড়িতে শুয়েছিল। প্রতিবেশী আব্দুল খালেক কাজ আছে বলে শরিফুলকে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। শরিফুলকে তার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর বাড়ির দরজা বন্ধ করে দেয়। এরপর হাজী আক্কাস আলী, তার ছেলে জিয়ারুল ও টিপুকে বাড়িতে ডেকে নেয় খালেক। খালেক টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে শরিফুলের বাম ডানায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এরপর গলায় গামছা পেঁচিয়ে ৪-৫ মিনিট ধরে টানা হেঁচড়া করে এবং শ্বাস রোধ করার চেষ্টা করে। শরিফুলের দুই হাত পিঠমোড়া দিয়ে পিছনে দড়ি দিয়ে বেঁধে চারজন মিলে লাঠি দিয়ে নির্যাতন করে। চিৎকার চেঁচামেচি করায় কৌশলে শরিফুলকে বাড়ির পাশের একটি জঙ্গলের ধারে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে কয়েক দফা নির্যাতন চালানো হয়। প্রতিবেশিরা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাদেরকে মারপিট করার জন্য নিষেধ করে। এ বিষয়টি তার মা আয়েশাকে জানানো হলে ছুটে যান সেখানে। তাদের হাত পা ধরেও কোন কাজ হয়নি। এরপর থানা পুলিশে সংবাদ দেন মা আয়েশা। তখন রাত ৮টা। পুলিশের এসআই শফিকুর রহমান ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর শরিফুলকে উদ্ধার না করে রহস্যজনকভাবে থানায় ফিরে আসেন। রাতে কিশোরকে খালেকের বাড়িতে রাখা হয় এবং আবারও নির্যাতন চালানো হয়। শনিবার সকালে মা আয়েশা থানায় আসেন এবং পুলিশের কাছে কান্নাকাটি করেন। সারাদিন গেলেও কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। অবশেষে রাত ৮টার দিকে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পুনরায় গিয়ে কিশোর শরিফুলকে উদ্ধার করে এবং রানীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ সময় ঘটনার মুল হোতা আব্দুল খালেককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। উন্নত চিকিৎসার জন্য রবিবার সকালে নওগাঁ সদর হাসপাতালে অর্থোপেডিক বিভাগে ভর্তি করানো হয়। নির্যাতনে শিকার শরিফুল বলে, কাজ করে নিবে বলে খালেক আমাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়ে টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে চারজন মিলে কয়েক দফা মারপিট করে। খালেক বলে তুই আমার ২০ হাজার টাকা কখনো বলে ৫০ হাজার এবং সোনাদানা চুরি করেছিস। তার টাকা কবে হারিয়েছে সেটাও আমি জানিনা বা চুরি করিনি।
শরিফুলের মা আয়েশা বলেন, মারপিটের কারণে আমার ছেলে রক্ত বমি করে। তাদেরকে আমি হাত-পা ধরেছি ছেলেকে ছেড়ে দেয়ার জন্য। তারপরও আবার নির্যাতন চালিয়েছে। প্রথম দিনে পুলিশকে জানানো হলেও পুলিশ আমার ছেলেকে উদ্ধার না করে চলে আসে। আমার ছেলেকে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।
কালিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাবলু বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে শরিফুলের হাত বাধা অবস্থায় দেখি। তার শরীরে নির্যাতনের চিহ্নি দেখা যাচ্ছিল। তাদেরকে বলার পর তারা হাতের বাধন খুলে দেয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় সেখানে পুলিশ গিয়েছিল এবং ফিরে এসেছে। আমি নিজে ডাক্তার নিয়ে এসে তার চিকিৎসা করিয়েছি। তবে শনিবার রাতে পুলিশ আবার গিয়ে ছেলেটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।
রাণীনগর থানার এসআই (উপ-পরিদর্শক) শফিকুর রহমান বলেন, ওই এলাকায় একজন আসামীকে আটক করতে গিয়েছিলাম। বিষয়টি জানার পর ওসি স্যারকে জানিয়েছি। তবে ঘটনাস্থলে শুক্রবার আমি যায়নি। পরের দিন শনিবার কিশোরের মাকে সঙে নিয়ে গিয়ে উদ্ধার করে নিয়ে আসি।
রানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত প্রধান আসামী আব্দুল খালেককে শনিবার আটক করা হয়েছে। ছেলের মা আয়েশা বাদী হয়ে শিশু নির্যাতন আইনে আব্দুল খালেককে প্রধান আসামী করে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।  রোববার তাকে আদালতের মাধ্যমে নওগাঁ জেল হাজতে পাঠানো হয়। তবে পুলিশের দায়িত্বহীনতার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমরা বিষয়টি জানার পরই ঘটনাস্থল থেকে ওই কিশোরকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছি।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন
নওগাঁর রাণীনগরে বন্যায় সম্প্রতি তলিয়ে যাওয়া সদ্য রোপণকৃত রোপা-আমন ধানের মাঠ পরিদর্শন ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বন্যা পরবর্তী করণীয় বিষয়ক পরামর্শ প্রদান করলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্প্রসারণ অনু বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো: মোশারফ হোসেন। তিনি সোমবার সকালে উপজেলার সিম্বা, হাতিরপুল, ছয়বারিয়া, বেলঘড়িয়া সহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের বন্যা পরবর্তী করণীয় বিষয়ে মোতামত নিয়ে তাদেরকে সরিষা ও ভুট্টা বোপণ করার পরামর্শ ও কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরিষা বীজ সহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সহায়ত দেওয়ার আশ্বাস দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো: গোলাম মারুফ, নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মনোজিত কুমার মল্লিক, জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার কৃষিবিদ মো: মাসুদুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোনিয়া বিনতে তাবিব, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হারুনুর রশিদ, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ এসএম গোলাম সারওয়ার, সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ সবুজ কুমার সাহা, উপ-সহকারী আমির আলী, নাজমা সুলতানা প্রমুখ। রাণীনগর উপজেলায় সম্প্রতি বন্যায় ৮ হাজার ৫ শ’ হেক্টর জমির সদ্য রোপণকৃত রোপা-আমন ও বর্ষালী আউশ জাতের ধান তলিয়ে গেছে বলে স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ