ঢাকা, মঙ্গলবার 29 August 2017, ১৪ ভাদ্র ১৪২8, ০৬ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনাঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকরা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দিশেহারা

খুলনা অফিস : খুলনাঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে কর্মরত শ্রমিক, কর্মকর্তা- কর্মচারীদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। আর কবে নাগাদ পরিশোধ করা হবে সে বিষয়েও কোন সিদ্ধান্ত পায়নি মিল কর্তৃপক্ষ। এ অঞ্চলের ৯টি পাটকলে ঈদের আগ পর্যন্ত বকেয়া পড়েছে ৬২ কোটি ৭৫ লাখ ৩ হাজার টাকা। অর্থ সংকটের কারণে মিলের শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মজুরি ও বেতন পরিশোধে হিমসিম খেতে হচ্ছে। এ অঞ্চলের পাটকলগুলোতে ৪ থেকে ৯ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। শ্রমিকরা নিয়মিত মজুরি না পেয়ে আর্থিক সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। শ্রমিকরা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে হতাশার মধ্যে রয়েছে।
পাটকলগুলোর সূত্রে জানা যায়, খুলনা ও যশোর জেলার ৯টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে এখনও কোন সিদ্ধান্ত আসেনি। ঈদের আগ পর্যন্ত এ ৯টি পাটকলে কর্মরতদের বকেয়া পড়েছে ৬২ কোটি ৭৫ লাখ ৩ হাজার টাকা। যার মধ্যে শ্রমিকদের মজুরি ও ঈদ বোনাস বাবদ বকেয়া রয়েছে ৪৮ কোটি ৮৮ লাখ ৬২ হাজার টাকা। আর কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বেতন ও ঈদ বোনাস বাবদ বকেয়া রয়েছে ১৩ কোটি ৮৬ লাখ ৪১ হাজার টাকা।
খুলনা-যশোর অঞ্চলের ৯টি পাটকলের মধ্যে আটরা-গিলাতলা শিল্পাঞ্চলের আলিম জুট মিলের ৯ মজুরি, ৩ মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস বাবদ ৪৪ কোটি ৬ লাখ ১৬ হাজার টাকা, ইস্টার্ণ জুট মিলের ৫ মজুরি, ৩ মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস বাবদ ৪ কোটি ৩৫ লাখ ৮২ হাজার টাকা, খালিশপুর শিল্পাঞ্চলের ক্রিসেন্ট জুট মিলের ৬ মজুরি, ৩ মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস বাবদ ১৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, খালিশপুর জুট মিলের ৫ মজুরি, ২ মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস বাবদ ৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা, দৌলতপুর জুট মিলের ৪ মজুরি, ৩ মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস বাবদ ১ কোটি ৫৬ লাখ ৬২ হাজার টাকা, প্লাটিনাম জুট মিলের ৬ মজুরি, ২ মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস বাবদ ১২ কোটি ৪৪ লাখ ৬৯ হাজার টাকা, দিঘলিয়ার স্টার জুট মিলের ৬ মজুরি, ২ মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস বাবদ ৮ কোটি ৩৪ লাখ ৫৭ হাজার টাকা, যশোর শিল্পাঞ্চলের কার্পেটিং জুট মিলের ৬ মজুরি, ২ মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস বাবদ ২ কোটি ১৩ লাখ টাকা ও জেজে আই জুট মিলের ৮ মজুরি, ৩ মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস বাবদ ৭ কোটি ১৩ লাখ ১৭ হাজার টাকা বকেয়া পাওনা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিলের এক কর্মকর্তা বলেন, অর্থ সংকটে শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তাদের পাওনা পরিশোধ করতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। এ বিষয়ে বিজেএমসি’র কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
প্লাটিনাম জুট মিলের সিবিএ সভাপতি সরদার মোতাহার উদ্দিন বলেন, সাত সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে।  
ক্রিসেন্ট জুট মিলের শ্রমিক আব্দুর রহমান বলেন, সামনে ঈদ। পরিবারের সদস্যদের চাহিদা পূরণ করা দূরের কথা ঈদে তাদের কি খাওয়াবো তা অনিশ্চিত। ৬ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বাকীতে বাজার সদাই করে তাদের পাওনা পরিশোধ করতে পারছি না। এ অবস্থায় ঈদের আগে তারা পাওনা পরিশোধের জন্য চাপ দিচ্ছে। ঈদ আসলে পাওনাদারদের চাপে পড়তে হয়। দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে।
প্লাটিনাম জুট মিলের শ্রমিক মিজানুর রহমান বলেন, মিলের ৭ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। কাজ করার পর সপ্তাহ শেষে যে মজুরি পাই সেই টাকা দিয়ে পুরো সপ্তাহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চলতে হয়। এক সপ্তাহ মজুরি না পেলে পরিবার পরিচালনায় হিমসিম খেতে হয়। অথচ ঈদের আগে ৭ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া পড়েছে। সেই সাথে ঈদ বোনাসও বকেয়া রয়েছে। কবে পরিশোধ করা হবে সে বিষয়েও এখনও জানা যায়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ