ঢাকা, মঙ্গলবার 05 September 2017, ২১ ভাদ্র ১৪২8, ১৩ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পাঁচমিশালি স্বাস্থ্য কথা

ডায়াবেটিসে পায়ের যত্ন
১. প্রতিদিন গোসলের সময়, সম্ভব হলে আরেকবার রাতে ঠাণ্ডা বা ঈষদুষ্ণ গরম পানি ও সাবান দিয়ে পা ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
২. গামছা বা তোয়ালে দিয়ে পা মুছে নিন। পা যেন একটুও ভেজা না থাকে।
৩. নিয়মিত নখ কাটুন নেইল কাটার দিয়ে। ব্লেড ব্যবহার করবেন না। খেয়াল রাখুন যাতে নখ কাটতে গিয়ে পায়ের আঙুল কেটে না যায়।
৪. মোজা রোজ পাল্টাবেন। পা ঘামলে দিনে দু’বার মোজা পাল্টাবেন। মোজা যেন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে। একটানা বেশিক্ষণ মোজা পরে থাকবেন না।
৫. সবসময় স্যান্ডেল বা জুতা পায়ে হাঁটুন। খালি পায়ে হাঁটবেন না।
৬. পায়ে কোনো ক্ষত, ঘা কিংবা যন্ত্রণা থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
৭. রাস্তায় চলাচলে, অসমান রাস্তা বা খানাখন্দে ভরা রাস্তায় সাবধানে চলুন, যাতে আঘাত না লাগে।
৮. সিঁড়ি ওঠানামা করুন সাবধানে, যেন পায়ে কোনো আঘাত না লাগে।
৯. সঠিক মাপের আরামদায়ক জুতা পরুন।
১০. প্লাস্টিকের স্যান্ডেল, জুতা পরিহার করুন।

মানসিক চাপ প্রতিরোধ
মানসিক চাপ মানুষকে অসুস্থ করে। শারীরিক ও মানসিক অশান্তি সৃষ্টি করে। ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। খাবারে অনীহা সৃষ্টি হয়। ঘন ঘন ঠা-া লাগে। শ্বাসকষ্ট হয়। শরীরের নানা স্থানে ব্যথা অনুভূত হয়। ওজন কমে যায়। মানসিক টিউমার তৈরি হয়। ক্যানসার, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের মতো মারাত্মক রোগ দেখা দেয়। তাই মানসিক চাপ মোকাবেলায় কয়েকটি বিষয় অনুশীলন করুন।
১. সৃষ্টিকর্তার প্রতি গভীর বিশ্বাস রাখুন।
২. নিয়মিত ধর্মীয় বিধানের অনুশীলন করুন।
৩. জীবনের প্রতিদিনের কাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখুন।
৪. সৎ উপার্জন এবং সত্যের সাথে জীবন উপভোগ করুন।
৫. প্রতিটি মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করুন।
৬. প্রতিদিন কোনো মানুষের উপকার করুন।
৭. অন্যায়, অবিচার এবং দুর্নীতি থেকে মুক্ত থাকুন।
৮. জীবনের লোভ-তামাশায় ব্যস্ত না থেকে পরকালের চিন্তা করুন।
৯. প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে বিশ্রাম নিন।
১০. প্রতিদিন রাতে শোয়ার আগে ডায়েরি লিখুন।
মনে রাখুন, মিথ্যা এবং অসততা মানসিক চাপের অনুঘটক।

ক্যালসিয়ামের উপকারিতা এবং উৎস
১. অকালবার্ধক্য প্রতিরোধ করে।
২. রক্তে কোলস্টেরল কমায়।
৩. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
৪. হাড় মজবুত করে।
৫. হাড় ক্ষয় রোধ করে।
৬. ক্যানসার প্রতিরোধ করে
৭. স্মৃতিশক্তি বাড়ায়
৮. কিডনি রোগ প্রতিরোধ করে
ক্যালসিয়াম পাওয়া যায় সবুজ শাক-সবজি, শিম, বাদাম, মিষ্টিকুমড়া, মুলা, গাজর, বাঁধাকপি, পালংশাক, কমলা, দুধ, পনির ইত্যাদি থেকে।

মধুর উপকারিতা
১. মধু শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়।
২. মধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
৩. মধু রোগ নিরাময়, শক্তিবর্ধক, আনন্দদায়ক।
৪. মধু ক্ষুধা বাড়ায় এবং পরিপাক সহজ করে।
৫. স্নায়ুবিক দুর্বলতা এবং অবসাদে মধু অত্যন্ত উপকারী।
৬. মধু হার্টকে শক্তিশালী করে।
৭. শিশুদের শারীরিক গঠন ও বৃদ্ধিতে মধু উপকারী।
৮. মধু সর্দি ও কাশি প্রশমিত করে।
৯. নিয়মিত মধুপান সুস্থ, সবল ও দীর্ঘায়ু লাভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ১২ ফল
১. আঙ্গুর ২. কালোজাম ৩. আলু বোখাড়া ৪. কমলা ৫. লেবু ৬. কলা ৭. পেঁপে ৮. বাতাবিলেবু ৯. ত্রিফলা (আমলকী, হরীতকী, বহেড়া) ১০. জয়তুন ১১. আপেল ১২. স্ট্রবেরি।
অকালবার্ধক্য জয়ের পরামর্শ
সকালে নিয়মিত নাশতা করা ২. খাবার তালিকায় নিয়মিত মাছ রাখা ৩. পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম ৪. সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ ৫. নিয়মিত ব্যায়াম বা হাঁটার অভ্যাস ৬. দাঁতের যত্ন নেয়া ৭. ত্বকের যত্ন নেয়া ৮. প্রচুর পানি পান করা ৯. প্রতিদিন তাজা শাক-সবজি ও ফলমূল খাওয়া ১০. অন্যের উপকার করা ১১. সবসময় ইতিবাচক চিন্তা করা ১২. মানসিক চাপমুক্ত থাকা ১৩. দুঃখ কষ্টকে হাসিমুখে বরণ করা ১৪. কোনো মানুষের ক্ষতি না করা ১৫. ধর্মীয় গ্রন্থ নিয়মিত পাঠ এবং অনুশীলন।

অনিদ্রা থেকে বাঁচার উপায়
১. মাঝরাতের আগে ঘুমাতে যাওয়া।
২. রাতের খাবার রাত ৯টার মধ্যেই সেরে নিন।
৩. রাতের খাবার খেয়েই শোবেন না। কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করা কিংবা পরিবারের সদস্যদের সাথে গল্প ইত্যাদি করে তারপর ঘুমাতে যাওয়া।
৪. রাতের খাবার সহজপাচ্য এবং হালকা হওয়া ভালো।
৫. ঘুমাতে যাওয়ার আগে কোনো ফল খাওয়া।
৬. শোয়ার আগে মধুমিশ্রিত গরম দুধ খেতে পারেন।
৭. শুয়ে শুয়ে টিভি দেখবেন না, কিংবা শোয়ার ঘরে টিভি রাখবেন না।
৮. লাইট নিভিয়ে অন্ধকার ঘরে শুতে পারেন কিংবা হালকা আলোও ঘরে রাখতে পারেন।
৯. মনে মনে ঘুমের জন্য ইতিবাচক ভাবনা তৈরি করুন।

শিশুর মুখের ঘা কেন হয়
১. শিশুর মুখ প্রতিদিন ভালোভাবে পরিষ্কার না করলে।
২. শিশুকে অপরিষ্কার চামচ বা নিপল দ্বারা খাবার বা দুধ খাওয়ালে।
৩. কোনো অসুখের কারণ বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে।
৪. শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে।
৫. ভিটামিন বি অথবা সি’র অভাবে।
-আইএইচএমআর ফিচার

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ