ঢাকা, বুধবার 06 September 2017, ২২ ভাদ্র ১৪২8, ১৪ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে রোহিঙ্গারা বিশ্বস্ত মিত্র হলেও এখন ব্রিটেন নিশ্চুপ কেন?

৫ সেপ্টেম্বর, ডেইলি মেইল : ব্রিটিশ মিডিয়া ডেইলি মেইল প্রশ্ন তুলে বলছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে রোহিঙ্গারা বিশ্বস্ত মিত্র হলেও এখন তারা ভয়ঙ্কর বিপদে রয়েছে, ব্রিটেন ও অন্যান্য জাতির উচিত তাদের অবশ্যই সাহায্য করা, পাশে দাঁড়ানো। রোহিঙ্গারা বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষয়িষ্ণু জাতি।
এ সংবাদটির শিরোনাম করা হয়েছে, সাধু নেত্রী সুচি যিনি রোহিঙ্গাদের গণহত্যা ও নির্বিচারে ধর্ষণের পরও এক চোখ অন্ধ হয়ে আছেন, বামদের দ্বারা যিনি নন্দিত, তিনি শান্তিতে নোবেল পেয়ে জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার অঙ্গীকার করেছিলেন।
মিয়ানমারের সিতুই থেকে করা প্রতিবেদনে ডেইলি মেইলের প্রতিবেদক পিটার ওবর্ন বলেছেন, এ বছরের শুরুতে ব্রিটেনে অং সাং সুচি তার সফরের সময় মিয়ানমারের এই নেত্রীকে বীরোচিত সম্বর্ধনা দেওয়া হয়েছিল। সারাজীবন স্বাধীনতার জন্যে লড়াই করে তিনি ১৯৯১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন। মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর রোহিঙ্গাদের ওপর সামরিক বাহিনীর নির্যাতনে তার সরকারই দায়ী। ব্রিটেন সফরের সময় সুচি রানি ও প্রিন্স উইলিয়ামের সঙ্গে সাক্ষাত করেছিলেন, তার সংগ্রামের স্বীকৃতি স্বরুপ প্রাপ্য সম্মান তাকে দেওয়া হয়েছিল।
৭২ বছরের এই নেত্রীর স্বামী মিখায়েল আরিস অক্সফোর্ডের একজন নামকরা ঐতিহাসিক, ব্রিটিশ নাগরিক। অক্সফোর্ডে সেন্ট হিউজ কলেজে তিনি যান। এ কলেজটির ছাত্রী ছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। ব্রিটেন সফর শেষে সুচি তার দেশে ফেরেন সামরিক শাসনের ইতি ঘটাতে ও তার বাকি সংগ্রাম শেষ করতে।
মিয়ানমার ব্রিটিশ শাসন থেকে ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভ করে, একই বছর তার পিতা অং সাং যিনি সেনাবাহিনীর জেনারেল ছিলেন, প্রতিদ্বন্দ্বির হাতে নিহত হন। ১৯৬২ সালে দেশটি সামরিক জান্তার কবলে পড়ে। কিন্তু স্বাধীনতার জন্যে তার পিতার পদাংক অনুসরণ করে সুচি দৃষ্টান্তমূলক সাহসীকতার সাথে সংগ্রামের উদাহরণ সৃষ্টি করেন। এজন্যে তাকে ১৫ বছর গৃহবন্ধী হতে হয়। দেশে ফিরবেন না এমন শর্তে তাকে মুক্তির আশ্বাস দিলেও সুচি তা প্রত্যাখ্যান করেন। যদিও তার স্বামী ও দুই পুত্র ব্রিটেনে ছিল। তার এ সিদ্ধান্ত ও জনগণের প্রতি ভালবাসা তাকে মর্যাদার আসনে নিয়ে যায়। দুই বছর আগে নির্বাচনে সুচি ভূমিধস বিজয় লাভ করেন। সুচি এখন রাষ্ট্রীয় কাউন্সিলর, কার্যত প্রধানমন্ত্রী এবং মন্দ ও ধ্বংসাত্মক একনায়কত্ব বিপরীতে তিনি তার দেশের মুক্তির প্রতীক। উল্লেখযোগ্য কাজও করেছেন তিনি। রাজবন্দীরা মুক্তি পেয়েছে। অর্থ নৈতিকভাবে মিয়ানমার এগিয়ে যাচ্ছে।সারাবিশ্বে সুচি নন্দিত, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন তাকে অসাধারণ নারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অথচ তার সরকারের সামরিক নেতৃত্বাধীন নিপীড়নে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানরা হত্যা, ধর্ষণের শিকার হওয়ায় বিষয়টি সুচির গল্পের একটি অন্ধকার ও সমস্যাগ্রস্ত দিক হয়ে আছে। যা মিয়ামারের সামরিক জান্তা আমলের চেয়েও খারাপ দিক। পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গাদের গণহত্যা, ধর্ষণ, ক্ষুধা ও হুমকির মুখে ফেলে সুসংগঠিত কর্মসূচির বাস্তবায়ন চলছে। গত কয়েক মাসে ১ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা সহিংসতায় ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েছে। শত শত রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে। বাঁশের খাঁচায় রোহিঙ্গাদের জীবন্ত আবদ্ধ করে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে ছাড়াও গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। একাধিক তথ্য প্রমাণ রয়েছে নির্বিচারে গণধর্ষণের। ৯০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে।
গত ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের ওপর পরিকল্পিত এধরনের সহিংসতা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কা করা হয়। জাতিসংঘ কমিশন এজন্যে মিয়ানমারকে সতর্ক করে। এক রোহিঙ্গা নারী জানান, কিভাবে তার স্বামিকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। এরপর ৫ জন মিলে তাকে গণধর্ষণ করে। এসময় আট মাসের শিশু বুকের দুধের জন্যে কান্না করছিল বলে তারা তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।
জাতিসংঘ কমিশনের ইন্সপেক্টররা ১০১ জন রোহিঙ্গা নারীর স্বীকারোক্তি নেন, যাতে অর্ধেক নারী তাদেরকে গণধর্ষণের অভিযোগ করেন। প্রকৃত অবস্থা তারচেয়েও ভয়াবহ কারণ অনেক নারী লজ্জায় মুখ খোলেন না। জাতিসংঘের এ দলটি বাংলাদেশেও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে কথা বলে একই অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে সুচির সরকার নির্যাতিতাদের নিরবতা ভাঙ্গতে কিছুই করেননি। কিভাবে একজন নোবেল বিজয়ী যিনি গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্যে অহিংস সংগ্রামের জন্য পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি এধরনের নির্যাতনে সাড়া না দিয়ে থাকতে পারেন। আর মিয়ানমার কিভাবে তা অস্বীকার করে, ভাবতেও দুঃখ হয়।
মিয়ামনার সেনাদের হাতে ধর্ষিতা এক নারীর ছবি উপস্থাপনের পরও সুচি সরকার তা অস্বীকার করে বলেছে এটি ‘ফেক রেপ’ বা সাজানো ধর্ষণ। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব নির্যাতন ও সহিংসতাকে বানানো কাহিনী বলে মনে করে। সুচি বলেন, এসব ঘটনার কোনো তথ্য প্রমাণ নেই। একজন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেলকে তদন্তভার দেওয়ার পর যা প্রকাশ পেয়েছে তা সত্যের অপলাপ ছাড়া আর কিছুই নয়।
এর আগে বিশ্বকে সুচি বলেছিলেন, বিশেষত বামদের যে রোহিঙ্গাদের নিয়ে দুঃশ্চিন্তার কিছু নেই। গত বছর বিবিসি’কে সাক্ষাতকারে সুচি বলেন, রাখাইনে কোনো জাতিগত নিধন হচ্ছে না। বিপরীতভাবে বাধ্যতামূলক প্রমাণ সত্ত্বেও সুচি জানান, সেনাবাহিনী লজ্জা ও নির্যাতন মুক্ত নয়। তাহলে সত্যটা কি?
আরাকানের নাম পাল্টে ফেলা রাখাইন প্রদেশের রাজধানী সিতুই ভ্রমণের কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদক পিটার ওবর্ন বলেন, প্রথম দর্শনে দেখে মনে হয় শান্ত এক সুন্দর শহর, পোস্টকার্ডের ছবির মত সাজানো শহর। দীর্ধ  সৈকত, চায়ের দোকানের পাশে ফেরিওয়ালারা ফল বিক্রি করছে। সুন্দরী নারীরা সারেংগুলা পড়ে সুর্যের কিরণ আড়াল করতে ছাতা মাথায় দিয়ে হাঁটছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় মসজিদটির কাছে গেলেই চিত্র পাল্টে যায়। আগুনে পোড়া মসজিদটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে। ৫ বছর আগে শহরটির ১ লাখ ৮০ হাজার বাসিন্দার মধ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের সংখ্যা ছিল ৫০ হাজার। এখন তাদের সংখ্যা মাত্র ৩ হাজার। তাও তারা রাস্তায় মুক্তভাবে চলতে পারে না। কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে তাদের ঘিরে রেখেছে  সৈন্যরা। সেখানে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ।
মিয়ানমারের তথ্য মন্ত্রণালয় পিটার ওবর্নকে সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। আতঙ্ক ও সন্ত্রাসের মধ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানরা বাস করছে। ফোনে তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক সময় জীবন স্বাভাবিক ছিল। ব্যবসা বাণিজ্য দোকান পাট সবই ছিল। বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারত। কিন্তু এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন কয়েদিদের মত আটকে আছি। স্বাভাবিকভাবে চলাফেরার সুযোগ পাচ্ছি না। শিক্ষা বা চিকিৎসা সুবিধা নেই।
এদের বাড়িঘর সবই ছিল। সেনা ও উগ্র বৌদ্ধরা তাদের ঘর ছাড়া করে এখানে বন্দী করেছে। ২০১৫ সালের নির্বাচনের আগে মুসলমানদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রেও শাস্তিমূলক আইন করা হয়েছে। পরবর্তী বাচ্চা নেওয়ার ক্ষেত্রে ৩ বছর অপেক্ষা করা বাধ্যতামূলক। অধিকাংশ বৌদ্ধরা মনে করেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের মিয়ানমারে থাকার অধিকার নেই। তারা ব্রিটিশ আমলে বাংলাদেশ থেকে দেশটিতে প্রবেশ করেছে। কিন্ত ঐতিহাসিকরা বলেন ব্রিটিশ শাসনের বহু আগে থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানরা মিয়ানমারে বাস করছে। তাদের ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতি রয়েছে। যে কারণে তাদের সহজেই চিহ্নিত করা যায়। দুই বছর আগে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক রিপোর্টে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার প্রমাণ মেলে। কোনো সন্দেহ নেই দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবিদ্বেষের চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানরা আটকে আছে। ২০১২ সালে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সহিংসতা শুরু হবার পর সুচি যথেষ্ট ব্যবস্থা নেননি বলে তা অব্যাহতভাবে এমন ভয়ানক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।
সত্যি কথা হচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ওপর সুচির কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। একনায়কতন্ত্র থেকে মিয়ানমারকে গণতন্ত্রের পথে নেওয়ার জন্যে প্রচেষ্টা থেকে সুচি পিছনে ফিরে গেছেন। সেনাবাহিনী নির্যাতন করছে বিষয়টি অস্বীকারের মধ্যে দিয়ে সুচির সহযোগিতামূলক ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে আছে। ক্রমান্বয়ে সুচি বিশ্বনেতাদের সমালোচনার মুখে পড়ছেন। পোপ ফ্রান্সিস রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতনের নিন্দা করে বলেছেন,‘ আমাদের রোহিঙ্গা ভাইদের উপর নির্যাতন থেকে মুক্তি ও তাদের সাহায্য এবং পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত করার জন্যে সবাইকে আহবান জানাচ্ছি। নোবেল বিজয়ী মালালা ইউসুফজাই মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের দুঃখ ও লজ্জাজনক পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের জন্যে সুচিকে নিরবতা ভাঙ্গার আহবান জানান।
পিটার ওবর্ন তার প্রতিবেদনে আরো জানান, রোহিঙ্গা মুসলমানদের কাছে যাওয়ার জন্যে মিয়ানমারে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মধ্যে পড়তে হয়। রোহিঙ্গাদের কোনো কাজ নেই, কোনো ভবিষ্যত নেই। তারা তাদের বাড়িতে কবে ফিরবে তা কেউ জানে না। তাদের সার্বক্ষণিক গতিবিধি নজরদারি করা হয়। একজন রোহিঙ্গা জানান, নির্বাচনে ভোট দিতে না পারলেও সে সুচিকে সমর্থন জানিয়েছিল। সুচির মুক্তির জন্যে অনেক মুসলমান প্রার্থনা করেছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ বাহিনী জাপানের বিরুদ্ধে তৎকালীন বার্মায় লড়েছে। বিষয়টি মনে রেখে তখনকার কোনো রোহিঙ্গা মুসলমান জীবিত রয়েছে কি না জানতে চাইলে পিটার ওবর্নকে নিয়ে যাওয়া হয় ৯৩ বছর বয়স্ক এক রোহিঙ্গা মুসলমানের কাছে। সাদা দাঁড়ি, চোখে ছানি পড়ে গেছে তার। তিনি আমাকে জানান, কিভবে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ  সৈন্যদের মালামাল বহন করেছিলেন। তিনি বলেন, আমরা ব্রিটিশ সেনাদের খাবার দিয়েছি, তাদের ছাগল ও মুরগি দিয়েছি। ব্রিটিশদের সড়ক ও সেতু  তৈরিতে সাহায্য করেছি। যুদ্ধ শেষে কৃষি কাজে মনোযোগ দেন তিনি। ৫ বছর আগে সহিংসতায় জমির শস্য, মহিষ ও সবকিছু হারানোর কথা জানান এই বয়স্ক ব্যক্তি।
পিটার ওবর্ন’এর সময় কথা বলার এক পর্যায়ে তার চিবুক দিয়ে গড়িয়ে পড়ে চোখের জল। তিনি বলেন, আমার জীবন ইতিমধ্যে ধ্বংস হয়ে গেছে। আমি আপনাকে অনুরোধ করি, আমাদের নতুন প্রজম্মকে বাঁচান। মিয়ানমার সরকার আমাদের নতুন প্রজম্মকে হত্যা করছে।
কয়েক মাস আগে রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের সময় ব্রিটিশ পররাষ্ট্রন্ত্রী বরিস জনসন মিয়ানমার সফর করেন। ওই সময় তিনি রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের ব্যাপারে টু শব্দটি করেননি। যদিও ব্যক্তিগতভাবে তিনি এধরনের নির্যাতনের নিন্দা জানান। তবে সম্প্রতি বরিস জনসন সাবধান করে দিয়েছেন যে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতন তাদের খ্যাতিকে নষ্ট করবে।
ভারতের হাসপাতালে আবারও ৪৯ শিশুর মৃত্যুর কারণ ‘অক্সিজেনের অভাব’
৫ সেপ্টেম্বর, ওয়ানইন্ডিয়া/ এনডিটিভি : ভারতের এক হাসপাতালে আবারও ৪৯ সদ্যজাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উত্তর প্রদেশের ফারুখাবাদের রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে এসব মৃত্যু হয়েছে বলে দেশের সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কয়েক সপ্তাহ আগে একই রাজ্যের গোরক্ষপুরের বিআরডি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে ৬০ শিশুর মৃত্যু হয়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অক্সিজেনে মৃত্যুর কথা অস্বীকার করছে। এ ঘটনায় হাসপাতল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
ওয়ান ইন্ডিয়া বলছে, ২১ জুলাই থেকে ২০ আগস্টের মধ্যে হাসপাতালের এসএনসিইউ ইউনিটে ২১১টি শিশু ভর্তি হয়। তার মধ্যে মারা যায় ৩০ জন। অন্যদিকে, ওই সময়ে হাসপাতালে জন্ম নেওয়া ৪৬১ সদ্যোজাতের মধ্যে মৃত্যু হয় ১৯ জনের। হাসপাতালের চিফ মেডিক্যাল সুপার অখিলেশ আগরওয়ালের দাবি, এসএনসিইউ-এ মৃত ৩০টি শিশুর মধ্যে ২৪ টি শিশুর জন্ম হয়েছিল প্রাইভেট হাসপাতালে। তাঁদের যখন সরকারি হাসপাতালে আনা হয়, সবারই অবস্থা খুব খারাপ ছিল।
মুখ্যমন্ত্রী ইয়োগি অদিত্যনাথের অফিস এই বিষয়ে এগিয়ে এসেছে এবং তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর অভিযোগ গোরাখপুরের মতো এখানেও অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু হয়েছে। তবে উত্তর প্রদেশের স্বাস্থ্য বিষয়ক সচিব প্রশান্ত ত্রিবেদি দাবি করেন, ‘এখানে অক্সিজেন কোনও বিষয় না। বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। কিন্তু অক্সিজেনের ব্যাপারটিই এখন মুখে মুখে।’
আরেকজন কর্মকর্তা আওয়ানিশ আওয়াস্তি দাবি করেন, ‘অক্সিজেনের অভাবে কারও মৃত্যু হয়নি। বিষয়টি না বুঝে এভাবে উড়িয়ে দেওয়া ঠিক হবে না।’
হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা উমা কান্ত পান্ডে, মেডিকেল সুপারিডেন্টেড অখিলেশ আগাওয়াল ও আরেকজন ডাক্তার  কৈলাশ কুমারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রবীন্দ্র কুমারের তদন্তে অক্সিজেনের অভাবের কথা উঠে আসায় তাদের বরখাস্ত করা হলো কিনা; এমন প্রশ্নের জবাবে দুই ঘটনার মধ্যে সংযোগ অস্বীকার করেছে রাজ্য সরকার। সরকারের দাবি, রবীন্দ্র কুমার ফোনের মাধ্যমে তদন্ত করেছেন যা কোনওভাবেই ম্যাজেস্টেরিয়াল নীতিমালায় যায় না।
রাজ্য সরকার এখন আরেকজন সরকারি কর্মকর্তাকে এটা তদন্তের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, রবীন্দ্র কুমারের অভিযোগেই প্রথম শিশু মৃত্যুর কথা বলা হয়। তিনিই জানান, অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু হচ্ছে শিশুদের। তার প্রতিবেদনে বলা হয়েছিলো, ‘পেরিনাটাল অ্যাসপেশিয়া নামক জটিলতার কারণে ৩০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সদ্যজাতরা ঠিকমতো শ্বাস নিতে না পারছিলো না। তাদের বাবা-মাকে জানানো হয়েছিলো সময়মতো অক্সিজেন ও ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছিলো না শিশুদের। অক্সিজেনের অভাবেই মারা যায় শিশুরা।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ