ঢাকা, বুধবার 06 September 2017, ২২ ভাদ্র ১৪২8, ১৪ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গা বিতাড়ন বন্ধে আশ্বাস দিল না ভারত সরকার

৫ সেপ্টেম্বর, পার্স টুডে : ভারতে বসবাসরত রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিতাড়ন বন্ধ করার জন্য কোনো আশ্বাস দিল না কেন্দ্রীয় সরকার। সম্প্রতি ভারত থেকে প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। মুহাম্মদ সালিমুল্লাহ ও মুহাম্মদ শাকির নামে দু’জন রোহিঙ্গা অভিবাসী সুপ্রিম কোর্টে রোহিঙ্গাদের বিতাড়ন কর্মসূচির বিরুদ্ধে আবেদনে তাদের বিরুদ্ধে ‘দমনপীড়নমূলক পদক্ষেপ’ না নেয়ার দাবি জানান। কিন্তু সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এক শুনানির সময় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিত্ব করা অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এমন কোনো আশ্বাস দিতে পারছেন না বলে জানান। আদালতে রোহিঙ্গাদের আবেদনে বলা হয়, তাদের বের করে দেয়ার যে কোনো উদ্যোগ ভারত রাষ্ট্রের ‘এ দেশের নাগরিক হোন বা না হোন, প্রতিটি মানুষের জীবন ও স্বাধীনতা রক্ষার’ সাংবিধানিক নিশ্চয়তার পরিপন্থি হবে। তাছাডা, যে দেশে পাঠানো হলে উদ্বাস্তুদের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা আছে, সেখানে তাদের পাঠানো থেকে বিরত রাখার আন্তর্জাতিক আইন রয়েছে। ভারত সেই আইনের শরিক হওয়ার সুবাদে রোহিঙ্গাদের বিতাড়নের চেষ্টা করলে সেই আইন লঙ্ঘিত হবে।সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু সংসদে রোহিঙ্গাসহ বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দেশ থেকে বের করে দিতে সব রাজ্যকে নিন্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান। এরপরই রোহিঙ্গাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হলে তারা বিতাড়ন বন্ধের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।সোমবার রোহিঙ্গা আবেদনকারীদের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ আদালতে বলেন, ‘রোহিঙ্গারা দুনিয়ার সবচেয়ে দুর্ভাগা মানুষ। সর্বত্র ওদের কচুকাটা করা হচ্ছে। ওদের রক্ষা করুন।’ কিন্তু প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ এ ব্যাপারে কোনো অভয় দেয়নি। অন্যদিকে, জম্মু-কাশ্মিরে বসবাসরত প্রায় ছয় হাজার রোহিঙ্গা মুসলিমের হয়ে সিনিয়র আইনজীবী কলিন গঞ্জালভেজ ও আদালতে রোহিঙ্গা বিতাড়নের বিরুদ্ধে আবেদন জানান।এদিন, প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণকে তাদের পিটিশনের কপি কেন্দ্রীয় সরকারকে দিতে বলে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে রিপোর্ট পাওয়ার পর আগামী ১১ সেপ্টেম্বর ওই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।এদিকে, রোহিঙ্গা মুসলিমদের গণহত্যার প্রতিবাদে জম্মু-কাশ্মিরের পুলওয়ামা জেলার ত্রালে সিটিজেনস কাউন্সেল নামে এক বেসরকারি সংস্থা আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। খানকাহ এ ফৈজ পানাহ থেকে শিশুসহ বহু মানুষ প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে মিয়ানমার বিরোধী বিক্ষোভ মিছিলে শামিল হয়ে রোহিঙ্গা মুসলিমদেরহত্যা বন্ধ করার দাবি জানান।মিয়ানমারে কেবলমাত্র রোহিঙ্গা নয় সব মুসলমানই নির্যাতনেরশিকারমিয়ানমারের স্বতন্ত্র মানবাধিকার গোষ্ঠী বার্মা হিউম্যান রাইটস নেটওয়ার্ক গতকাল মঙ্গলবার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, কেবলমাত্র রাখাইন প্রদেশের নয় বরং গোটা দেশের মুসলমানরা সরকারি মদদপুষ্ট নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মিয়ানমারের মুসলমানদের দুর্ভাগ্যের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এতে দ্ব্যার্থহীন ভাবে বলা হয়, গোটা দেশে সরকারি মদদে মুসলমান নির্যাতন চলছে। মুসলমান নির্যাতনে দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং উগ্র জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলো জড়িত বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।এ প্রতিবেদন তৈরিতে সাড়ে তিনশর বেশি সাক্ষাৎকার নিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক গোষ্ঠীটি। গত বছরের আট মাসব্যাপী মিয়ানমারের ৪৬টি শহর ও গ্রাম থেকে এ সব সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় দেশটির উত্তরণের পর মুসলমানদের প্রতি পূর্বধারণা প্রসূত নির্যাতন বেড়েছে। এ ছাড়া, মুসলমানদেরকে সাধারণভাবে মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হয় না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।দেশটির সব জাতিগোষ্ঠী সংখ্যালঘু মুসলিমরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে এবং অনেককেই এখনো জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া হয়নি বলেও এতে উল্লেখ করা হয়। মিয়ানমারের সরকারি কর্মকর্তারা এ প্রতিবেদন সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ