ঢাকা, বুধবার 06 September 2017, ২২ ভাদ্র ১৪২8, ১৪ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মংডুর দক্ষিণে আরোও ৩শ’ ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ

কামাল হোসেন আজাদ ও শাহনেওয়াজ জিল্লু, কক্সবাজার : নওল্লা পাড়া, কুল্লুম পাড়া, মংডুর দক্ষিণে কুয়াইচরা বিলে আরোও কমপক্ষে ৩শ’ বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করেছে বার্মার সামরিক বাহিনী ও রাখাইনেরা। ৫ সেপ্টেম্বর বার্মা সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। এসময় ঘরে থাকা লোকজন পালিয়ে পাশ্ববর্তী সমুদ্রসৈকতের তীরে অবস্থান নিয়েছে। সেখানে রয়েছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নরনারী ও শিশু। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের অবস্থার কোন পরিবর্তন ঘটেনি।

এদিকে সীমান্তে পুঁতে রাখা মাইন বোমা বিস্ফোরণে পা হারিয়েছে সাবেকুন্নাহার নামে এক রোহিঙ্গা নারী। বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া সংলগ্ন এলাকায় বর্মী সেনাবাহিনীর পুঁতে রাখা মাইন বোমা বিস্ফোরণে পা হারালেন রোহিঙ্গা নারী সাবেকুন্নাহার (৪৫)। ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সীমান্ত থেকে প্রত্যক্ষদর্শীরা মুঠোফোনে জানিয়েছে, বার্মা থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার সময় এ নারী কাঁটা তারের কাছাকাছি গেলে লুকায়িত বোমাটি বিস্ফোরিত হয়। এতে মহিলাটি প্রাণে বাঁচলেও তার ডান পা একেবারে উড়ে যায়। মহিলাটির স্বামীর নাম জাফর আলম বলে জানাগেছে । 

গুরুতর আহত সাবেকুন্নাহারকে তমব্রু সীমান্ত দিয়ে কুতুপালং এমএসএফ স্বাস্থ্য ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এসময় প্রচুর রক্ত ক্ষরণ হচ্ছে। শারীরিক অবস্থা আশংকাজনক হয়ে পড়ায় তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। 

উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা গ্রামের আশে-পাশে ও চলাচলের রাস্তায় সামরিক বাহিনী মাইন বোমা ও গ্যাস বোমা পুঁতে রাখে, যাতে বিস্ফোরিত হয়ে রোহিঙ্গারা মারা যায় । এবোমাটিও এমন একটি পুঁতে রাখা বোমা ছিল। ইতিপূর্বে আরাকানের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে মঘসেনা কর্তৃক গ্যাস বোমা পুঁতে রাখার স্থিরচিত্র প্রকাশ করা হয়েছিল ।

মংডুর বাক্কাঘোনায় ২ রোহিঙ্গা যুবকের অগ্নিদগ্ধ বিভৎস লাশ উদ্ধার!

মংডু শহরের অদূরে রোহিঙ্গা পল্লী বাক্কাঘোনায় ২ রোহিঙ্গা যুবকের অগ্নিদগ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে এলাকাবাসী। ধারণা করা হচ্ছে, গত ২ সেপ্টেম্বর ঈদের দিন তাদেরকে হত্যা পরবর্তী পুড়িয়ে মারা হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, ঈদের দিন সকাল আনুমানিক সাড়ে এগারোটার সময় স্থানীয় আব্দুর রহমানের ছেলে ইদ্রিস (২৫) ও আহমদ হোসেনের ছেলে ইলিয়াস (২০) কে গ্রামের বাহিরে যেতে দেখে স্থানীয়রা। পরে আর তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

সামরিক বাহিনীর দেয়া আগুনে পুড়ে যাওয়া একটি খামার বাড়িতে গতকাল ২টি লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে লাশ দুটো সনাক্ত করতে পারে নিখোঁজ ইলিয়াস ও ইদ্রিসের পরিবারের স্বজনেরা। উদ্ধারকারীরা বলছেন, মৃতদেহ দুটোতে গলাকাটা চিহ্ন রয়েছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে তাদেরকে বন্দী করে খামার ঘরে নিয়ে প্রথমে গলাকেটে হত্যা করে। পরে ঘরে আগুন লাগিয়ে দগ্ধ করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, গ্রামের বাহিরে অবস্থানকারী রাখাইন ও সেনা সদস্যরা সম্মিলিতভাবে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে ।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর কিলিং অপারেশনে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। ৪০ হাজারেরও বেশি বসতঘর পুড়ানো হয়েছে। উদ্বাস্তু হয়ে বাংলাদেশে চলে এসেছে প্রায় ৯০ হাজার। এছাড়া তিন লাখের মত রোহিঙ্গা পাহাড়ে অবরুদ্ধ হয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ