ঢাকা, বুধবার 06 September 2017, ২২ ভাদ্র ১৪২8, ১৪ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কর্মচঞ্চল হচ্ছে রাজধানী ঢাকা

শাহেদ মতিউর রহমান : ঈদের ছুটি শেষ। এবার কর্মক্ষেত্র ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন নগরবাসী। আজ-কালের মধ্যে না হলেও আগামী শনিবারের মধ্যেই কর্মচঞ্চল হবে রাজধানী ঢাকা। এদিকে ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন নাড়ির টানে গ্রামে ফিরে যাওয়া লাখো মানুষ। এখনও অনেকটাই যানজটহীন ও স্বস্তিতে ঢাকায় ফিরছেন মানুষ। তবে ঢাকামুখী যাত্রীদের থেকে বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, যাত্রাপথের দুর্ভোগ এড়াতে বা নানা প্রয়োজনে যারা ঈদে গ্রামে যেতে পারেননি তাদের অনেকেই এখন ছুটছেন বাড়িতে। ফলে ঈদের পর থেকেই রাজধানীর গাবতলী আস্তঃজেলা বাস টার্মিনালে লেগেই আছে ঈদ শেষে রাজধানীমুখী ও ঘরমুখী যাত্রীদের ভিড়। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে এমনটাই দেখা গেছে। ভোর থেকেই প্রচুরসংখ্যক মানুষ গাবতলী দিয়ে ফিরছেন ও যাচ্ছেন।

টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, রোজিনা, হানিফ, সোনার তরী, গোল্ডেন লাইনসহ বেশ কয়েকটি বাস যাত্রী নিয়ে ভোর থেকে ঢাকায় ফিরেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত এসব বাস ছিল যাত্রীতে ভর্তি। আবার অনেক বাসে যাত্রী দাঁড় করিয়েও আনা হয়েছে। তবে যানজট না থাকায় পথে কোনো ভোগান্তি হচ্ছে না যাত্রীদের।

নড়াইল থেকে সকাল ৭টায় রওনা দিয়ে বেলা ১১টায় গাবতলি পৌঁছান আয়নাল। তিনি বলেন, আজ বুধবার থেকে অফিস তাই অনেক কষ্টে বাসের টিকিট ম্যানেজ করে ঢাকায় ফিরতে হলো। পথের ভোগান্তি না থাকলেও ৩৫০ টাকার টিকিটে ৫০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ করেন তিনি।

নীলফামারী থেকে আলম এন্টারপ্রাইজের একটি বাসে ৯ ঘণ্টায় সকালে গাবতলীতে পৌঁছান আলমগীর। তিনি বলেন, ঈদে বাড়ি যাওয়ার চেয়ে ফেরার সময় অনেক আরামে ফিরতে পারলাম। তবে বাড়তি ভাড়া দিয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়েছে।

এদিকে, এখনও গাবতলীতে বাড়িমুখী যাত্রীদের ভিড় রয়েছে। হানিফ কাউন্টারের সামনে পরিবার নিয়ে বাসের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন মিরপুরের বাসিন্দা ব্যবসায়ী হায়দার মিয়া। তিনি বলেন, ঈদে অনেক ভিড় আর টিকিটের দামও বেশি। এ কারণে পরিবার নিয়ে ঢাকায় ঈদ করেছি। এখন শান্তিতে বাড়ি যাচ্ছি। ৫-৬ দিন পর আবার ফিরব।

গাবতলী বাস টার্মিনালের বিভিন্ন পরিবহন কাউন্টারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী রোববারের মধ্যে ঈদে গ্রামে যাওয়া মানুষরা ঢাকা ফিরবেন। এ কারণে এখন অনেকটা চাপ কম রয়েছে। ঢাকা থেকে এখন অনেক বাস খালিও যাচ্ছে। ফেরার সময় যাত্রী ভর্তি হয়ে ফিরছে। তবে শুক্র ও শনিবার যাত্রী ফেরার অনেক চাপ থাকবে।

অন্যদিকে, যাত্রী ফেরার চাপ কম থাকায় অনেক পরিবহনের বাস এখনও ঢাকায় ফেরা শুরু করেনি বলে জানান, খালেক এন্টারপ্রাইজের কাউন্টার মাস্টার সাহীন মাহমুদ। তিনি বলেন, শুক্রবার থেকে খালেক পরিবহনের বাসগুলো ঢাকায় ফেরা শুরু করবে। রোববারের মধ্যে সব বাস ঢাকায় ফিরে আসবে।

কমলাপুর রেলস্টেশনের এক কর্মকর্তা জানান, ঈদের ছুটিতে যারা বাড়ি গেছেন তারা এখন ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন। তাই আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে ঢাকামুখী যাত্রীদের একটু বেশি ভিড় হবে বলেও জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, এবার ঈদে ফিরতি ট্রিপে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলসহ কোনো ট্রেনেই শিডিউল বিপর্যয় হয়নি। 

 অন্যদিকে যাত্রীরা জানান, এবার ফেরার টিকিট কিনতে গিয়ে যাত্রীরা কিছুটা বিড়ম্বনার শিকার হলেও বাসও ছেড়েছে মোটামুটি সময় মেনেই। শনিবার পর্যন্ত রাজধানীমুখো মানুষের চাপ আরো বাড়বে বলে মনে করছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকেই সায়েদাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনালেও ঢাকামুখো মানুষের স্রোত দেখা গেছে। একই দৃশ্য সদরঘাট লঞ্চঘাটেও। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত সদরঘাটে পৌঁছে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার লঞ্চ। ঢাকামুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড় ছিল লক্ষণীয়। তবে রাজধানীর ব্যস্ত সড়কেও গাড়ির তেমন কোন জট ছিলো না। শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়া গেছে খুবই কম সময়েই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ