ঢাকা, বুধবার 06 September 2017, ২২ ভাদ্র ১৪২8, ১৪ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নাটোরে যৌতুক না পেয়ে স্ত্রী-কন্যাকে পুড়িয়ে মারতে শ্বশুর বাড়িতে আগুন

নাটোর সংবাদদাতা : নাটোরের বড়াইগ্রামে যৌতুক না পেয়ে স্ত্রী ও কন্যাকে পুড়িয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে শ্বশুর বাড়িতে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক জামাইয়ের বিরুদ্ধে। গত সোমবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামে ওই ঘটনাটি ঘটে। মঙ্গলবার স্থানীয় বাসিন্দা ফুলচাঁদ, সাহাদ, জহির ও কলিম সহ অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে নারায়নপুর গ্রামের ভ্যান চালক তারা মিয়া তার মেয়ে সুমি খাতুনকে (২২) বিয়ে দেন পাসের ঈশ্বরদী উপজেলার রুপপুর গ্রামের তুফান মিস্ত্রির ছেলে রাজমিস্ত্রি বোরহান উদ্দিনের সাথে। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে নগদ ৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয় কিন্তু বছর না যেতেই বোরহান উদ্দিন মাদকাসক্ত হয়ে আবারও যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকে। বিভিন্ন সময় দুই-হাজার করে টাকা দিয়ে রক্ষা হয়। এ অবস্থায় সে আরো বেশী টাকার জন্য সুমিকে শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। যৌতুকের টাকা দিতে এবং শারীরিক নির্যাতন সইতে না পেয়ে ঈদের আগে তার তিন বছর বয়সী কন্যাকে সাথে নিয়ে একেবারে বাবার বাড়িতে চলে যায় সুমি। এবার বোরহান সুমি ও তার বাবা, মা, ভাইদেরকে নানা ভাবে হুমকি দিতে থাকে। ঈদের পরে সুমির বাবা-মা আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গেলে সোমবার রাত ১০টার দিকে তাদের বাড়িতে যায় বোরহান উদ্দিন। এসময় সে সুমির কাছে বিশ হাজার টাকা দাবী করে। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে সুমি ও তার মেয়েকে ঘরের ভিতরে আটকে বাহিরে থেকে কেরোসিন ঢেলে ওই ঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে সুমির চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে আগুন নিভিয়ে তাদের উদ্ধার করে। নির্যাতিতা সুমি খাতুন বলেন, মাতাল স্বামীর মার-পিট খেয়েও সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সংসার টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলাম কিন্তু প্রতিদিন এভাবে মারপিট আর যৌতুকে চাপ সহ্য করতে না পেরেই চলে এসেছি। এখনতো আবার আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। হয়তো একসময় সে আমাদের মেরেও ফেলবে। সুমির বাবা তারা মিয়া বলেন, বিয়ের সময় বুঝতে পারিনি জামাই মাদকাসক্ত। মেয়ের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে আমার সাধ্যমত টাকা পয়সা দিয়েছি কিন্তু প্রতিদিন টাকার জন্য চাপ দিয়ে আর মারপিট করলেতো মেয়ের জান বাঁচে না। গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খান বলেন, তারা মিয়ার বাড়িতে তার মাদকাসক্ত জামাই রাতের অন্ধকারে আগুন দিয়ে পালিয়েছে। মাদকাসক্ত ওই বোরহান মাদকের টাকা না পেয়ে আরো ভয়াবহ দুর্ঘটনাও ঘটাতে পারে। সুমির বাবা তারামিয়াকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে আইনের আশ্রয় নিতে। বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহরিয়ার খান বলেন, তাকে এ বিষয়ে কেউ অবহিত করেন নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ