ঢাকা, বুধবার 06 September 2017, ২২ ভাদ্র ১৪২8, ১৪ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনায় শিশুপার্ক ও চিড়িয়াখানায় নারী-পুরুষ শিশু-কিশোরের উপচেপড়া ভিড়

খুলনা অফিস : ঈদ উল আযহার ছুটিতে খুলনার পার্কগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্যনীয়। ঈদের তিন দিনেও ফুরোয়নি উৎসবের আমেজ। পরিবার-পরিজন বন্ধুবান্ধব মিলে দারুণ সময় কাটাচ্ছেন দর্শক। শিশুপার্ক ও চিড়িয়াখানায় নারী-পুরুষ-শিশু-কিশোরের উপচে পড়া ভিড়। নগরীর খালিশপুরের বাসিন্দা নাজমুল ইসলাম বাবু বেশ উচ্ছ্বাসিত। তিনি জানান, প্রথম দিনের আনন্দ কেটেছে কুরবানি, গরু জবাই এসব নিয়ে। আজ (মঙ্গলবার) বেরিয়েছি। অনেক মানুষ, খুব আনন্দ হচ্ছে।

ফুলবাড়ীগেটের বাসিন্দা হারুনুর রশিদ বলেন, জাহানাবাদ সেনানিবাস চিড়িয়াখানা ও পার্কের পরিবেশটা খুব সুন্দর। বাচ্চাদের অনেক রাইড আছে এখানে। আছে অনেক পশু পাখি। যা দেখে বাচ্চারা খুব আনন্দ পায়।

তিনি জানান, এখান থেকে রাতে বাচ্চাদের নিয়ে খানজাহান আলী সেতু (রূপসা সেতু) দেখার ইচ্ছা আছে। রাতের সেতুটা সত্যিই দর্শনীয়।

নগনীর জাহানাবাদ ক্যান্টনমেন্টের বনবিলাস শিশু পার্কের সামনে অনেককে ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে দেখা গেছে। তাদের ঘোড়ার গাড়িতে চড়তে দেখে এখানে ঘুরতে আসা কবি মোহাম্মদ অয়েজুল হক বলেন, ‘ ঘোড়ায় চড়িয়া মর্দ হাঁটিয়া চলিল’, বাংলা পুথির বহুল প্রচলিত এই প্রবাদের মতো অনেকে পায়ে হেঁটে পার্কে ঘোরে আবার ঘোড়ায় চড়ে। তিনি বলেন, খুলনার সৌন্দর্য্যরে অনন্য প্রতীক ‘জাহানাবাদ ক্যান্টনমেন্ট’। খুলনা-যশোর মহাসড়কের পাশ দিয়ে গিলাতলার বিশাল এলাকা জুড়ে জাহানাবাদ ক্যান্টনমেন্ট। এখানে রয়েছে আর্মি ট্রেনিং সেন্টার, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, জাহানাবাদ সেনানিবাস, বনবিলাস শিশু পার্ক ও চিড়িয়াখানা। খুলনা মহানগরীসহ দূরদূরান্ত থেকে মানুষ সময় পেলেই বিনোদনের জন্য এখানে আসেন। তবে ঈদ-পূজায় দর্শকে টই-টুম্বর হয়ে যায় বনবিলাস শিশু পার্ক ও চিড়িয়াখানা।

ডা. পলাশ কুমার মন্ডল স্বপরিবারে নোয়াপাড়া থেকে এসেছেন জাহানাবাদ ক্যান্টনমেন্ট চিড়িয়াখানায়। কি উপলক্ষে আসা প্রশ্নে মুখে হাসি টেনে বলেন, ঈদ উৎসব সবার সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করছি। সম্প্রতির এ নজির প্রসংশনীয়।

ক্যান্টনমেন্টের পার্ক ও চিড়িয়াখানার মতো রূপসা সেতু, নগরীর খালিশপুরের ওয়ান্ডার ল্যান্ড শিশু পার্ক, জাতিসংঘ শিশু পার্ক, হাদিস পার্ক, ফরেস্ট ঘাটে উপচে পড়া মানুষের ভীড়। সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা, কি রোদ, কি বৃষ্টি সব উপেক্ষা করে মানুষ উৎসবে মাতোয়ারা।

বিশেষ করে জাতিসংঘ শিশু পার্কের পাঁচদিন ব্যাপী ঈদ আনন্দ মেলা ও খালিশপুর নয়াবাটি হাজী শরিয়াতুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সপ্তাহব্যাপী ঈদ মেলায় মানুষের ভিড় সবচেয়ে বেশি।

খুলনার ২০ সিনেমা হলের ১৪টি বন্ধ : ডিশ লাইনের সহজলভ্যতা, ভারতীয় সিরিয়ালের জনপ্রিয়তা, ভিডিও পাইরেসি, মোবাইল ফোনে সিনেমা দেখা, অশ্লীল ছবির প্রভাব সর্বোপর্রি মানসম্মতভাবে কাহিনী নির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণ না হওয়ায় দর্শকরা হলগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। আর দর্শকশুন্যতার কারণে সঙ্গতকারণেই লোকসানের ঘানি থেকে মুক্তি পেতে মালিক পক্ষ বাধ্য হয়েই সিনেমা হল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। আর এ কারণেই একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে খুলনার বিনোদন ধর্মী প্রতিষ্ঠান সিনেমা হল। ইতোমধ্যে ২০ টি সিনেমা হলের মধ্যে ১৪টিই বন্ধ হয়ে গেছে। আর সচল থাকা বাকী ৬টি হলের প্রদর্শনী চলছে খুড়িয়ে খুড়িয়ে। ফলে দিন দিন সংকোচিত হয়ে পড়ছে খুলনার বিনোদনের ত্রে। ঈদ আনন্দে অন্যতম অনুসঙ্গ সিনেমা হলে গিয়ে নতুন সিনেমা দেখা হারিয়ে যাচ্ছে।

একটা সময় ছিল যখন ঈদ আসলেই এক শ্রেণির তরুণ গ্রাম থেকে শহরে আসত সিনেমা দেখতে। তারা কাউন্টার থেকে টিকিট নিতে ব্যর্থ হয়ে কালোবাজারের বিক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি টাকা দিয়ে টিকিট কিনে সিনেমা দেখত। অনেক সময় হল হাউজফুল হয়ে যেত তখন এক্সট্রা ফোল্ডিং চেয়ার দেয়া হত। যাতে গাদাগাদি করে বসে দর্শকরা সিনেমা দেখত। কিন্তু এখন সেই অবস্থা নেই। এখন সিনেমা হল বেশিরভাগ খালি থাকে কোন কোন সময় বিদ্যুৎ খরচ ওঠানোই দুস্কর হয়ে পড়ে।

জানা গেছে, সময়ের পরিক্রমায় উপজেলাসহ খুলনা নগরীতে অন্তত: ২০ টি সিনেমা হল গড়ে উঠে। এগুলো হচ্ছে মহানগরীর শঙ্খ, সঙ্গীতা, সোসাইটি, চিত্রালী, জনতা, ঝিনুক, পিকচার প্যালেস, উল্লাসিনী, বৈকালী, স্টার, লিবার্টী, মিনাী, ডুমুরিয়া উপজেলায় নাগমা (বর্তমান শঙ্খমহল), চুকনগরের হিরামণ, তালা উপজেলার ফালগুনী, রূপসার উপজেলার রূপসা সাগর, পাইকগাছার বাসুরী, কপিলমুনির সোহাগ, সেনহাটির রূপসা ও ফুলতলার শাপলা।

এসব সিনেমা হলগুলোর মধ্যে ঝিনুক, পিকচার প্যালেস, উল্লাসিনী, বৈকালী, স্টার, মিনাক্ষী, ডুমুরিয়া উপজেলায় শঙ্খমহল, চুগনগরের হিরামণ, তালার ফালগুনী, রূপসার উপজেলার রূপসা সাগর, পাইকগাছার বাসুরী, কপিলমুনির সোহাগ, সেনহাটির রূপসা ও ফুলতলার শাপলা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। অস্তিত্ব হারিয়েছে স্টার ও বৈকালী সিনেমা হল দুটি। বর্তমানে নগরীতে শুধুমাত্র শঙ্খ, সঙ্গীতা, সোসাইটি, চিত্রালী, লিবার্টি ও জনতা এই ৬টি সিনেমা হল চালু রয়েছে। ঈদ ও পূজার সময়ে কয়েকদিন চলে ডুমুরিয়ার শঙ্খমহল সিনোমাহলটি। বছরের অন্য সময় সিনেমা হলটি বন্ধ থাকে ।

নগরীর সঙ্গীতা সিনেমা হলে ছবি দেখতে আসা দর্শক সাইফুল ইসলাম, আকরাম হোসেন ও ইফতি বলেন, এক সময় সিনেমা হলগুলো প্রচুর দর্শকের সমাগম ঘটতো। কিন্তু সিনেমা পাড়ায় এখন অশ্লীল ছবি প্রভাব পড়েছে। নেই ভালো পরিবেশ। এছাড়া বাসায় বসে ডিশ লাইন, ইউটিউব, টুইটার, ইন্টারনেট মাধ্যমে ডাউন লোড দিয়ে নতুন মুক্তি প্রাপ্ত ছবি দেখা যায়। এ কারণে সিনেমা হলগুলোতে এখন আর দর্শক আর আসতে চান না।

শঙ্খ সিনেমা হলের জনৈক কর্মকর্তা বলেন, ডিশ লাইন, ভিডিও পাইরেসি, অশ্লীল ছবির প্রভাব ও মানসম্মতভাবে নির্মাণ না হওয়ায় দর্শকরা হল থেকে দূরে চলে যাচ্ছে। আর হলগুলো দর্শক শূণ্য হয়ে পড়ায় লোকসানের মুখে পড়ছে হচ্ছে মালিকরা। ফলে তারা ব্যবসা গুটিয়ে নিয়ে বাধ্য হচ্ছেন।

সঙ্গীতা সিনেমা হল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ফলে মানুষ বর্তমানে ঘরে বসেই নতুন মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি দেখে ফেলছে। যার ফলে দর্শক এখন আর সিনেমা হলগুলোতে আসতে চাচ্ছেন না। দর্শক না আসায় আয়ের থেকে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। আর লোকসানের মুখে পড়ে এগুলো বন্ধ করে দিতে হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ