ঢাকা, বুধবার 06 September 2017, ২২ ভাদ্র ১৪২8, ১৪ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ডুমুরিয়ার কয়েকটি বিলে জলাবদ্ধতা আমন আবাদ অনিশ্চিত

খুলনা অফিস : অবিরাম বৃষ্টিপাতে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শোভনা ইউনিয়নের গোপালনগর ও শিবপুর বিলসহ আশপাশ এলাকার বীজ ধানের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা পড়েছে সীমাহীন ক্ষতির মুখে। প্রায় সাত দিন ধরে বৃষ্টির পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে বীজতলা। আর এ সমস্যা সমাধানে প্রভাবশালীদের দেওয়া অবৈধ ভাবে নেটাপাটার বাঁধ ও গেট অভিমুখের কোজার বাঁধটি ঠিক মত অপসারণও করছে না কেউ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চলতি বর্ষা ঋতু’র শুরুতে ডুমুরিয়া উপজেলায় প্রচুর বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এরফলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা না থাকায় পানি নামতেও পারছে না। আর এই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন উপজেলার শোভনা ইউনিয়নের গোপালনগর ও শিবপুর বিলসহ আশপাশের বিলের কৃষকরা। চলতি রোপা আমন মওসুমের শুরুতে তাদের ধানের বীজ ও বীজতলা নিয়ে পড়েছেন মহাবিপাকে। বিলের পানি নিষ্কাশনের অভাবে বীজতলা গুলো তলিয়ে গেছে। অনেকের ধান বসানোর সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও ক্ষেতে পানি থাকায় তা আর বসাতে পারছে না। তবে এখানে বৃষ্টির চাপ ছাড়াও পানি নিষ্কাশনের ক্ষেত্রে রয়েছে নানাবিধ সমস্যা।
একশ্রেণির প্রভাবশালী লোকজন প্রবহমান খালের বিভিন্ন স্থানে জোরপূর্বক নেটপাটার বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করছে। আবার স্লুইস গেট অভিমুখেও রয়েছে জটিলতা। গেট মেরামতের কারণে বেঁধে রাখা কোজার বাঁধটিও ঠিকমত অপসারণ করা হয়নি এখনও। এ প্রসঙ্গে শিবপুর গ্রামের বিশ্বজিৎ হালদার বলেন- আমার সাত বিঘা জমির জন্য আড়াই মণ ধানের বীজ ফেলেছিলাম। ফেলানোর দিন থেকেই বৃষ্টি আর বৃষ্টি। বর্তমানে বীজতলায় হাঁটু পানি, সেচ দিয়েও তো লাভ নেই।
একই গ্রামের শিক্ষক মো. শরিফুল আলম বলেন-এ বছর আর ধান চাষ করবো না। শোভনা গাবতলা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক চিত্তরঞ্জন চক্রবর্তী, ভজন মল্লিক জানান, বৃষ্টিতে তেমন সমস্যা হচ্ছে না। আসল সমস্যা হল খালে নেটপাটার বাঁধ দিয়ে মাছ ধরা ও গেটের বাঁধটি সময়মত কেটে না দেয়া। একই গ্রামের গনেশ চন্দ্র পশারি বলেন ক্ষেতে পানি থাকায় ঘরের বারান্দায় অঙ্কুরিত ধান মেলে রেখেছিলাম। আর না পেরে কাল পানি ভর্তি ক্ষেতে ওই ধান বুনেছি। এখন ধানের চারা হলে ধান রোপণ করবো আর না হলে জমি ফেলে রাখা ছাড়া উপায় নেই।
ইউপি চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত কুমার বৈদ্য বলেন, ইউনিয়নের দু’টি গেটেই লোকজন নিয়ে পালি মাটি ও কোজার বাঁধ অপসারণ করছি আর নেটপাটা উচ্ছেদ করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, পানি নিস্কাসনের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড দেখাশুনা করে থাকে। এখানে গেট দিয়ে যদি পানি না নামে তাহলে আমরা কি করতে পারি।
এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন জলাবদ্ধতা দূরীকরণে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান’কে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ