ঢাকা, বুধবার 06 September 2017, ২২ ভাদ্র ১৪২8, ১৪ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের মতোই বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের নির্যাতন করা হচ্ছে -রিজভী আহমেদ

মাশরুফা আক্তার রূপাসহ দেশব্যাপী নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের মতোই বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই অভিযোগ করেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উদ্যোগে টাঙ্গাইলের কাছে চলন্ত বাসে মাশরফা আক্তার রূপাসহ দেশব্যাপী নারী ও শিশুদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদে এই মানববন্ধন হয়।
মহিলা দলের সহসভানেত্রী জেবা খানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের পরিচালনায় মানববন্ধন কর্মসূচিতে মহানগর দক্ষিনের সাধারণ সম্পাদক শামসুন্নাহার ভুঁইয়া, মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আমেনা বেগম, কেন্দ্রীয় নেত্রী রোকেয়া সুলতানা তামান্না, রোকেয়া চৌধুরী বেবী, রাবেয়া আলম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
তিনি বলেন, মাশরূফা আক্তার রূপাকে বিভৎস নির্যাতনের পর মর্মান্তিক মৃত্যু বর্তমান সরকারের দুঃশাসনেরই প্রতিফলন। কারণ এরা ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন যেন মহামারী আকার ধারণ করেছে। খাদিজা, জীম মীম, তনু, মীতু- কার কথা বলবো। সাগর-রুনী সাংবাদিক দম্পত্তি হত্যা- এটাতো সকলের মুখে মুখে। কোনোটিরই বিচার নেই। সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই।
রিজভী বলেন, এই সরকারের আচরণের সাথে আজকে মিয়ারমার সরকারের রোহিঙ্গাদের ওপর আচরণের গরমিল কোথায়? একেবারে পুরোপুরি মিল। এই সরকার ও মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর আচরণ এইরকম। আজ দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। জনপদে জনপদে আজকে সমাজ বিরোধীদের দাপট বেড়েছে।
প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করার জন্যই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তথ্য মন্ত্রী বিষোদগার করছেন বলে অভিযোগ করেছেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সরকারের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতির করার লাইসেন্স বাতিল করে দেবেন। বাহ! বাংলাদেশ আপনার পৈত্রিক সম্পত্তি। মাননীয় তথ্য মন্ত্রী শুধু খুন-গুম-উগ্রবাদ জঙ্গি- এসব কথা ছাড়া আর কোনো কথা নেই। কারণ তিনি রাজনীতি শুরুই করেছেন মানুষ খুন করে, গ্রামের পর গ্রাম তিনি জ্বালিয়েছেন। তিনি গণবাহিনীর নাম করে অসংখ্য নিরহ মানুষকে হত্যা করছেন।
আজকে এই কথাগুলো কেনো বলছেন? এই কথাগুলো বলতে হবে এজন্য যে এর ওপর উনার চাকুরি নির্ভর করছে, মন্ত্রীত্ব নির্ভর করছে। শেখ হাসিনাকে খুশি করার জন্য উনাকে বার বার বলতে হবে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতির লাইসেন্স বাতিল করে দিতে হবে ইত্যাদি। যেগুলো অসভ্য, নোংরামী- ওইসব কথাই তথ্য মন্ত্রী বলেন।
কুষ্টিয়ায় কাজী আরেফ হত্যাকান্ডের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, এই ব্যক্তিটি (হাসানুল হক ইনু) অনেকবার অনেক দুষ্কর্ম করে বেঁচে গেছেন। ওই এলাকায় অনেক ঘটনা ঘটেছে। কাজী আরেফ হত্যাকান্ড নিয়েও অনেক গুঞ্জন আছে। এই সরকার কিন্তু অনেক কিছু শিখিয়েছে। কি করে সাপ্লিমেন্টারি চার্জসিট দেয়া যায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য এই সরকার সেটি শিখিয়েছে। আমরা বিএনপি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী কোনো কাজ করবো না। তাহলে এর আগে আইনের আওতা থেকে বেরিয়ে গেছেন এবং সরকারের মোসাহেবি করে নোংরা-অসভ্য কথা বলে সমাজের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে গোটা দেশকে দুঃশাসনের এক ভয়ংকর রাজ্যে পরিণত করেছেন, তাদের আর ছাড় দেয়া হবে না। তারা সাপ্লিমেন্টারি চার্জসিটের মধ্যে পড়বেন।
ঈদের প্রাক্কালে কয়েকটি গুমের ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, কথা বললে পরেই গুম হয়ে যান ঈদের ৭দিন আগে ৬ জন গুম, আরো গুম হচ্ছেন। অনেক পরিবারের সদস্যরা বলছেন, আপনারা এই কথা (গুমের কথা) বইলেন না তাহলে আর পাওয়া যাবে না। আমরা (নিখোঁজ পরিবারের স্বজন) টাকা পয়সা দিয়ে উদ্ধার করার চেষ্টা করছি। এটা সরকার একটা সুযোগ দিয়েছেন, ঈদের একটা বোনাস দিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীকে। তোমরা বিরোধী দলের লোকজনকে গুম করো, ব্যবসায়ীকে গুম করো, যত পারো টাকা আদায় করো। আজকে এই অবস্থা সমাজে চলছে বলেই আজকে রূপারা হত্যা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ