ঢাকা, বৃহস্পতিবার 07 September 2017, ২৩ ভাদ্র ১৪২8, ১৫ জিলহজ্ব ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

‘ড্রিমারস’ প্রকল্প বাতিল করায় গোটা আমেরিকায় বিক্ষোভ

৬ সেপ্টেম্বর, বিবিসি : অনিবন্ধিত তরুণ অভিবাসীদের জন্য বিশেষ প্রকল্প বাতিলের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গোটা আমেরিকায় বিক্ষোভ হয়েছে। অনিবন্ধিত তরুণ অভিবাসীদের জন্য ‘ডিফারড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভাল’ বা ডিএসিএ প্রকল্প বাতিলের ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এ বিক্ষোভ হয়। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সরকার পাঁচ বছর আগে ডিএসিএ প্রকল্প অনুমোদন করেছিলেন এর আওতায় আট লাখ তরুণকে আমেরিকায় থাকার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। সাধারণভাবে এরা ‘ড্রিমারস’ নামে পরিচিত। এ প্রকল্পের আওতায় ‘ড্রিমারস’দের থাকার সুযোগ প্রদানের পাশাপাশি কাজ ও শিক্ষার সুযোগও দেয়া হয়। তরুণ এবং অনিবন্ধিত অভিবাসীদের মধ্যে যারা শৈশবে আমেরিকায় এসেছিলেন, তাদেরকেই ‘ড্রিমারস’ বলা হয়। অন্য অনিবন্ধিত অভিবাসীদের চেয়ে এদেরকে দেখা হয় বিশেষ দৃষ্টিতে। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনস গতকাল ডিসিসিএ বাতিলের ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার বিরুদ্ধে, লস অ্যাঞ্জলস, শিকাগো, ডেনভার, ফিনিক্স, ওয়াশিংটন ডিসি এবং নিউইয়র্কসহ অন্যান্য নগরীতে বিক্ষোভ হয়েছে। লস অ্যাঞ্জলসে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী এক নারী বলেন, সহিংসতার হাত থেকে রক্ষা পেতে তার পরিবার গুয়েতমালা থেকে পালিয়ে এসেছিল। সে সময় তার বয়স ছিল মাত্র ৭ বছর। এমন অনেক অভিজ্ঞতার মুখে পড়েছি তা ৭ বছরে শিশু কখনো কল্পনাও করতে পারে না। কিন্তু এখন আমি কোথায় যাবো বলে প্রশ্ন করেন তিনি। ম্যানহাটানে ট্রাম্প টাওয়ার সামনে বিক্ষোভের সময় ৩৪ ব্যক্তিকে আটক করা হয় বলে নিউ ইয়র্ক পুলিশের মুখপাত্র জানান।
সমালোচনায় ওবামা: তরুণ অনিবন্ধিত অভিবাসীদের সুরক্ষা দিতে তার আমলে নেওয়া কর্মসূচি বাতিল করায় তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
গত মঙ্গলবার ডেফারড অ্যাকশন ফর চিলড্রেন অ্যারাইভাল’ (ডিএসিএ) নামের প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত
ঘোষণা করে ট্রাম্প প্রশাসন।এর পরপরই ফেসবুকে ওবামা তার প্রতিক্রিয়া জানান বলে বিবিসির খবর। তিনি নতুন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে নিষ্ঠুর ও ভুল অ্যাখ্যা দেন।এসব তরুণকে আক্রমনের লক্ষ্যবস্তু বানানো উচিত নয়, কারণ তারা এমন কিছু করেনি যা অন্যায়।হয় আমরা সেই ধরনের মানুষ যারা আশাবাদী তরুণদের আমেরিকা থেকে বের করে দিতে চাই; কিংবা নিজের সন্তানকে যেভাবে দেখি, এসব তরুণদেরও সেভাবেই দেখতে পারি, বলেন তিনি।
পাঁচ বছর আগে ওবামার চালু করা এ প্রকল্পের আওতায় সুরক্ষা পেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া অনিবন্ধিত প্রায় আট লাখ তরুণ অভিবাসী। আইনের ফাঁক গলে মার্কিন মুলুকে যাওয়া এ তরুণদের বিতাড়নের হাত থেকে রেহাই দিয়ে সেদেশে বসবাস, পডাশোনা ও ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছিলেন ওবামা। এরাই ‘ড্রিমার’ নামে পরিচিত। সমালোচকরা এ প্রকল্পকে অবৈধ অভিবাসীদের ক্ষমা করার নামান্তর বলেই মন্তব্য করে এসেছেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে থেকেই ট্রাম্প এ প্রকল্পের বিরোধিতা করছিলেন। নির্বাচিত হওয়া মাত্রই এ প্রকল্প বাতিল করার পরিকল্পনাও জানিয়েছিলেন তিনি।তারপরও পরবর্তীতে তাকে ড্রিমারদের ছাড় দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল কংগ্রেসের স্পিকার পল রায়ানের পক্ষ থেকে। বলা হয়েছিল, “এ তরুণরা আমেরিকা ছাড়া অন্য দেশ চেনে না, তাদের বাবা-মা তাদেরকে এখানে নিয়ে এসেছে।”রায়ানের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে পরে ডেমোক্রেটরাও বলেছিল, “তারা যাতে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যেতে পারে, সেই রকম আইনই আনা উচিত। এ প্রকল্পের আওতায় যারা সুবিধা পেয়ে আসছেন আগামী ছয় মাস তাদের সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছে বিবিসি। তবে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি নতুন করে আর কোনও অনিবন্ধিত তরুন অভিবাসীর আবেদন গ্রহণ করবে না। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে নেয়া ওবামা প্রশাসনের নেওয়া এই প্রকল্পটি ছিল অসাংবিধানিক। এক টুইটে ট্রাম্প বলেছেন, ড্রিমারদের বিষয়ে আইন করতে কংগ্রেসকে ছয় মাসের সময় দেওয়া হয়েছে। ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান সিনেটররা না পারলে তিনি নিজে কর্মসূচিটি পুনরায় পর্যালোচনা করে দেখবেন।ডিএসিএ বাতিলের পর নিউ ইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে বিক্ষোভ থেকে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। যদিও কোনো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ